ঢাকা ০৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি সরকারের অধীনে স্বজনপ্রীতিভিত্তিক কোনো ব্যবসা করতে দেবো না : অর্থমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে: চিফ হুইপ শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের মামলায় পেছাল সাক্ষ্যগ্রহণ খাবারের ট্রাকে লুকিয়ে সামরিক বিমানে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সারা দেশে মাটি পরীক্ষা চলছে : কৃষিমন্ত্রী পলাশের আনারস স্বাদে অতুলনীয়, বাড়ছে চাহিদা স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে দুই মেয়েকে হত্যা করলেন বাবা! জাপানি প্রধানমন্ত্রীর উপহারের মন্তব্যে বিপাকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে সুইডেনের সহায়তা চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘সব জায়গায় বসে থাকবে আর খালি আগুন দিবে’, কাদেরকে শেখ হাসিনা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে পঞ্চম দিনের মতো আজ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে প্রসিকিউশন।

মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

শুনানিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে ওবায়দুল কাদের ও তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের একটি ফোনালাপ বাজিয়ে শোনানোর কথা রয়েছে।

ওবায়দুল কাদেরসহ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

ফোনকলে হাছান মাহমুদ বলেন: জি আপা, আসসালামু আলাইকুম।
শেখ হাসিনা: ফোন করছিলে।

হাছান মাহমুদ: না না তখন চাপ পড়ে গেছিল, সরি।
শেখ হাসিনা: ও হো।

হাছান মাহমুদ: কাদের ভাই রেখেছিল । তখন আবার চাপ পড়ে গেছিল। সরি।
শেখ হাসিনা : ওরা কিন্তু সব ওই জায়গায় আবার তৈরি হচ্ছে, শুধু আগুন দিয়ে পুড়াবে সব।

হাছান মাহমুদ: হ্যাঁ হ্যাঁ।
শেখ হাসিনা: বুঝছো?

হাছান মাহমুদ: জি আপা, আপনি কাদের ভাইকে যেভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন……
শেখ হাসিনা : না, আমাদের লোক থাকতে বলো…। ওরা আগুন দিয়ে পুড়াবে তো, তাদের বাড়ি-গাড়ি আছে, এখন সেগুলো পাবলিক দিয়ে পুড়াবে আর কী করবে।

হাছান মাহমুদ: জ্বি, জ্বি।
শেখ হাসিনা : আমাদের অন্য কিছু করে লাভ নাই। তোরাও পুড়াবি আয়, আমরাও পুড়াব।

হাছান মাহমুদ: জ্বি জ্বি রাইট, এইটাই টিট ফর ট্যাট। জ্বি আপা। কাদের ভাই আছে । জাস্ট একটা গায়েবানা জানাজা পড়ে আমরা চলে আসব, যেহেতু প্রেগ্রাম দিয়ে দেওয়া হইছে।…যার যার গন্তব্যে মহল্লায় মহল্লায় চলে যাব।
শেখ হাসিনা: না, যার যার এলাকায়।

হাছান মাহমুদ: জ্বি জ্বি রাইট। যার যার এলাকায়।
শেখ হাসিনা: বিভিন্ন এলাকায় লোক ঠিক করো…সব নেতা-কর্মীদের এইভাবে ব্যবস্থা কর।

হাছান মাহমুদ: কাদের ভাইকে একটু দিচ্ছি।
শেখ হাসিনা: প্রত্যেকটা এমপিকে ডাক, খবর দাও। প্রত্যেক এলাকায় যার যার প্রটেকশন দিতে হবে।

ওবায়দুল কাদের: জ্বি, জ্বি।
শেখ হাসিনা: না, ওই যে তোমার সেতু ভবনে আবার আগুন লাগাচ্ছে। আমি র‌্যাব পাঠাচ্ছি আর আমি বলছি যে, যেখানে যেখানে গ্যাদারিং আছে, সব জায়গায় র‌্যাব….। আর ওরা আগুন দিচ্ছে, ওদের বাড়িঘর আছে না, এখন আর বসে থাকার সময় নাই। আমাদেরও বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে, ওদের বাড়িঘরে আগুন পাবলিক দিবে। ওদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কী কী আছে খুঁজে বের করো। আজকে তাদের একটাই কাজ, সব জায়গায় বসে থাকবে আর খালি আগুন দিবে…।’
ওবায়দুল কাদের: সেটাই, পুলিশ কমিশনার সে কথাই বলল। জ্বি, আমাদের তো ঠেকাইতে হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি সরকারের অধীনে স্বজনপ্রীতিভিত্তিক কোনো ব্যবসা করতে দেবো না : অর্থমন্ত্রী

