ঢাকা ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পবিপ্রবিতে জিএসটি গুচ্ছে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত লামায় ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসলে ও বালু উত্তোলন বন্ধ হবে না: কক্সবাজার শ্রমিকদলের সহ-সভাপতি মোস্তাক আহমেদ তথ্য গোপন করায় জিপিএইচ ইস্পাতকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা দায়িত্ব পালনের ব্যর্থতায় ডিএসইকে তলব শিল্প খাতে গ্যাসসংকট সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপরে হামলার প্রতিবাদে ববিতে ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ  গাইবান্ধা এলজিইডিতে এক পদে দুই নির্বাহী প্রকৌশলী, ভোগান্তিতে ঠিকাদাররা ভারতে পালানোর সময় তিন সঙ্গীসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমন’ গ্রেপ্তার ধামরাইয়ে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে জরিমানা

ভুয়া ডি-নোট বিতর্কে বহাল রুহুল আমিন, অফিস সহায়ক ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে

দেশের আবাসন খাতের অন্যতম নিয়ন্ত্রক সংস্থা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (জাগৃক) এখন গভীর সংকটে। প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার পাশাপাশি আর্থিক মেরুদণ্ডও দুর্বল হয়ে পড়েছে। গত প্রায় এক বছর ধরে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোসা. ফেরদৌসী বেগম। নথি গায়েবের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত না হলেও, ১৯৭১ সালের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং মিরপুর অফিসের অফিস সহায়ক মো. হাফিজ আল হোসেনের ওপর দায় চাপিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এস্টেট) মো. রুহুল আমিন ও তার সিন্ডিকেটকে রক্ষার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কার্যালয় থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে মূল নথি গায়েব করেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এস্টেট) রুহুল আমিন।
অনুসন্ধানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে, যা প্রকৃত জালিয়াতি চক্রের বিষয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
প্রথম চিঠিতে দেখা যায়, তৎকালীন মিরপুর অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এস্টেট) রুহুল আমিন ২৯ জুন ২০২৫ তারিখে স্মারক নম্বর-২৫.৩৮.২৬৪৮.৬০৬.৫৭.২০৬.২০২৩.৮৪৮-এ জাগৃকের চেয়ারম্যান বরাবর এবং পরিচালক (ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা), জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, সেগুনবাগিচা, ঢাকা বরাবর একটি চিঠি পাঠান।
চিঠির বিষয় ছিল- ঢাকার মিরপুরস্থ সেকশন-৬, ব্লক-সি, রোড-১১-এর ১ নম্বর বাড়ি হস্তান্তর ও নামজারির অনাপত্তিপত্রের আবেদন প্রসঙ্গে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জারি করা ওই চিঠিতে ২০২৩ সালের ডিজিটাল নম্বর ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ইস্যু নম্বর ৮৪৮-এর রেজিস্টার খাতায় সঠিক ঠিকানা ৬/সি, ১১/১-এর পরিবর্তে ১২/সি, ১০/৪ উল্লেখ করা হয়। (ইস্যু রেজিস্টার খাতার কপি সংরক্ষিত রয়েছে)। উল্লেখ্য, ওই সময়ে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন সৈয়দ নুরুল বাশির।
অন্যদিকে, ২৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে তৎকালীন মিরপুর প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এস্টেট) দপ্তরের হিসাব সহকারী মোস্তাকিম হোসেন স্বাক্ষরিত একটি ডি-নোটে স্মারক নম্বর-২৫.৩৮.০০০০.০০০.৬০৬.৩৯.০০০২.২৫ উল্লেখ করে বলা হয়, অফিস সহায়ক মো. হাফিজ আল হোসেন স্বাক্ষর জাল ও ভুয়া ইস্যু নম্বর ব্যবহার করে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।
ওই ডি-নোটে আরও উল্লেখ করা হয়, উপ-পরিচালক (ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা শাখা), জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, সেগুনবাগিচা, ঢাকা কর্তৃক স্মারক নং-৭৬০৪, তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২৫-এর মাধ্যমে মিরপুরস্থ সেকশন-০৬, ব্লক-ডি, লেন-০২-এর ১১ নম্বর বাড়ির প্রতিবেদন চাওয়া হয়। সে প্রেক্ষিতে জনৈক ফয়েজ অফিস সহায়ক হাফিজ আল হোসেনের কাছে প্রতিবেদন সংক্রান্ত চিঠি প্রদান করেন বলে উল্লেখ করা হয়।
এখানেই প্রশ্ন উঠেছে— কে এই ফয়েজ? কোনো অফিসিয়াল চিঠি একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির মাধ্যমে অফিস সহায়কের কাছে কেন পৌঁছাবে? সরকারি চিঠি তো সরকারি প্রক্রিয়াতেই আসার কথা। তাহলে ফয়েজের ভূমিকা কী?
এদিকে একই দিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এস্টেট) রুহুল আমিন একই ডিজিটাল নম্বর বহাল রেখে ইস্যু নম্বর ১৪০৯ ব্যবহার করে সদস্য (অর্থ ও প্রশাসন), তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর আরেকটি চিঠি পাঠান।
অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিনের নেতৃত্বে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে অফিস সহায়ক মো. হাফিজ আল হোসেনের বিরুদ্ধে হামলা, বিচার বিভাগীয় মামলা, বদলি এবং সর্বশেষ সাময়িক বরখাস্তসহ একের পর এক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের চাকরি থেকে অপসারণের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
গত তিন মাসে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং দেশ টেলিভিশনে একাধিক সংবাদ প্রচার হলেও রুহুল আমিন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে অফিস সহায়ক মো. হাফিজ আল হোসেনের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে একাধিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।
ঘটনাক্রম অনুযায়ী, ৩০ অক্টোবর ২০২৫ তাকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর ২ নভেম্বর ২০২৫ আবারও বদলির আদেশ জারি করা হয়। ৯ নভেম্বর কারণ দর্শানোর নোটিশ, ১০ নভেম্বর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ এবং একই তারিখে চিঠির ভুলের কারণে পুনরায় আরেকটি সাময়িক বরখাস্তের চিঠি দেওয়া হয়।
১০ নভেম্বর ২০২৫ হাফিজ আল হোসেন কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেন। ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা (মামলা নং-৩/২০২৫) রুজু করা হয়। ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ চেয়ারম্যানের কক্ষে হাজিরা, ২ এপ্রিল ২০২৬ নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিনই তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তার বিরুদ্ধে আরও একটি বিভাগীয় মামলা (মামলা নং-২/২০২৬) দায়ের করা হয়। ১০ মে ২০২৬ তিনি ওই মামলার জবাব দেন এবং ২৯ এপ্রিল ২০২৬ মারিয়া হকের কাছে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এসব ঘটনার পরও চাকরি ফিরে পেতে তিনি বিভিন্ন কর্মকর্তার দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে অসহায়ভাবে জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযোগ ওঠার পর সিন্ডিকেটের সদস্যদের দ্রুত অন্যত্র বদলি করা হয়। ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ রুহুল আমিনকে খুলনায়, ৯ ডিসেম্বর শহিদুল্লাহকে যশোরে এবং ২৪ ডিসেম্বর তাজুল ইসলামকে দিনাজপুরে বদলি করা হয়। বদলির মাধ্যমে তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিরপুর প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এস্টেট) দপ্তরের হিসাব সহকারী মোস্তাকিম হোসেন বলেন, তিনি যে ডি-নোট দিয়েছেন, তার পক্ষে তার কাছে কোনো প্রমাণ নেই। তিনি বলেন, রুহুল আমিন স্যারের নির্দেশে আমি চিঠিটি ইস্যু করেছি। চিঠিতে উল্লেখিত ফয়েজ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তাকে কখনও দেখিনি, চিনি না।
এ বিষয়ে তৎকালীন মিরপুর অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এস্টেট) রুহুল আমিনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছে যা প্রমাণপত্র ছিল, সব হেড অফিসে জমা দিয়েছি। তবে জনৈক ফয়েজ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।
এ বিষয়ে জাগৃকের চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগম বলেন, রুহুল আমিন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অফিস সহায়ক মো. হাফিজ আল হোসেনের বিষয়টিও তিনি দেখবেন বলে জানান।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পবিপ্রবিতে জিএসটি গুচ্ছে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

