রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার এক প্রতারক চক্র ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর কাছ থেকে ১০ লাখ ৯০ হাজার টাকা গ্রহণ, পরে চেক প্রদান করেও তা ডিজঅনার হওয়ায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে অভিযুক্ত ভুক্তভোগীর স্বামীকে ইউরোপে পাঠানোর আশ্বাস দেন। এ লক্ষ্যে ২০২৪ সালের ২০ জুন ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১০ লাখ ৯০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও ভুক্তভোগীর স্বামীকে বিদেশে পাঠানো হয়নি। পরে টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, শঠিবাড়ী শাখা, মিঠাপুকুরের নিজস্ব হিসাব থেকে ১০ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি চেক প্রদান করেন। চেকটির তারিখ ছিল ৩ নভেম্বর ২০২৪।
মামলার নথি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে চেকটি ব্যাংকে জমা দেওয়া হলে অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি ডিজঅনার করে ফেরত দেয়। এরপর ভুক্তভোগী ব্যক্তিগতভাবে একাধিকবার টাকা ফেরতের জন্য যোগাযোগ করলেও অভিযুক্ত বিভিন্নভাবে টালবাহানা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী আইনজীবীর মাধ্যমে ১৯ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় আইনগত নোটিশ প্রকাশ করেন এবং পাওনা অর্থ পরিশোধের আহ্বান জানান। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও অর্থ পরিশোধ না করায় নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার সঙ্গে অভিযুক্তের দেওয়া চেক, ব্যাংকের ডিজঅনার স্লিপ এবং প্রকাশিত লিগ্যাল নোটিশের কপিসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ রয়েছে। বাদীপক্ষ আদালতের কাছে অভিযোগ আমলে নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভুগী বলেন বিদেশে পাঠানোর কথা বলে সংসারের সবকিছু বিক্রি করে টাকা দিয়েছি সেই টাকা দিয়ে সে বিদেশে আরাম আয়েশে জীবনযাপন কাটাচ্ছে আমরা মানবতার জীবন যাপন করছি তাই প্রশাসন বিজ্ঞ আদালতের নিকট আবেদন যারা স্বপ্নভঙ্গ করে তাদের শাস্তি কঠোর থেকে কঠোরতম হওয়া উচিত।
শহীদুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি 






















