ঢাকা ০৯:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি ব্যর্থ হলে দেশে কেউ বাস করতে পারবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্বাহী পরিচালকদের দায়িত্ব বাড়াল বিএসইসি মধ্যস্থতার মাধ্যমে মামলাজট কমিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব: আইনমন্ত্রী ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অনুমতি দেওয়া যাবে না : ট্রাম্প শিবগঞ্জ সীমান্তে ২৬ লাখ টাকার ভারতীয় ট্রাকের যন্ত্রাংশ জব্দ ভোলাহাটে সাংবাদিক রনি রজবের পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ বান্দরবান কৃষক দলের শীর্ষ পদে ‘হাইব্রিড’ নেতা অহিদুর! দেশের সব বন্দর ২৪ ঘণ্টা চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কেরালায় ‘যমজ’ বিয়ের আয়োজন, বর-কনে-পুরোহিত সবাই যমজ সমাজকে আলোকিত করতে যুব সমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল

কেরালায় ‘যমজ’ বিয়ের আয়োজন, বর-কনে-পুরোহিত সবাই যমজ

ভারতের কেরালা রাজ্যের কোট্টায়াম জেলার চঙ্গনাচেরির একটি গির্জায় অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী বিয়ে। এই বিয়ের বিশেষত্ব ছিল, বিয়ের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন যমজ। যমজ বর, যমজ কনে, যমজ পুরোহিত এবং যমজ সহকারীদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হওয়া এই আয়োজন ইতোমধ্যেই সবার দৃষ্টি কেড়েছে।

চঙ্গনাচেরির মহানগর গির্জায় অনুষ্ঠিত এই বিয়েতে যমজ ভাই অখিল কে. থমাস বিয়ে করেন যমজ বোন ম্যাগি মেরি থমাসকে। একই মঞ্চে তার যমজ ভাই নিখিল কে. থমাস বিয়ে করেন ম্যাগির যমজ বোন মারিয়া মেরি থমাসকে। একসঙ্গে দুই যমজ ভাই ও দুই যমজ বোনের বিয়ের এই দৃশ্য উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পরিচালনা করেন যমজ পুরোহিত আন্তো পেঝুমকাট্টিল ও আজো পেঝুমকাট্টিল। তাদের সহায়তা করেন যমজ সহকারী জেরন জেমস ও জোহন জেমস। ফলে বিয়ের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপেই ছিল যমজদের উপস্থিতি।

বর অখিল ও নিখিল চঙ্গনাচেরির ভেট্টুপারাম্বিল এলাকার কুঞ্জুমন থমাস ও জোমলের যমজ ছেলে। আর কনে ম্যাগি ও মারিয়া পাথানামথিট্টা জেলার কুলাথুর এলাকার টোমিচান ও মেরিকুট্টির যমজ মেয়ে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, এটি কেবল একটি বিয়ে নয়, বহু বছরের একটি স্বপ্ন পূরণের দিন। ছোটবেলা থেকেই দুই বোনের ইচ্ছা ছিল, তাদের বিয়ের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় যেন যমজ মানুষ থাকেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তারা অনেক খোঁজাখুঁজির পর যমজ পুরোহিতের সন্ধান পান। আমন্ত্রণ জানালে পুরোহিতরাও আনন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সম্মতি দেন।

দুই বোন বলেন, ছোটবেলা থেকেই এমন একটি বিয়ের স্বপ্ন দেখতেন তারা। তাদের বাবা-মাও সেই ইচ্ছাকে সমর্থন করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত।

যমজ পুরোহিতরাও এই বিয়েকে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, যমজদের বিয়ে পড়ানোর সুযোগ খুবই বিরল। এমন অনুষ্ঠান মানুষের মনে আজীবন স্মৃতি হয়ে থাকে এবং পারিবারিক বন্ধন ও একসঙ্গে পথচলার সৌন্দর্যকে আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করায়।

পেশাগত জীবনেও চারজনের পথ ভিন্ন। দুই ভাই সমুদ্রগামী বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত, আর দুই বোন তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করেন। আলাদা কর্মজীবন থাকলেও জীবনের নতুন অধ্যায় তারা শুরু করলেন একই দিনে, একই মঞ্চে এবং এক অনন্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি ব্যর্থ হলে দেশে কেউ বাস করতে পারবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

কেরালায় ‘যমজ’ বিয়ের আয়োজন, বর-কনে-পুরোহিত সবাই যমজ

আপডেট সময় ০৭:৪৮:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের কেরালা রাজ্যের কোট্টায়াম জেলার চঙ্গনাচেরির একটি গির্জায় অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী বিয়ে। এই বিয়ের বিশেষত্ব ছিল, বিয়ের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন যমজ। যমজ বর, যমজ কনে, যমজ পুরোহিত এবং যমজ সহকারীদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হওয়া এই আয়োজন ইতোমধ্যেই সবার দৃষ্টি কেড়েছে।

চঙ্গনাচেরির মহানগর গির্জায় অনুষ্ঠিত এই বিয়েতে যমজ ভাই অখিল কে. থমাস বিয়ে করেন যমজ বোন ম্যাগি মেরি থমাসকে। একই মঞ্চে তার যমজ ভাই নিখিল কে. থমাস বিয়ে করেন ম্যাগির যমজ বোন মারিয়া মেরি থমাসকে। একসঙ্গে দুই যমজ ভাই ও দুই যমজ বোনের বিয়ের এই দৃশ্য উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পরিচালনা করেন যমজ পুরোহিত আন্তো পেঝুমকাট্টিল ও আজো পেঝুমকাট্টিল। তাদের সহায়তা করেন যমজ সহকারী জেরন জেমস ও জোহন জেমস। ফলে বিয়ের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপেই ছিল যমজদের উপস্থিতি।

বর অখিল ও নিখিল চঙ্গনাচেরির ভেট্টুপারাম্বিল এলাকার কুঞ্জুমন থমাস ও জোমলের যমজ ছেলে। আর কনে ম্যাগি ও মারিয়া পাথানামথিট্টা জেলার কুলাথুর এলাকার টোমিচান ও মেরিকুট্টির যমজ মেয়ে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, এটি কেবল একটি বিয়ে নয়, বহু বছরের একটি স্বপ্ন পূরণের দিন। ছোটবেলা থেকেই দুই বোনের ইচ্ছা ছিল, তাদের বিয়ের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় যেন যমজ মানুষ থাকেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তারা অনেক খোঁজাখুঁজির পর যমজ পুরোহিতের সন্ধান পান। আমন্ত্রণ জানালে পুরোহিতরাও আনন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সম্মতি দেন।

দুই বোন বলেন, ছোটবেলা থেকেই এমন একটি বিয়ের স্বপ্ন দেখতেন তারা। তাদের বাবা-মাও সেই ইচ্ছাকে সমর্থন করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত।

যমজ পুরোহিতরাও এই বিয়েকে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, যমজদের বিয়ে পড়ানোর সুযোগ খুবই বিরল। এমন অনুষ্ঠান মানুষের মনে আজীবন স্মৃতি হয়ে থাকে এবং পারিবারিক বন্ধন ও একসঙ্গে পথচলার সৌন্দর্যকে আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করায়।

পেশাগত জীবনেও চারজনের পথ ভিন্ন। দুই ভাই সমুদ্রগামী বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত, আর দুই বোন তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করেন। আলাদা কর্মজীবন থাকলেও জীবনের নতুন অধ্যায় তারা শুরু করলেন একই দিনে, একই মঞ্চে এবং এক অনন্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে।