ভোলার মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন ও কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হলেও নদী থেকে বালু উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না—এমন অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, নিয়মিত অভিযান ও আটকের পরও কীভাবে আবার একই এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন চলছে?
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় প্রশাসনের অভিযান হলে কিছু সময়ের জন্য ড্রেজার ও বাল্কহেড সরিয়ে নেওয়া হয়। অভিযান শেষ হওয়ার পর আবার রাতের আঁধারে নদীতে সক্রিয় হয়ে ওঠে বালু উত্তোলনকারী চক্র। ফলে একদিকে সরকারি সংস্থাগুলো অভিযান পরিচালনার দাবি করছে, অন্যদিকে নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনও বন্ধ হচ্ছে না।
অভিযোগ রয়েছে, মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে প্রতিনিয়ত বালু তোলা হচ্ছে। পরে এসব বালু বাল্কহেডে করে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে বিক্রি করা হয়। এতে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন, তীরভাঙন বৃদ্ধি এবং বসতভিটা ও কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সম্প্রতি ভোলার বোরহানউদ্দিন থানাধীন হাঁসের চর সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীতে কোস্টগার্ডের অভিযানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় দুটি ড্রেজার ও তিনটি বাল্কহেডসহ ১৫ জনকে আটক করা হয়। ঘটনাটি প্রমাণ করে, নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—একাধিক অভিযান, ড্রেজার ও বাল্কহেড আটক এবং মামলা হওয়ার পরও যদি একই ধরনের কর্মকাণ্ড আবার শুরু হয়, তাহলে মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা কোথায়?
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘অভিযান হলে ড্রেজার বন্ধ থাকে, কিন্তু কিছুদিন পর আবার আগের মতোই বালু তোলা শুরু হয়। যারা নদী থেকে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত, তাদের মূলত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা দরকার।’
তাদের দাবি, শুধু ড্রেজারের শ্রমিক বা নৌযানে থাকা ব্যক্তিদের আটক করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত মালিক, অর্থদাতা, ইজারাবিহীনভাবে বালু বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং নেপথ্যের প্রভাবশালীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এর আগে ভোলার তেঁতুলিয়া নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও নদী তীররক্ষা বাঁধ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নদী রক্ষার নামে শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান চালিয়ে ছবি তোলা বা কয়েকজন শ্রমিককে আটক করা হলে দীর্ঘমেয়াদে কোনো সুফল আসবে না। প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, ড্রেজার জব্দ, জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা এবং অভিযান-পরবর্তী সময়ে আবার যাতে একই ড্রেজার নদীতে নামতে না পারে, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
বিশেষ করে রাতের বেলায় নদীতে নজরদারি বাড়ানো এবং কোন কোন পয়েন্টে নিয়মিত ড্রেজার অবস্থান করছে তা চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙন বাড়লে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন নদীতীরের সাধারণ মানুষ। বসতভিটা, ফসলি জমি, সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, ‘প্রশাসন ও কোস্টগার্ড যদি সত্যিই কঠোর অবস্থানে থাকে, তাহলে অভিযানের পরও কীভাবে একই নদীতে বারবার ড্রেজার নামছে?’
তাই ভোলাবাসীর দাবি—মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধে শুধু লোক দেখানো অভিযান নয়, প্রয়োজন টানা ও সমন্বিত অভিযান, ড্রেজার জব্দ, বাল্কহেড জব্দ এবং বালু উত্তোলনের নেপথ্যের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা।
নদী রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপই এখন ভোলাবাসীর প্রত্যাশা।
রিয়াজ ফরাজী 





















