ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বালাসী-বাহাদুরাবাদ সেতুর দাবিতে বাবা-ছেলের দীর্ঘ পদযাত্রা মিজানের বিরুদ্ধে ঘুষ-বদলি বাণিজ্যের বিস্ফোরক অভিযোগ ঢাকাসহ সারাদেশে অভিযানে নামছে পুলিশের নতুন ‘স্পেশাল’ ইউনিট নেপালে কাদার ভেতর উদ্ধারকারীদের মরিয়া অনুসন্ধান, নিখোঁজ ৩০০০ সবজির চড়া দামে অস্বস্তিতে ক্রেতারা রাজধানীর যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ নির্দেশনা রংপুরের চক্রবর্তী পরিবারের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত ইমরান হাশমি সরকার গুম, খুন ও নির্যাতনমুক্ত দেশ গড়তে কাজ করছে : মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী রুশ ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৩৭, আহত ৪২

মিজানের বিরুদ্ধে ঘুষ-বদলি বাণিজ্যের বিস্ফোরক অভিযোগ

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে প্রশাসনিক কার্যক্রমের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট—এমন অভিযোগ করেছেন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাঁদের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অফিস সহকারী খান মিজানুল রহমান মিজান। ঘুষ গ্রহণ, বদলি বাণিজ্য, ভুয়া জোত পারমিট অনুমোদন, স’মিলের লাইসেন্স নবায়নে অনিয়ম এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকার অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন। ফলে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে।

ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, বদলি, কাঠ পরিবহন, জোত পারমিট ও স’মিল-সংক্রান্ত প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজে মিজানের অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এমনকি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও)-এর সিদ্ধান্তও নানা কৌশলে প্রভাবিত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, টানা তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করলেও নিয়মিত অফিস করেন না মিজান। প্রতি সপ্তাহে রোববার বা সোমবার ঢাকা থেকে বিমানে চট্টগ্রামে এসে অফিসে যোগ দেন এবং বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যেই আবার ঢাকায় ফিরে যান। ফলে সপ্তাহের উল্লেখযোগ্য সময় তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। তবুও তাঁর প্রভাব এতটাই বিস্তৃত যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তাঁর মতামতই কার্যকর হয় বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

বন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে নতুন কোনো বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) যোগ দিলেই মিজান বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন, ব্যক্তিগত যোগাযোগ কিংবা প্রশাসনিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাঁর আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন।

এ ক্ষেত্রে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত তাঁর স্ত্রীর ভাই এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফজলুর হক লাভলুর প্রভাবের কথাও বিভিন্ন সময় ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই প্রভাবের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই ডিএফওদের স্বাধীনভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

বদলি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। প্রচলিত বিধি অনুযায়ী, বদলি কমিটির সুপারিশ এবং ডিএফওর অনুমোদনের পর বদলির আদেশ জারি হওয়ার কথা। কিন্তু অভিযোগকারীদের দাবি, মিজানকে নির্ধারিত অর্থ না দিলে সেই আদেশ আটকে দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, দাবি অনুযায়ী অর্থ না দিলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বদলির ভয় দেখানো হয়। অনেক ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক বদলিরও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন পদে পোস্টিংয়ের জন্য নির্ধারিত ‘রেট’ রয়েছে। চেক স্টেশনে পোস্টিং পেতে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা এবং রেঞ্জ বা বিটভেদে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয় বলে অভিযোগ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ফরেস্ট গার্ড জানিয়েছেন, পছন্দের কর্মস্থলে বদলির আশ্বাস দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হলেও পরে বদলি দেওয়া হয়নি। এমনকি নেওয়া অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।

শুধু বদলি নয়, কাঠ পাচার ও কথিত ভুয়া জোত পারমিট নিয়েও মিজানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জ থেকে ইস্যু হওয়া কথিত ভুয়া জোত পারমিটের কাগজপত্র ও ছাড়পত্র কার্যত তাঁর নিয়ন্ত্রণেই পরিচালিত হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্ত, খাড়া মার্কা, পাশ মার্কা এবং ট্রানজিট পাস (টিপি) অনুমোদনের প্রতিটি ধাপেই কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি ঘনফুটে ১০ টাকা বা ক্ষেত্রবিশেষে তারও বেশি কমিশন আদায় করা হয়। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এসব কথিত ভুয়া জোত পারমিট অনুমোদনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

স’মিলের লাইসেন্স নবায়নেও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, করাতকল (লাইসেন্স) বিধিমালা, ২০১২ উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন মেয়াদোত্তীর্ণ থাকা স’মিলের লাইসেন্সও অর্থের বিনিময়ে নবায়ন করা হচ্ছে।

বিধিমালার ৬ নম্বর ধারার ১ ও ২ উপধারা অনুযায়ী, কোনো লাইসেন্সের মেয়াদ তিন মাসের বেশি অতিক্রম করলে তা নবায়নের সুযোগ থাকে না। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, দুই থেকে চার বছর পর্যন্ত মেয়াদোত্তীর্ণ থাকা স’মিলের লাইসেন্সও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নবায়ন করে দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এ কাজে কখনো রেঞ্জ কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়, কখনো কথিত ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়, আবার কখনো ডিএফওকে বিভ্রান্ত করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। নতুন স’মিলের লাইসেন্সের ক্ষেত্রেও অর্থ ছাড়া কোনো কাজ এগোয় না বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

মিজানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের দাবি, ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি ঢাকার অভিজাত এলাকায় দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস এবং তাঁর বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা।