ভুয়া ডি-নোট বিতর্কে বহাল রুহুল আমিন, অফিস সহায়ক ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে

আপডেট সময় ০২:২২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

দেশের আবাসন খাতের অন্যতম নিয়ন্ত্রক সংস্থা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (জাগৃক) এখন গভীর সংকটে। প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার পাশাপাশি আর্থিক মেরুদণ্ডও দুর্বল হয়ে পড়েছে। গত প্রায় এক বছর ধরে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোসা. ফেরদৌসী বেগম। নথি গায়েবের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত না হলেও, ১৯৭১ সালের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং মিরপুর অফিসের অফিস সহায়ক মো. হাফিজ আল হোসেনের ওপর দায় চাপিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এস্টেট) মো. রুহুল আমিন ও তার সিন্ডিকেটকে রক্ষার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কার্যালয় থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে মূল নথি গায়েব করেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এস্টেট) রুহুল আমিন।
অনুসন্ধানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে, যা প্রকৃত জালিয়াতি চক্রের বিষয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
প্রথম চিঠিতে দেখা যায়, তৎকালীন মিরপুর অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এস্টেট) রুহুল আমিন ২৯ জুন ২০২৫ তারিখে স্মারক নম্বর-২৫.৩৮.২৬৪৮.৬০৬.৫৭.২০৬.২০২৩.৮৪৮-এ জাগৃকের চেয়ারম্যান বরাবর এবং পরিচালক (ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা), জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, সেগুনবাগিচা, ঢাকা বরাবর একটি চিঠি পাঠান।
চিঠির বিষয় ছিল- ঢাকার মিরপুরস্থ সেকশন-৬, ব্লক-সি, রোড-১১-এর ১ নম্বর বাড়ি হস্তান্তর ও নামজারির অনাপত্তিপত্রের আবেদন প্রসঙ্গে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জারি করা ওই চিঠিতে ২০২৩ সালের ডিজিটাল নম্বর ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ইস্যু নম্বর ৮৪৮-এর রেজিস্টার খাতায় সঠিক ঠিকানা ৬/সি, ১১/১-এর পরিবর্তে ১২/সি, ১০/৪ উল্লেখ করা হয়। (ইস্যু রেজিস্টার খাতার কপি সংরক্ষিত রয়েছে)। উল্লেখ্য, ওই সময়ে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন সৈয়দ নুরুল বাশির।
অন্যদিকে, ২৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে তৎকালীন মিরপুর প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এস্টেট) দপ্তরের হিসাব সহকারী মোস্তাকিম হোসেন স্বাক্ষরিত একটি ডি-নোটে স্মারক নম্বর-২৫.৩৮.০০০০.০০০.৬০৬.৩৯.০০০২.২৫ উল্লেখ করে বলা হয়, অফিস সহায়ক মো. হাফিজ আল হোসেন স্বাক্ষর জাল ও ভুয়া ইস্যু নম্বর ব্যবহার করে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।
ওই ডি-নোটে আরও উল্লেখ করা হয়, উপ-পরিচালক (ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা শাখা), জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, সেগুনবাগিচা, ঢাকা কর্তৃক স্মারক নং-৭৬০৪, তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২৫-এর মাধ্যমে মিরপুরস্থ সেকশন-০৬, ব্লক-ডি, লেন-০২-এর ১১ নম্বর বাড়ির প্রতিবেদন চাওয়া হয়। সে প্রেক্ষিতে জনৈক ফয়েজ অফিস সহায়ক হাফিজ আল হোসেনের কাছে প্রতিবেদন সংক্রান্ত চিঠি প্রদান করেন বলে উল্লেখ করা হয়।
এখানেই প্রশ্ন উঠেছে— কে এই ফয়েজ? কোনো অফিসিয়াল চিঠি একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির মাধ্যমে অফিস সহায়কের কাছে কেন পৌঁছাবে? সরকারি চিঠি তো সরকারি প্রক্রিয়াতেই আসার কথা। তাহলে ফয়েজের ভূমিকা কী?
