ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি জনশক্তি নি‌তে ব্রুনাইকে অনু‌রোধ ছাত্রদলের নতুন কমিটি যেকোনো সময়, শীর্ষ পদে আলোচনায় যাদের নাম পবিপ্রবিতে জিএসটি গুচ্ছে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত লামায় ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসলে ও বালু উত্তোলন বন্ধ হবে না: কক্সবাজার শ্রমিকদলের সহ-সভাপতি মোস্তাক আহমেদ তথ্য গোপন করায় জিপিএইচ ইস্পাতকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা দায়িত্ব পালনের ব্যর্থতায় ডিএসইকে তলব শিল্প খাতে গ্যাসসংকট সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপরে হামলার প্রতিবাদে ববিতে ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ  গাইবান্ধা এলজিইডিতে এক পদে দুই নির্বাহী প্রকৌশলী, ভোগান্তিতে ঠিকাদাররা

অর্থপাচার, সম্পদ আত্মসাৎ ও কর অনিয়মের অভিযোগ, জুলফিকার রহমানকে ঘিরে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

বাংলাদেশ থেকে অর্থ বিদেশে পাচার, সম্পদ আত্মসাৎ, কর-সংক্রান্ত অনিয়ম এবং ব্যক্তিগত ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে জুলফিকার রহমান ও তার বোন গুলশান আরাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বাসিন্দা মৃত লতিফ মিয়ার ছেলে জুলফিকার রহমান ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে একাধিকবার বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময়ে তিনি অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে স্থানান্তর করে দেশে ও বিদেশে সম্পদ গড়ে তোলেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর-সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘন ও কর ফাঁকির অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে তার বৈধ চাকরি বা নিবন্ধিত ব্যবসার তথ্য না থাকা সত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য অঙ্কের সম্পদ ও বিনিয়োগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দাবি রাখে। তাদের মতে, অর্থের উৎস ও লেনদেনের বৈধতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জুলফিকার রহমানের বিরুদ্ধে দেশে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সম্পদ বা জমি আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি নিউইয়র্কের রনকনকোমা এলাকার একটি আবাসিক সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে আর্থিক ও চুক্তিগত বিরোধের কথাও অভিযোগকারীরা তুলে ধরেছেন। তাদের দাবি, ওই বিরোধের জেরে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনলাইনে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার ও হয়রানির চেষ্টা করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে তার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কেও বিভিন্ন দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রী ফারাহ রহমান (রিংকু) ও তাদের সন্তান রেহান রহমানের প্রতি অবহেলা ও পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রী তানিয়া হক ও তাদের কন্যাসন্তান সম্পর্কেও পারিবারিক দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। আরও দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে অন্যের  স্ত্রী সন্তানকে নিজের স্ত্রী পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে তার পরিবারের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে।
এসব বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সেবা (Internal Revenue Service – IRS)-কে ফাঁকি দিয়ে তিনি এসব অর্থ স্থানান্তর করেছেন এবং কর ফাঁকির মাধ্যমে তার সম্পদের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করেছেন।একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর-সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী এবং আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অর্থপাচার, কর ফাঁকি, সম্পদ আত্মসাৎ বা অন্যান্য অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট ও সচেতন মহলের মতে, অর্থপাচার ও আর্থিক অপরাধের মতো অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত, তথ্য-প্রমাণের যথাযথ যাচাই এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করাই জনস্বার্থ রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি জনশক্তি নি‌তে ব্রুনাইকে অনু‌রোধ

অর্থপাচার, সম্পদ আত্মসাৎ ও কর অনিয়মের অভিযোগ, জুলফিকার রহমানকে ঘিরে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আপডেট সময় ০২:৫৪:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশ থেকে অর্থ বিদেশে পাচার, সম্পদ আত্মসাৎ, কর-সংক্রান্ত অনিয়ম এবং ব্যক্তিগত ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে জুলফিকার রহমান ও তার বোন গুলশান আরাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বাসিন্দা মৃত লতিফ মিয়ার ছেলে জুলফিকার রহমান ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে একাধিকবার বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময়ে তিনি অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে স্থানান্তর করে দেশে ও বিদেশে সম্পদ গড়ে তোলেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর-সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘন ও কর ফাঁকির অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে তার বৈধ চাকরি বা নিবন্ধিত ব্যবসার তথ্য না থাকা সত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য অঙ্কের সম্পদ ও বিনিয়োগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দাবি রাখে। তাদের মতে, অর্থের উৎস ও লেনদেনের বৈধতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জুলফিকার রহমানের বিরুদ্ধে দেশে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সম্পদ বা জমি আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি নিউইয়র্কের রনকনকোমা এলাকার একটি আবাসিক সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে আর্থিক ও চুক্তিগত বিরোধের কথাও অভিযোগকারীরা তুলে ধরেছেন। তাদের দাবি, ওই বিরোধের জেরে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনলাইনে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার ও হয়রানির চেষ্টা করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে তার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কেও বিভিন্ন দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রী ফারাহ রহমান (রিংকু) ও তাদের সন্তান রেহান রহমানের প্রতি অবহেলা ও পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রী তানিয়া হক ও তাদের কন্যাসন্তান সম্পর্কেও পারিবারিক দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। আরও দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে অন্যের  স্ত্রী সন্তানকে নিজের স্ত্রী পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে তার পরিবারের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে।
এসব বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সেবা (Internal Revenue Service – IRS)-কে ফাঁকি দিয়ে তিনি এসব অর্থ স্থানান্তর করেছেন এবং কর ফাঁকির মাধ্যমে তার সম্পদের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করেছেন।একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর-সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী এবং আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অর্থপাচার, কর ফাঁকি, সম্পদ আত্মসাৎ বা অন্যান্য অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট ও সচেতন মহলের মতে, অর্থপাচার ও আর্থিক অপরাধের মতো অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত, তথ্য-প্রমাণের যথাযথ যাচাই এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করাই জনস্বার্থ রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।