ঢাকা ০৪:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রাডো গাড়িতে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২ যুবক তিস্তা নিয়ে বিগত সরকার কোনো উদ্যোগ নেয়নি : পানিসম্পদমন্ত্রী আল্লাহর ওপর ভরসা করি, কোনো চালাকির কাছে নয়: ট্রাইব্যুনালে পলক ঢাকা শিক্ষা বোর্ড নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পবিপ্রবিতে ৬ স্থাপনার উদ্বোধন করলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. এস.এম. হেমায়েত জাহান নির্বাচনের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে : মাহদী আমিন অবশেষে পে স্কেল নিয়ে সুখবর দিলেন অর্থমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সময় লাগবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নীলফামারী কিশোরগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত বৃদ্ধের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মামলার রায় যেকোনো দিন

সার নিতে এসে দিন শেষ, রংপুরে খোলা বাজারে সার সরবরাহের দাবি

রংপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলার পয়েন্টে সারের জন্য কৃষকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত সার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষকেরা। তাঁদের দাবি, আমন মৌসুমে সারের চাহিদা বেড়েছে। তাই ডিলারনির্ভর সরবরাহের পাশাপাশি খোলা বাজারে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে কৃষকেরা তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী সার কিনতে পারবেন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের মিলেরপাড় এলাকার মেসার্স আর অ্যান্ড আর ট্রেডার্সের সার বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে শত শত কৃষকের ভিড় ও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার চিত্র দেখা যায়। সার না পেয়ে অনেক কৃষককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
মঠুকপুর এলাকার কৃষক রাজা মিয়া বলেন,তিন দিন আগে আইডি কার্ড জমা দিয়ে গেছি। কিন্তু আজও সার পাইনি। কেন এমন হচ্ছে, জানি না। সরকার বাজারে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করে খোলা বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা করলে আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী সার কিনে ব্যবহার করতে পারতাম।
মমিনপুরের এক নারী কৃষক বলেন,আমার স্বামী অসুস্থ। তাঁর পরিবর্তে আমি সার নিতে এসেছি। এখানে এসে দেখি অনেক ভিড়। আমি কীভাবে সার পাব, বুঝতে পারছি না। খোলা বাজারে সার দেওয়া হলে প্রয়োজন অনুযায়ী কিনতে পারতাম।
আরেক কৃষক রেকাউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘ডিলারের মাধ্যমে সার দেওয়ার কারণে যে পরিমাণ সার থাকে, তার তুলনায় সাধারণ কৃষকের হাতে কম সার পৌঁছায়। আমি একজন খেটে খাওয়া মানুষ। সার নিতে এসে দিনের বেশির ভাগ সময় চলে যায়। সরকার যদি খোলা বাজারে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করত, তাহলে আমাদের এত ভোগান্তি হতো না।
কৃষকেরা বলেন, উত্তরাঞ্চলে বর্তমানে আমন মৌসুম চলছে। এ সময়ে ধানের জমিতে সারের প্রয়োজনীয়তা বেশি। তাই দ্রুত পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত না করা হলে কৃষকেরা সমস্যায় পড়তে পারেন।
এ বিষয়ে মেসার্স আর অ্যান্ড আর ট্রেডার্সের ডিলার বলেন,আমরা যে পরিমাণ সার পাই, তা আইডি কার্ড যাচাই করে প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করছি। সোমবার আমাদের কাছে মাত্র ১৭৯ বস্তা টিএসপি ছিল। কিন্তু সাধারণ কৃষকদের মধ্যে টিএসপির চাহিদা বেশি। বর্তমানে আমন মৌসুম চলায় সারের চাহিদাও বেড়েছে। বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। যে পরিমাণ সার পাব, তা নিয়ম অনুযায়ী প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে সরবরাহ করা হবে।
কৃষকদের দাবি, আমন মৌসুমে সারের সংকট নিরসনে দ্রুত সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি খোলা বাজারে পর্যাপ্ত সার বিক্রির ব্যবস্থা করা হোক।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাডো গাড়িতে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২ যুবক

সার নিতে এসে দিন শেষ, রংপুরে খোলা বাজারে সার সরবরাহের দাবি

আপডেট সময় ০২:৩৮:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

রংপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলার পয়েন্টে সারের জন্য কৃষকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত সার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষকেরা। তাঁদের দাবি, আমন মৌসুমে সারের চাহিদা বেড়েছে। তাই ডিলারনির্ভর সরবরাহের পাশাপাশি খোলা বাজারে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে কৃষকেরা তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী সার কিনতে পারবেন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের মিলেরপাড় এলাকার মেসার্স আর অ্যান্ড আর ট্রেডার্সের সার বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে শত শত কৃষকের ভিড় ও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার চিত্র দেখা যায়। সার না পেয়ে অনেক কৃষককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
মঠুকপুর এলাকার কৃষক রাজা মিয়া বলেন,তিন দিন আগে আইডি কার্ড জমা দিয়ে গেছি। কিন্তু আজও সার পাইনি। কেন এমন হচ্ছে, জানি না। সরকার বাজারে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করে খোলা বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা করলে আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী সার কিনে ব্যবহার করতে পারতাম।
মমিনপুরের এক নারী কৃষক বলেন,আমার স্বামী অসুস্থ। তাঁর পরিবর্তে আমি সার নিতে এসেছি। এখানে এসে দেখি অনেক ভিড়। আমি কীভাবে সার পাব, বুঝতে পারছি না। খোলা বাজারে সার দেওয়া হলে প্রয়োজন অনুযায়ী কিনতে পারতাম।
আরেক কৃষক রেকাউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘ডিলারের মাধ্যমে সার দেওয়ার কারণে যে পরিমাণ সার থাকে, তার তুলনায় সাধারণ কৃষকের হাতে কম সার পৌঁছায়। আমি একজন খেটে খাওয়া মানুষ। সার নিতে এসে দিনের বেশির ভাগ সময় চলে যায়। সরকার যদি খোলা বাজারে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করত, তাহলে আমাদের এত ভোগান্তি হতো না।
কৃষকেরা বলেন, উত্তরাঞ্চলে বর্তমানে আমন মৌসুম চলছে। এ সময়ে ধানের জমিতে সারের প্রয়োজনীয়তা বেশি। তাই দ্রুত পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত না করা হলে কৃষকেরা সমস্যায় পড়তে পারেন।
এ বিষয়ে মেসার্স আর অ্যান্ড আর ট্রেডার্সের ডিলার বলেন,আমরা যে পরিমাণ সার পাই, তা আইডি কার্ড যাচাই করে প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করছি। সোমবার আমাদের কাছে মাত্র ১৭৯ বস্তা টিএসপি ছিল। কিন্তু সাধারণ কৃষকদের মধ্যে টিএসপির চাহিদা বেশি। বর্তমানে আমন মৌসুম চলায় সারের চাহিদাও বেড়েছে। বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। যে পরিমাণ সার পাব, তা নিয়ম অনুযায়ী প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে সরবরাহ করা হবে।
কৃষকদের দাবি, আমন মৌসুমে সারের সংকট নিরসনে দ্রুত সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি খোলা বাজারে পর্যাপ্ত সার বিক্রির ব্যবস্থা করা হোক।