এদিকে একই দিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এস্টেট) রুহুল আমিন একই ডিজিটাল নম্বর বহাল রেখে ইস্যু নম্বর ১৪০৯ ব্যবহার করে সদস্য (অর্থ ও প্রশাসন), তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর আরেকটি চিঠি পাঠান।
অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিনের নেতৃত্বে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে অফিস সহায়ক মো. হাফিজ আল হোসেনের বিরুদ্ধে হামলা, বিচার বিভাগীয় মামলা, বদলি এবং সর্বশেষ সাময়িক বরখাস্তসহ একের পর এক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের চাকরি থেকে অপসারণের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
গত তিন মাসে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং দেশ টেলিভিশনে একাধিক সংবাদ প্রচার হলেও রুহুল আমিন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে অফিস সহায়ক মো. হাফিজ আল হোসেনের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে একাধিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।
ঘটনাক্রম অনুযায়ী, ৩০ অক্টোবর ২০২৫ তাকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর ২ নভেম্বর ২০২৫ আবারও বদলির আদেশ জারি করা হয়। ৯ নভেম্বর কারণ দর্শানোর নোটিশ, ১০ নভেম্বর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ এবং একই তারিখে চিঠির ভুলের কারণে পুনরায় আরেকটি সাময়িক বরখাস্তের চিঠি দেওয়া হয়।
১০ নভেম্বর ২০২৫ হাফিজ আল হোসেন কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেন। ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা (মামলা নং-৩/২০২৫) রুজু করা হয়। ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ চেয়ারম্যানের কক্ষে হাজিরা, ২ এপ্রিল ২০২৬ নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিনই তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তার বিরুদ্ধে আরও একটি বিভাগীয় মামলা (মামলা নং-২/২০২৬) দায়ের করা হয়। ১০ মে ২০২৬ তিনি ওই মামলার জবাব দেন এবং ২৯ এপ্রিল ২০২৬ মারিয়া হকের কাছে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এসব ঘটনার পরও চাকরি ফিরে পেতে তিনি বিভিন্ন কর্মকর্তার দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে অসহায়ভাবে জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযোগ ওঠার পর সিন্ডিকেটের সদস্যদের দ্রুত অন্যত্র বদলি করা হয়। ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ রুহুল আমিনকে খুলনায়, ৯ ডিসেম্বর শহিদুল্লাহকে যশোরে এবং ২৪ ডিসেম্বর তাজুল ইসলামকে দিনাজপুরে বদলি করা হয়। বদলির মাধ্যমে তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিরপুর প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এস্টেট) দপ্তরের হিসাব সহকারী মোস্তাকিম হোসেন বলেন, তিনি যে ডি-নোট দিয়েছেন, তার পক্ষে তার কাছে কোনো প্রমাণ নেই। তিনি বলেন, রুহুল আমিন স্যারের নির্দেশে আমি চিঠিটি ইস্যু করেছি। চিঠিতে উল্লেখিত ফয়েজ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তাকে কখনও দেখিনি, চিনি না।
এ বিষয়ে তৎকালীন মিরপুর অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এস্টেট) রুহুল আমিনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছে যা প্রমাণপত্র ছিল, সব হেড অফিসে জমা দিয়েছি। তবে জনৈক ফয়েজ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।
এ বিষয়ে জাগৃকের চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগম বলেন, রুহুল আমিন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অফিস সহায়ক মো. হাফিজ আল হোসেনের বিষয়টিও তিনি দেখবেন বলে জানান।