ঢাকা ০৩:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রেমের বিচ্ছেদ সহ্য করতে না পেরে প্রেমিকাসহ ৪ জনকে হত্যা! ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে টাইগারদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জামায়াত আমির বাংলাদেশকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা আত্রাইয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠিত ৭ ইসলামি সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক: ৫ শর্তে কুমিল্লা বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন পটুয়াখালী শোভাযাত্রা ও মাছের পোনা অবমুক্তের মাধ্যমে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন তীব্র গ্যাস সংকটে কুমিল্লা, সিএনজি পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা ত্রাণের বিস্কুট ও জাহাজের তেল চুরির অভিযোগেও বহাল তবিয়তে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মিজানুর

সাতক্ষীরা সদর ভূমি অফিসে সিঁড়ির নিচে পিয়ন শফির ‘ঘুষের হাট’, ৬ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ

টাকা দিলেই অসম্ভবকে সম্ভব করেন সাতক্ষীরা সদর ভূমি অফিসের পিয়ন শফিউর রহমান শফি। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) শর্মিষ্ঠা সরকারকে জিম্মি করে নামজারি ও খাজনা দাখিলার রিপোর্ট জালিয়াতি, এমনকি জাল দলিলের মাধ্যমে জমি নামজারি করানোর এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন তিনি। গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে ২ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে দুটি সম্পূর্ণ জাল দলিলের বিপরীতে নামজারি অনুমোদন করানোর তথ্য অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। জাল দলিল চক্রের সদস্য ধুলিহরের কালাম ও দেবহাটার করিম মুহুরীকে নিয়ে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেটের অবাধ বাণিজ্যে অতিষ্ঠ স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকারের ব্যক্তিগত ও গোপনীয় তথ্য জেনে ফেলার পর তাকে ব্ল্যাকমেইল করে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন পিয়ন শফি। চুক্তির দুই লাখ টাকা ঘুষের মধ্যে নায়েব শর্মিষ্ঠা পান ১ লাখ টাকা এবং বাকি ১ লাখ টাকা নেয় শফির সিন্ডিকেট। সম্প্রতি একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, সদর ভূমি অফিসের সিঁড়ির নিচে বসে প্রকাশ্য ঘুষের টাকা গুনছেন শফি।
জাল দলিল দিয়ে করা নামজারির বিষয়ে সাতক্ষীরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে খোঁজ নিলে বালাম বইয়ের তথ্যের সঙ্গে কোনো মিল পাওয়া যায়নি। উল্টো সংশ্লিষ্ট দলিল নম্বরের বালাম বইয়ের পৃষ্ঠা ছেঁড়া পাওয়া গেছে।
বেতন ১৬ হাজার, সম্পদ ৬ কোটি: রাজকীয় জীবনযাপন
১৬-১৭ হাজার টাকা স্কেলের একজন সরকারি পিয়নের দৃশ্যমান স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা। ঢাকার একটি নামি প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছেলের পড়াশোনা ও ফ্ল্যাট ভাড়ার জন্য শফি প্রতি মাসে গুনছেন ৫০ হাজার টাকা, যা তার মূল বেতনের প্রায় তিন গুণ।
আলিশান বাড়ি: সাতক্ষীরা শহরের পারকুকরালীতে ৩টি এসি লাগানো চোখধাঁধানো ২ তলা বাড়ি।
জমি ও প্লট: সাতক্ষীরা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে কয়েক একর কৃষি জমি এবং খুলনায় শ্বশুরবাড়ি এলাকায় কোটি টাকার প্লট।
অন্যান্য খরচ: সম্প্রতি ৭ লাখ টাকা দেনমোহর পরিশোধ করে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেওয়া।
[পিয়ন শফিউর রহমান শফি]

├── জাল দলিল ও নামজারি সিন্ডিকেট (দালাল কালাম ও করিম মুহুরী)
├── কর্মকর্তা নিয়ন্ত্রণ (নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকারকে ব্লাকমেইল/ঘুষ প্রদান)
└── অবৈধ সম্পদের পাহাড় (৩টি এসি যুক্ত বাড়ি, কৃষি জমি ও প্লট)

ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ ও প্রশাসনের প্রতি পিয়নের চ্যালেঞ্জ
সাধারণ মানুষ সরাসরি আবেদন করলে বা ঘুষ না দিলে ফাইল আটকে রাখা কিংবা সার্ভার থেকে বাতিল করে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী আমীন রহমান ও আবুল হোসেন জানান, নায়েব শর্মিষ্ঠার নাম ভাঙিয়ে শফি ফাইলপ্রতি হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।
ধারাবাহিক অনিয়মের পরও কোনো শাস্তি না হওয়ায় শফি দম্ভোক্তি করে বলেন, “খুলনা বিভাগীয় কমিশনার অফিসে আমার শক্তিশালী হাত রয়েছে। ৩ লাখ টাকা খরচ করে এখানে এসেছি, খোদ এসিল্যান্ডের ক্ষমতা নেই আমাকে সরানোর।” তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে শফি দাবি করেন, সম্পদের টাকা তার বৈধ আয়ের এবং কাজের সিংহভাগ টাকা নায়েব শর্মিষ্ঠা নিজেই নিতেন।
সাতক্ষীরা সদর ভূমি অফিসের ১৬ হাজার টাকা বেতনের পিয়ন শফিউর রহমান শফি কর্মকর্তা ও দালালদের সঙ্গে যোগসাজশে জাল দলিল তৈরি, ঘুষ গ্রহণ ও অবৈধ নামজারি বাণিজ্যের মাধ্যমে ৬ কোটি টাকার অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। কার্যালয়ের সিঁড়ির নিচে বসে প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণ এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তোয়াক্কা না করে দুর্নীতি চালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও সেবাগ্রহীতারা তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সাতক্ষীরা সদর ভূমি অফিসে সিঁড়ির নিচে পিয়ন শফির ‘ঘুষের হাট’, ৬ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ

