ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাপানি প্রধানমন্ত্রীর উপহারের মন্তব্যে বিপাকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে সুইডেনের সহায়তা চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পঞ্চগড়ে এসজিপিটি পরীক্ষায় সরকারী হাসপাতাল-প্রাইভেট ডায়াগনেস্টিক রিপোর্টে ব্যাপক গড়মিল রাষ্ট্রপতি পদে এখনও ঠিক হয়নি বিএনপি প্রার্থী: চিফ হুইপ ‘সব জায়গায় বসে থাকবে আর খালি আগুন দিবে’, কাদেরকে শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ছোট করার চেষ্টা করছে স্বাধীনতাবিরোধীরা: রিজভী ইউক্রেনজুড়ে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৯ আত্রাইয়ে ১৩ প্রাণের শোকে স্তব্ধ পরিবারগুলো এখনো কান্না থামছে না স্বজনদের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি সম্প্রসারণের আগে কৃষিজমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ প্রশাসন ও কোস্টগার্ডের অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি সম্প্রসারণের আগে কৃষিজমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উত্তর দিকে হামিদপুর ইউনিয়নের বাঁশপুকুর, কাজীপাড়া ও চৌহাটি গ্রামে কৃষিজমির মাঝখানে সারি সারি বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। দূর থেকে দেখলে আবাসিক এলাকা মনে হলেও অধিকাংশ ভবনই জনশূন্য ও তালাবদ্ধ। নেই বিদ্যুৎ সংযোগ কিংবা যাতায়াতের উপযোগী রাস্তা। এর মধ্যেও নতুন ভবন নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি সম্প্রসারণের জন্য জমি অধিগ্রহণ হলে বেশি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় কৃষিজমি ভরাট করে অনুমোদন ছাড়াই বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। বিল্ডিং কোড, নকশা অনুমোদন ও নিরাপত্তাবিধি না মেনে তিন-চারতলা বিশিষ্ট দুই শতাধিক ভবন নির্মিত হয়েছে বলে এলাকাবাসীর দাবি।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব ভবনের অধিকাংশেরই পার্বতীপুর উপজেলা ইমারত ভবন নকশা কমিটি ও হামিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের অনুমোদন নেই। উপজেলা ইমারত ভবন নকশা কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, এ ধরনের ভবন নির্মাণের বিষয়ে তারা অবগত নন।১৯৮৫ সালে বড়পুকুরিয়ায় কয়লা খনি আবিষ্কারের পর এ পর্যন্ত ৭৯২ দশমিক ৭৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। খনি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে আরও জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্তের পর থেকেই উত্তরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে ভবন নির্মাণ বেড়ে যায় বলে স্থানীয়দের দাবি।সম্প্রতি জেলা প্রশাসন ও খনি কর্তৃপক্ষ এলাকা পরিদর্শনে গেলে ড্রোনে ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পার্বতীপুর উপজেলা প্রশাসনের দাবি, জরিপে খনির ২২ কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভবনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
হামিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান রেজওয়ানুল হক বলেন, বাঁশপুকুর ও কাজীপাড়ায় প্রায় ১৫০টি এবং চৌহাটিতে প্রায় ৫০টি ভবন নির্মাণ হয়েছে। মাত্র ৪০-৫০টির হোল্ডিং রয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে এ ধরনের নির্মাণকাজ চলছে।
হামিদপুর ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জাহেদুজ্জামান বলেন, ইউনিয়নের ২৮টি মৌজায় ৯ হাজার ৫০২ একর কৃষিজমি রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৩ একর অকৃষি জমি। বহুতল ভবন নির্মাণের ফলে কৃষিজমি দ্রুত কমে যাচ্ছে।
পার্বতীপুর উপজেলা প্রকৌশলী ও ইমারত ভবন নকশা কমিটির সদস্য মো. মানিক মিঞা বলেন, বাঁশপুকুর, কাজীপাড়া ও চৌহাটি এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমতির জন্য এখন পর্যন্ত কেউ আবেদন করেননি। বর্তমানে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
পার্বতীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদ হুসাইন রাজু বলেন, “বিল্ডিং কোড না মেনেই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই এলাকার খাজনা গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।”এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানি প্রধানমন্ত্রীর উপহারের মন্তব্যে বিপাকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি সম্প্রসারণের আগে কৃষিজমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ

আপডেট সময় ০১:৫৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উত্তর দিকে হামিদপুর ইউনিয়নের বাঁশপুকুর, কাজীপাড়া ও চৌহাটি গ্রামে কৃষিজমির মাঝখানে সারি সারি বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। দূর থেকে দেখলে আবাসিক এলাকা মনে হলেও অধিকাংশ ভবনই জনশূন্য ও তালাবদ্ধ। নেই বিদ্যুৎ সংযোগ কিংবা যাতায়াতের উপযোগী রাস্তা। এর মধ্যেও নতুন ভবন নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি সম্প্রসারণের জন্য জমি অধিগ্রহণ হলে বেশি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় কৃষিজমি ভরাট করে অনুমোদন ছাড়াই বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। বিল্ডিং কোড, নকশা অনুমোদন ও নিরাপত্তাবিধি না মেনে তিন-চারতলা বিশিষ্ট দুই শতাধিক ভবন নির্মিত হয়েছে বলে এলাকাবাসীর দাবি।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব ভবনের অধিকাংশেরই পার্বতীপুর উপজেলা ইমারত ভবন নকশা কমিটি ও হামিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের অনুমোদন নেই। উপজেলা ইমারত ভবন নকশা কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, এ ধরনের ভবন নির্মাণের বিষয়ে তারা অবগত নন।১৯৮৫ সালে বড়পুকুরিয়ায় কয়লা খনি আবিষ্কারের পর এ পর্যন্ত ৭৯২ দশমিক ৭৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। খনি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে আরও জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্তের পর থেকেই উত্তরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে ভবন নির্মাণ বেড়ে যায় বলে স্থানীয়দের দাবি।সম্প্রতি জেলা প্রশাসন ও খনি কর্তৃপক্ষ এলাকা পরিদর্শনে গেলে ড্রোনে ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পার্বতীপুর উপজেলা প্রশাসনের দাবি, জরিপে খনির ২২ কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভবনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
হামিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান রেজওয়ানুল হক বলেন, বাঁশপুকুর ও কাজীপাড়ায় প্রায় ১৫০টি এবং চৌহাটিতে প্রায় ৫০টি ভবন নির্মাণ হয়েছে। মাত্র ৪০-৫০টির হোল্ডিং রয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে এ ধরনের নির্মাণকাজ চলছে।
হামিদপুর ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জাহেদুজ্জামান বলেন, ইউনিয়নের ২৮টি মৌজায় ৯ হাজার ৫০২ একর কৃষিজমি রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৩ একর অকৃষি জমি। বহুতল ভবন নির্মাণের ফলে কৃষিজমি দ্রুত কমে যাচ্ছে।
পার্বতীপুর উপজেলা প্রকৌশলী ও ইমারত ভবন নকশা কমিটির সদস্য মো. মানিক মিঞা বলেন, বাঁশপুকুর, কাজীপাড়া ও চৌহাটি এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমতির জন্য এখন পর্যন্ত কেউ আবেদন করেননি। বর্তমানে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
পার্বতীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদ হুসাইন রাজু বলেন, “বিল্ডিং কোড না মেনেই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই এলাকার খাজনা গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।”এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।