কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার পয়ালগাছা ইউনিয়নের পেড্ডা গ্রামে ড্রেজার মেশিন দিয়ে কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়ে আশপাশের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ভুক্তভোগী কৃষক ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ কৃষিজমি রক্ষায় কৃষকদের গণস্বাক্ষরসহ কৃষিমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, পয়ালগাছা ইউনিয়নের পেড্ডা গ্রামের মৃত সামছুল হকের ছেলে তাজুল ইসলাম ও একই গ্রামের মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য খলিলুর রহমানসহ কয়েকজন ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে অনুমতি ছাড়াই কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। তাদের দাবি, এতে জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি অপসারণ হওয়ায় ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, মাটি কাটার কারণে ফসলি জমির মধ্যে গভীর গর্ত তৈরি হচ্ছে। এতে পাশের জমির মাটি ধসে পড়াসহ কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ায় মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
কৃষকেরা জানান, গত ২ আগস্ট তারা বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে ১২ আগস্ট কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কাছে আরেকটি অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগের পর গত ১৭ আগস্ট সোমবার বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ড্রেজার মেশিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
অভিযানের সময় সাবেক ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলেন, তারা ড্রেজার মেশিন বন্ধ রাখবেন এবং জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে পরবর্তীতে মাটি কাটার কাজ করবেন।
তবে কৃষকদের দাবি, অভিযান শেষে পরদিন থেকেই তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ফসলি জমির মধ্যে তিনটি ড্রেজার মেশিন রয়েছে। যেকোনো সময় সেগুলো আবার চালু করে মাটি কাটা শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, কৃষিজমি রক্ষা এবং মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তারা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে কৃষিমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে দ্রুত তদন্ত করে কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধ, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষিজমি রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতার দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো চক্র যাতে কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটতে না পারে, সে বিষয়ে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও অনুরোধ জানিয়েছেন কৃষকেরা।
রোববার এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আকতার মুঠোফোনে বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ইতোমধ্যে কয়েকবার অভিযান করা হয়েছে। আপাতত ড্রেজার মেশিন বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখব।
মোঃ মাহফুজ আনোয়ার, জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা 





