আপডেট সময় ০১:৫৩:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

টাকা দিলেই অসম্ভবকে সম্ভব করেন সাতক্ষীরা সদর ভূমি অফিসের পিয়ন শফিউর রহমান শফি। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) শর্মিষ্ঠা সরকারকে জিম্মি করে নামজারি ও খাজনা দাখিলার রিপোর্ট জালিয়াতি, এমনকি জাল দলিলের মাধ্যমে জমি নামজারি করানোর এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন তিনি। গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে ২ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে দুটি সম্পূর্ণ জাল দলিলের বিপরীতে নামজারি অনুমোদন করানোর তথ্য অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। জাল দলিল চক্রের সদস্য ধুলিহরের কালাম ও দেবহাটার করিম মুহুরীকে নিয়ে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেটের অবাধ বাণিজ্যে অতিষ্ঠ স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকারের ব্যক্তিগত ও গোপনীয় তথ্য জেনে ফেলার পর তাকে ব্ল্যাকমেইল করে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন পিয়ন শফি। চুক্তির দুই লাখ টাকা ঘুষের মধ্যে নায়েব শর্মিষ্ঠা পান ১ লাখ টাকা এবং বাকি ১ লাখ টাকা নেয় শফির সিন্ডিকেট। সম্প্রতি একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, সদর ভূমি অফিসের সিঁড়ির নিচে বসে প্রকাশ্য ঘুষের টাকা গুনছেন শফি।
জাল দলিল দিয়ে করা নামজারির বিষয়ে সাতক্ষীরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে খোঁজ নিলে বালাম বইয়ের তথ্যের সঙ্গে কোনো মিল পাওয়া যায়নি। উল্টো সংশ্লিষ্ট দলিল নম্বরের বালাম বইয়ের পৃষ্ঠা ছেঁড়া পাওয়া গেছে।
বেতন ১৬ হাজার, সম্পদ ৬ কোটি: রাজকীয় জীবনযাপন
১৬-১৭ হাজার টাকা স্কেলের একজন সরকারি পিয়নের দৃশ্যমান স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা। ঢাকার একটি নামি প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছেলের পড়াশোনা ও ফ্ল্যাট ভাড়ার জন্য শফি প্রতি মাসে গুনছেন ৫০ হাজার টাকা, যা তার মূল বেতনের প্রায় তিন গুণ।
আলিশান বাড়ি: সাতক্ষীরা শহরের পারকুকরালীতে ৩টি এসি লাগানো চোখধাঁধানো ২ তলা বাড়ি।
জমি ও প্লট: সাতক্ষীরা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে কয়েক একর কৃষি জমি এবং খুলনায় শ্বশুরবাড়ি এলাকায় কোটি টাকার প্লট।
অন্যান্য খরচ: সম্প্রতি ৭ লাখ টাকা দেনমোহর পরিশোধ করে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেওয়া।
[পিয়ন শফিউর রহমান শফি]

├── জাল দলিল ও নামজারি সিন্ডিকেট (দালাল কালাম ও করিম মুহুরী)
├── কর্মকর্তা নিয়ন্ত্রণ (নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকারকে ব্লাকমেইল/ঘুষ প্রদান)
└── অবৈধ সম্পদের পাহাড় (৩টি এসি যুক্ত বাড়ি, কৃষি জমি ও প্লট)

ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ ও প্রশাসনের প্রতি পিয়নের চ্যালেঞ্জ
সাধারণ মানুষ সরাসরি আবেদন করলে বা ঘুষ না দিলে ফাইল আটকে রাখা কিংবা সার্ভার থেকে বাতিল করে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী আমীন রহমান ও আবুল হোসেন জানান, নায়েব শর্মিষ্ঠার নাম ভাঙিয়ে শফি ফাইলপ্রতি হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।
ধারাবাহিক অনিয়মের পরও কোনো শাস্তি না হওয়ায় শফি দম্ভোক্তি করে বলেন, “খুলনা বিভাগীয় কমিশনার অফিসে আমার শক্তিশালী হাত রয়েছে। ৩ লাখ টাকা খরচ করে এখানে এসেছি, খোদ এসিল্যান্ডের ক্ষমতা নেই আমাকে সরানোর।” তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে শফি দাবি করেন, সম্পদের টাকা তার বৈধ আয়ের এবং কাজের সিংহভাগ টাকা নায়েব শর্মিষ্ঠা নিজেই নিতেন।
সাতক্ষীরা সদর ভূমি অফিসের ১৬ হাজার টাকা বেতনের পিয়ন শফিউর রহমান শফি কর্মকর্তা ও দালালদের সঙ্গে যোগসাজশে জাল দলিল তৈরি, ঘুষ গ্রহণ ও অবৈধ নামজারি বাণিজ্যের মাধ্যমে ৬ কোটি টাকার অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। কার্যালয়ের সিঁড়ির নিচে বসে প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণ এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তোয়াক্কা না করে দুর্নীতি চালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও সেবাগ্রহীতারা তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।