ঢাকা ১০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসা বাতিলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সরকার: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী শেখ মুজিবকে নিয়ে পোস্ট দেওয়ায় কলেজ শিক্ষক বরখাস্ত মাদক ব্যবসার অভিযোগে দারাজের বিরুদ্ধে মামলা নারকোটিক্সের সার্কে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায় বাংলাদেশ মামলা প্রত্যাহার না করলে মিলবে না নীতি সহায়তা জ্বালানি সংকট দূর করতে নেওয়া হচ্ছে তিন পরিকল্পনা: সেতুমন্ত্রী এসএসসি-এইচএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়নে আসছে নতুন নীতিমালা বড়পুকুরিয়ায় কয়লাখনির ১৬৮ শ্রমিককে পুনর্বহালের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ পেছাল প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিন্না ঘাসের ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সভা

বড়পুকুরিয়ায় কয়লাখনির ১৬৮ শ্রমিককে পুনর্বহালের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন

চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ১৬৮ জন কর্মহীন খনি শ্রমিক লাগাতার বিক্ষোভ, মিছিল, সমাবেশ ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলন সোমবারও অব্যাহত ছিল।

সোমবার দুপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চাকরি হারানো শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও অবস্থান ধর্মঘট করছেন। বিকেল ৪টার দিকে আন্দোলনরত শ্রমিকরা সাংবাদিকদের জানান, অবিলম্বে তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, প্রায় আট বছর আগে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে ভূগর্ভে কয়লা উত্তোলনের প্রস্তুতি হিসেবে টানেল বা সুড়ঙ্গ নির্মাণকাজের জন্য খনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সিএমসি-এক্সএমসি’ কনসোর্টিয়াম তাদের খনি শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেয়।
শ্রমিকদের দাবি, ২০২২ সালে পেট্রোবাংলার সঙ্গে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সিএমসি-এক্সএমসি’র ২০২৭ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি নতুন চুক্তি হয়। ওই চুক্তির পর মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাব-কন্ট্রাক্টর ‘জেএসএমই’ ১৬৮ জন শ্রমিকসহ বিপুলসংখ্যক শ্রমিককে ভূগর্ভস্থ টানেল নির্মাণকাজে নিয়োজিত করে।
শ্রমিকরা আরও দাবি করেন, ওই সময় নিয়োগ পাওয়া ১ হাজার ১৪৩ জন শ্রমিকই মূলত চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সিএমসি-এক্সএমসি’র অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। পরবর্তীতে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী ভূগর্ভস্থ টানেল নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে টানেল নির্মাণকাজে নিয়োজিত এসব শ্রমিকের আর প্রয়োজন নেই—এমন কারণ দেখিয়ে তাদের কাজে যোগদানে বাধা দেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার সকালে কাজে যোগ দিতে গেলে ১৬৮ জন শ্রমিককে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেন শ্রমিকরা।
এদিকে শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকায় উত্তেজনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে খনি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যদের সার্বক্ষণিক টহল দিতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, কর্মহীন শ্রমিকরা মূল ঠিকাদারি চীনা প্রতিষ্ঠান ‘সিএমসি-এক্সএমসি’র সাব-কন্ট্রাক্টর ‘জেএসএমই’র নিয়োগকৃত। তাদের বিষয়ে খনি কর্তৃপক্ষের সরাসরি করার তেমন কিছু নেই। তবে বিভিন্ন সময়ে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে খনি কর্তৃপক্ষ সহানুভূতিশীল ছিল এবং শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতেও উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।

শ্রমিকরা দ্রুত তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় আন্দোলন আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসা বাতিলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সরকার: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

বড়পুকুরিয়ায় কয়লাখনির ১৬৮ শ্রমিককে পুনর্বহালের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন

আপডেট সময় ০৮:২০:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ১৬৮ জন কর্মহীন খনি শ্রমিক লাগাতার বিক্ষোভ, মিছিল, সমাবেশ ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলন সোমবারও অব্যাহত ছিল।

সোমবার দুপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চাকরি হারানো শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও অবস্থান ধর্মঘট করছেন। বিকেল ৪টার দিকে আন্দোলনরত শ্রমিকরা সাংবাদিকদের জানান, অবিলম্বে তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, প্রায় আট বছর আগে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে ভূগর্ভে কয়লা উত্তোলনের প্রস্তুতি হিসেবে টানেল বা সুড়ঙ্গ নির্মাণকাজের জন্য খনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সিএমসি-এক্সএমসি’ কনসোর্টিয়াম তাদের খনি শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেয়।
শ্রমিকদের দাবি, ২০২২ সালে পেট্রোবাংলার সঙ্গে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সিএমসি-এক্সএমসি’র ২০২৭ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি নতুন চুক্তি হয়। ওই চুক্তির পর মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাব-কন্ট্রাক্টর ‘জেএসএমই’ ১৬৮ জন শ্রমিকসহ বিপুলসংখ্যক শ্রমিককে ভূগর্ভস্থ টানেল নির্মাণকাজে নিয়োজিত করে।
শ্রমিকরা আরও দাবি করেন, ওই সময় নিয়োগ পাওয়া ১ হাজার ১৪৩ জন শ্রমিকই মূলত চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সিএমসি-এক্সএমসি’র অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। পরবর্তীতে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী ভূগর্ভস্থ টানেল নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে টানেল নির্মাণকাজে নিয়োজিত এসব শ্রমিকের আর প্রয়োজন নেই—এমন কারণ দেখিয়ে তাদের কাজে যোগদানে বাধা দেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার সকালে কাজে যোগ দিতে গেলে ১৬৮ জন শ্রমিককে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেন শ্রমিকরা।
এদিকে শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকায় উত্তেজনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে খনি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যদের সার্বক্ষণিক টহল দিতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, কর্মহীন শ্রমিকরা মূল ঠিকাদারি চীনা প্রতিষ্ঠান ‘সিএমসি-এক্সএমসি’র সাব-কন্ট্রাক্টর ‘জেএসএমই’র নিয়োগকৃত। তাদের বিষয়ে খনি কর্তৃপক্ষের সরাসরি করার তেমন কিছু নেই। তবে বিভিন্ন সময়ে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে খনি কর্তৃপক্ষ সহানুভূতিশীল ছিল এবং শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতেও উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।

শ্রমিকরা দ্রুত তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় আন্দোলন আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।