‘সব জায়গায় বসে থাকবে আর খালি আগুন দিবে’, কাদেরকে শেখ হাসিনা

আপডেট সময় ০৩:১৩:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে পঞ্চম দিনের মতো আজ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে প্রসিকিউশন।

মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

শুনানিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে ওবায়দুল কাদের ও তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের একটি ফোনালাপ বাজিয়ে শোনানোর কথা রয়েছে।

ওবায়দুল কাদেরসহ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

ফোনকলে হাছান মাহমুদ বলেন: জি আপা, আসসালামু আলাইকুম।
শেখ হাসিনা: ফোন করছিলে।

হাছান মাহমুদ: না না তখন চাপ পড়ে গেছিল, সরি।
শেখ হাসিনা: ও হো।

হাছান মাহমুদ: কাদের ভাই রেখেছিল । তখন আবার চাপ পড়ে গেছিল। সরি।
শেখ হাসিনা : ওরা কিন্তু সব ওই জায়গায় আবার তৈরি হচ্ছে, শুধু আগুন দিয়ে পুড়াবে সব।

হাছান মাহমুদ: হ্যাঁ হ্যাঁ।
শেখ হাসিনা: বুঝছো?

হাছান মাহমুদ: জি আপা, আপনি কাদের ভাইকে যেভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন……
শেখ হাসিনা : না, আমাদের লোক থাকতে বলো…। ওরা আগুন দিয়ে পুড়াবে তো, তাদের বাড়ি-গাড়ি আছে, এখন সেগুলো পাবলিক দিয়ে পুড়াবে আর কী করবে।

হাছান মাহমুদ: জ্বি, জ্বি।
শেখ হাসিনা : আমাদের অন্য কিছু করে লাভ নাই। তোরাও পুড়াবি আয়, আমরাও পুড়াব।

হাছান মাহমুদ: জ্বি জ্বি রাইট, এইটাই টিট ফর ট্যাট। জ্বি আপা। কাদের ভাই আছে । জাস্ট একটা গায়েবানা জানাজা পড়ে আমরা চলে আসব, যেহেতু প্রেগ্রাম দিয়ে দেওয়া হইছে।…যার যার গন্তব্যে মহল্লায় মহল্লায় চলে যাব।
শেখ হাসিনা: না, যার যার এলাকায়।

হাছান মাহমুদ: জ্বি জ্বি রাইট। যার যার এলাকায়।
শেখ হাসিনা: বিভিন্ন এলাকায় লোক ঠিক করো…সব নেতা-কর্মীদের এইভাবে ব্যবস্থা কর।

হাছান মাহমুদ: কাদের ভাইকে একটু দিচ্ছি।
শেখ হাসিনা: প্রত্যেকটা এমপিকে ডাক, খবর দাও। প্রত্যেক এলাকায় যার যার প্রটেকশন দিতে হবে।

ওবায়দুল কাদের: জ্বি, জ্বি।
শেখ হাসিনা: না, ওই যে তোমার সেতু ভবনে আবার আগুন লাগাচ্ছে। আমি র‌্যাব পাঠাচ্ছি আর আমি বলছি যে, যেখানে যেখানে গ্যাদারিং আছে, সব জায়গায় র‌্যাব….। আর ওরা আগুন দিচ্ছে, ওদের বাড়িঘর আছে না, এখন আর বসে থাকার সময় নাই। আমাদেরও বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে, ওদের বাড়িঘরে আগুন পাবলিক দিবে। ওদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কী কী আছে খুঁজে বের করো। আজকে তাদের একটাই কাজ, সব জায়গায় বসে থাকবে আর খালি আগুন দিবে…।’
ওবায়দুল কাদের: সেটাই, পুলিশ কমিশনার সে কথাই বলল। জ্বি, আমাদের তো ঠেকাইতে হবে।