দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উত্তর দিকে হামিদপুর ইউনিয়নের বাঁশপুকুর, কাজীপাড়া ও চৌহাটি গ্রামে কৃষিজমির মাঝখানে সারি সারি বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। দূর থেকে দেখলে আবাসিক এলাকা মনে হলেও অধিকাংশ ভবনই জনশূন্য ও তালাবদ্ধ। নেই বিদ্যুৎ সংযোগ কিংবা যাতায়াতের উপযোগী রাস্তা। এর মধ্যেও নতুন ভবন নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি সম্প্রসারণের জন্য জমি অধিগ্রহণ হলে বেশি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় কৃষিজমি ভরাট করে অনুমোদন ছাড়াই বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। বিল্ডিং কোড, নকশা অনুমোদন ও নিরাপত্তাবিধি না মেনে তিন-চারতলা বিশিষ্ট দুই শতাধিক ভবন নির্মিত হয়েছে বলে এলাকাবাসীর দাবি।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব ভবনের অধিকাংশেরই পার্বতীপুর উপজেলা ইমারত ভবন নকশা কমিটি ও হামিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের অনুমোদন নেই। উপজেলা ইমারত ভবন নকশা কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, এ ধরনের ভবন নির্মাণের বিষয়ে তারা অবগত নন।১৯৮৫ সালে বড়পুকুরিয়ায় কয়লা খনি আবিষ্কারের পর এ পর্যন্ত ৭৯২ দশমিক ৭৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। খনি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে আরও জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্তের পর থেকেই উত্তরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে ভবন নির্মাণ বেড়ে যায় বলে স্থানীয়দের দাবি।সম্প্রতি জেলা প্রশাসন ও খনি কর্তৃপক্ষ এলাকা পরিদর্শনে গেলে ড্রোনে ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পার্বতীপুর উপজেলা প্রশাসনের দাবি, জরিপে খনির ২২ কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভবনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
হামিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান রেজওয়ানুল হক বলেন, বাঁশপুকুর ও কাজীপাড়ায় প্রায় ১৫০টি এবং চৌহাটিতে প্রায় ৫০টি ভবন নির্মাণ হয়েছে। মাত্র ৪০-৫০টির হোল্ডিং রয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে এ ধরনের নির্মাণকাজ চলছে।
হামিদপুর ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জাহেদুজ্জামান বলেন, ইউনিয়নের ২৮টি মৌজায় ৯ হাজার ৫০২ একর কৃষিজমি রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৩ একর অকৃষি জমি। বহুতল ভবন নির্মাণের ফলে কৃষিজমি দ্রুত কমে যাচ্ছে।
পার্বতীপুর উপজেলা প্রকৌশলী ও ইমারত ভবন নকশা কমিটির সদস্য মো. মানিক মিঞা বলেন, বাঁশপুকুর, কাজীপাড়া ও চৌহাটি এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমতির জন্য এখন পর্যন্ত কেউ আবেদন করেননি। বর্তমানে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
পার্বতীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদ হুসাইন রাজু বলেন, “বিল্ডিং কোড না মেনেই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই এলাকার খাজনা গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।”এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ শিরোনাম ::
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি সম্প্রসারণের আগে কৃষিজমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ
-
রুকুনুজ্জামান, পার্বতীপুর প্রতিনিধি - আপডেট সময় ০১:৫৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
- ৫০৯ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ






















