ঢাকা ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফ্যাসিবাদের ভয়াবহতার সাক্ষী ‘আয়নাঘরের’ দেয়াল : চিফ প্রসিকিউটর সংসদের চেয়ে রাজপথকে প্রাধান্য গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়: তথ্যমন্ত্রী ১০ লাখ টাকায় করলেন কিডনি বিক্রির চুক্তি, পেলেন ৫০ হাজার দুই মেট্রো স্টেশনে বোমা আতঙ্ক, বস্তায় পাওয়া গেল জর্দার কৌটা-পান টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্তের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ সমরের স্থান সংরক্ষণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতা: মৃত্যুদণ্ড শ্রীলঙ্কার সাবেক পুলিশপ্রধানের গ্যাসের দাম বাড়ালে আমরা পেট্রোবাংলা ঘেরাও করব: নাহিদ ইসলাম ‘বিশ্বকাপ ট্রফি’ বিক্রি করতে বাধ্য হলেন ফরাসি তারকা র‌্যাব-১ সদর দপ্তরের ‘আয়না ঘর’ পরিদর্শন করলেন ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা

হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতা: মৃত্যুদণ্ড শ্রীলঙ্কার সাবেক পুলিশপ্রধানের

২০১৯ সালের ইস্টার সানডের ভয়াবহ বোমা হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে শ্রীলঙ্কার সাবেক পুলিশপ্রধান পুজিথ জয়সুন্দরাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। শুক্রবার তিন সদস্যের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাঁকে অপরাধমূলক অবহেলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় দেন।

তবে শ্রীলঙ্কায় ১৯৭৬ সাল থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ রয়েছে। ফলে আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড সাধারণত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হয়। বর্তমান প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকেও এই স্থগিতাদেশ বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

২০১৯ সালের ইস্টার সানডেতে প্রায় একই সময়ে শ্রীলঙ্কার তিনটি গির্জা ও তিনটি বিলাসবহুল হোটেলে ধারাবাহিক বোমা হামলা চালানো হয়। এতে ২৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৪২ জন ছিলেন বিদেশি নাগরিক।

হামলার পর গঠিত সংসদীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একাধিক সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হন। সেই ব্যর্থতার জেরেই জয়সুন্দরাকে অপরাধমূলক অবহেলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে তাঁর। একই অভিযোগে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব হেমাসিরি ফার্নান্দোর বিরুদ্ধেও পৃথক রায় দেওয়ার কথা রয়েছে।

২০১৯ সালের ওই হামলার জন্য শ্রীলঙ্কাভিত্তিক দুটি উগ্রপন্থী গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়েছিল। হামলায় সরাসরি জড়িত বলে শনাক্ত ব্যক্তিদের কেউ বর্তমানে জীবিত নেই। তবে হামলাকারীদের সহযোগিতার অভিযোগে আরও কয়েকজনের বিচার চলছে।

এদিকে শ্রীলঙ্কার ক্যাথলিক চার্চের দাবি, এখন পর্যন্ত যাদের হামলার মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তারা প্রকৃত পরিকল্পনাকারী নন। তাদের মতে, এই হামলার নেপথ্যে আরও বড় কোনো ষড়যন্ত্র ছিল।
সূত্র: এএফপি

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদের ভয়াবহতার সাক্ষী ‘আয়নাঘরের’ দেয়াল : চিফ প্রসিকিউটর

হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতা: মৃত্যুদণ্ড শ্রীলঙ্কার সাবেক পুলিশপ্রধানের

আপডেট সময় ০১:৫৬:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

২০১৯ সালের ইস্টার সানডের ভয়াবহ বোমা হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে শ্রীলঙ্কার সাবেক পুলিশপ্রধান পুজিথ জয়সুন্দরাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। শুক্রবার তিন সদস্যের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাঁকে অপরাধমূলক অবহেলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় দেন।

তবে শ্রীলঙ্কায় ১৯৭৬ সাল থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ রয়েছে। ফলে আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড সাধারণত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হয়। বর্তমান প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকেও এই স্থগিতাদেশ বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

২০১৯ সালের ইস্টার সানডেতে প্রায় একই সময়ে শ্রীলঙ্কার তিনটি গির্জা ও তিনটি বিলাসবহুল হোটেলে ধারাবাহিক বোমা হামলা চালানো হয়। এতে ২৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৪২ জন ছিলেন বিদেশি নাগরিক।

হামলার পর গঠিত সংসদীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একাধিক সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হন। সেই ব্যর্থতার জেরেই জয়সুন্দরাকে অপরাধমূলক অবহেলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে তাঁর। একই অভিযোগে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব হেমাসিরি ফার্নান্দোর বিরুদ্ধেও পৃথক রায় দেওয়ার কথা রয়েছে।

২০১৯ সালের ওই হামলার জন্য শ্রীলঙ্কাভিত্তিক দুটি উগ্রপন্থী গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়েছিল। হামলায় সরাসরি জড়িত বলে শনাক্ত ব্যক্তিদের কেউ বর্তমানে জীবিত নেই। তবে হামলাকারীদের সহযোগিতার অভিযোগে আরও কয়েকজনের বিচার চলছে।

এদিকে শ্রীলঙ্কার ক্যাথলিক চার্চের দাবি, এখন পর্যন্ত যাদের হামলার মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তারা প্রকৃত পরিকল্পনাকারী নন। তাদের মতে, এই হামলার নেপথ্যে আরও বড় কোনো ষড়যন্ত্র ছিল।
সূত্র: এএফপি