শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ পেতে শুরু করেছেন বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রায় দুই হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের ৭০ হাজার ১৯ জন শিক্ষককে অবসর ভাতা এবং ৫৩ হাজার শিক্ষককে কল্যাণ ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের সুবিধার অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুই হাজার ১০০ কোটি টাকা দিয়ে দেশের ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষককে অবসর ও কল্যাণ ভাতা দেওয়া হচ্ছে। আজকের দিনটি জাতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। দেশমাতার জন্মদিনে শিক্ষকদের অশ্রু মুছতে যাচ্ছি—এটি আমাদের জন্যও আনন্দের বিষয়।
তিনি বলেন, সারাদেশে ৭০ হাজার ১৯ জন শিক্ষককে অবসর ভাতা এবং ৫৩ হাজার শিক্ষককে কল্যাণ ভাতা দেওয়া হচ্ছে। কল্যাণ ট্রাস্টের আওতায় সর্বোচ্চ ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত ভাতা দেওয়া হবে।
তবে শিক্ষকদের বকেয়া অর্থের পুরোটা একসঙ্গে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন কথা লিখছেন। পর্যায়ক্রমে বাকি অর্থ পরিশোধ করা হবে।
অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ সংকটের পেছনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিগত সরকার এই খাত থেকে প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা অর্থের একটি অংশ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনাও কম। তবে সরকারি ব্যাংকে থাকা কিছু অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষকরা ছয় শতাংশ ও চার শতাংশ অনুদান দিয়ে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বন্ডসহ ট্রাস্টের প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকার বন্ড সম্পদ রয়েছে।
এসব সম্পদ থেকে পাওয়া আয় কাজে লাগিয়ে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের সুবিধাভোগীদের বাকি অর্থ পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে।
তিনি বলেন, এক লাখ ২৩ হাজার সুবিধাভোগীকে নিয়ে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের যে যাত্রা শুরু হলো, আগামী বছর থেকে ক্রমান্বয়ে শিক্ষকদের বাকি পাওনাও পরিশোধ করা হবে।
বেসরকারি শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা শিক্ষকদের অবসরের পর সামান্য কিছু উপহার দিয়ে বিদায় দেওয়া যথেষ্ট নয়—এই উপলব্ধি থেকেই উদ্যোগটির শুরু। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। প্রথমে ১৪ কোটি এবং পরে ৮৯ কোটি টাকা দিয়ে কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বেসরকারি শিক্ষকদের বেতনের ৫০ শতাংশ দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়ার ধারাও তখন শুরু হয়েছিল। ভবিষ্যতেও শিক্ষকদের সম্মান ও কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে। বেসরকারি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের পাওনা পরিশোধের পাশাপাশি তাঁদের মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতেও সরকার কাজ করবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