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের ভাষ্য, একজন অফিস সহকারী হয়েও মিজান দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি অঘোষিত ক্ষমতার বলয় গড়ে তুলেছেন, যেখানে বদলি, পারমিট, লাইসেন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও তাঁর হস্তক্ষেপ ছাড়া অনেক কাজ এগোয় না।

তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা হোক। অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বালাসী-বাহাদুরাবাদ সেতুর দাবিতে বাবা-ছেলের দীর্ঘ পদযাত্রা

মিজানের বিরুদ্ধে ঘুষ-বদলি বাণিজ্যের বিস্ফোরক অভিযোগ

আপডেট সময় ০২:৩১:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে প্রশাসনিক কার্যক্রমের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট—এমন অভিযোগ করেছেন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাঁদের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অফিস সহকারী খান মিজানুল রহমান মিজান। ঘুষ গ্রহণ, বদলি বাণিজ্য, ভুয়া জোত পারমিট অনুমোদন, স’মিলের লাইসেন্স নবায়নে অনিয়ম এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকার অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন। ফলে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে।

ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, বদলি, কাঠ পরিবহন, জোত পারমিট ও স’মিল-সংক্রান্ত প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজে মিজানের অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এমনকি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও)-এর সিদ্ধান্তও নানা কৌশলে প্রভাবিত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, টানা তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করলেও নিয়মিত অফিস করেন না মিজান। প্রতি সপ্তাহে রোববার বা সোমবার ঢাকা থেকে বিমানে চট্টগ্রামে এসে অফিসে যোগ দেন এবং বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যেই আবার ঢাকায় ফিরে যান। ফলে সপ্তাহের উল্লেখযোগ্য সময় তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। তবুও তাঁর প্রভাব এতটাই বিস্তৃত যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তাঁর মতামতই কার্যকর হয় বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

বন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে নতুন কোনো বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) যোগ দিলেই মিজান বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন, ব্যক্তিগত যোগাযোগ কিংবা প্রশাসনিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাঁর আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন।

এ ক্ষেত্রে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত তাঁর স্ত্রীর ভাই এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফজলুর হক লাভলুর প্রভাবের কথাও বিভিন্ন সময় ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই প্রভাবের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই ডিএফওদের স্বাধীনভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

বদলি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। প্রচলিত বিধি অনুযায়ী, বদলি কমিটির সুপারিশ এবং ডিএফওর অনুমোদনের পর বদলির আদেশ জারি হওয়ার কথা। কিন্তু অভিযোগকারীদের দাবি, মিজানকে নির্ধারিত অর্থ না দিলে সেই আদেশ আটকে দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, দাবি অনুযায়ী অর্থ না দিলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বদলির ভয় দেখানো হয়। অনেক ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক বদলিরও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন পদে পোস্টিংয়ের জন্য নির্ধারিত ‘রেট’ রয়েছে। চেক স্টেশনে পোস্টিং পেতে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা এবং রেঞ্জ বা বিটভেদে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয় বলে অভিযোগ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ফরেস্ট গার্ড জানিয়েছেন, পছন্দের কর্মস্থলে বদলির আশ্বাস দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হলেও পরে বদলি দেওয়া হয়নি। এমনকি নেওয়া অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।

শুধু বদলি নয়, কাঠ পাচার ও কথিত ভুয়া জোত পারমিট নিয়েও মিজানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জ থেকে ইস্যু হওয়া কথিত ভুয়া জোত পারমিটের কাগজপত্র ও ছাড়পত্র কার্যত তাঁর নিয়ন্ত্রণেই পরিচালিত হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্ত, খাড়া মার্কা, পাশ মার্কা এবং ট্রানজিট পাস (টিপি) অনুমোদনের প্রতিটি ধাপেই কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি ঘনফুটে ১০ টাকা বা ক্ষেত্রবিশেষে তারও বেশি কমিশন আদায় করা হয়। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এসব কথিত ভুয়া জোত পারমিট অনুমোদনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

স’মিলের লাইসেন্স নবায়নেও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, করাতকল (লাইসেন্স) বিধিমালা, ২০১২ উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন মেয়াদোত্তীর্ণ থাকা স’মিলের লাইসেন্সও অর্থের বিনিময়ে নবায়ন করা হচ্ছে।

বিধিমালার ৬ নম্বর ধারার ১ ও ২ উপধারা অনুযায়ী, কোনো লাইসেন্সের মেয়াদ তিন মাসের বেশি অতিক্রম করলে তা নবায়নের সুযোগ থাকে না। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, দুই থেকে চার বছর পর্যন্ত মেয়াদোত্তীর্ণ থাকা স’মিলের লাইসেন্সও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নবায়ন করে দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এ কাজে কখনো রেঞ্জ কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়, কখনো কথিত ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়, আবার কখনো ডিএফওকে বিভ্রান্ত করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। নতুন স’মিলের লাইসেন্সের ক্ষেত্রেও অর্থ ছাড়া কোনো কাজ এগোয় না বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

মিজানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের দাবি, ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি ঢাকার অভিজাত এলাকায় দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস এবং তাঁর বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা।

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের ভাষ্য, একজন অফিস সহকারী হয়েও মিজান দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি অঘোষিত ক্ষমতার বলয় গড়ে তুলেছেন, যেখানে বদলি, পারমিট, লাইসেন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও তাঁর হস্তক্ষেপ ছাড়া অনেক কাজ এগোয় না।

তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা হোক। অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।