ঢাকা ০৫:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গ্যাস সমস্যা নিয়ে কাজ করছে সরকার, তবে সমাধান প্রক্রিয়া সহজ নয়: তথ্য উপদেষ্টা গঙ্গাচড়ায় তিস্তা নদীতে পুলিশের অভিযানে মাদকবাহী নৌকা জব্দ রাজধানীতে টিসিবির পণ্য কেনার সময় দেয়াল ধস, নিহত ২ কালিহাতীতে ছয় বছরে তিন পিলারে আটকে আছে সেতু নির্মাণ ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধন তৃতীয় টার্মিনাল, জাপানের সহযোগিতা চাইল সরকার এবার ঢাকার রাস্তায় বসছে নতুন আরেক প্রযুক্তির ক্যামেরা  প্রাকৃতিক উপায়ে দাঁতের যত্ন, কোনটি ব্যবহার করবেন? সাকিব আল হাসানকে ছাড়িয়ে শীর্ষে পরীমনি ‘বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কেবল সনদ অর্জনের জন্য নয়, জ্ঞান অন্বেষণ ও গবেষণার জন্য’: পবিপ্রবি ভাইস-চ্যান্সেলর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বৈষম্যহীন দেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

২০০ কোটি টাকার অকেজো যন্ত্র কিনতে চাপ, অভিযোগের মুখে হুয়াওয়ে

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্পষ্ট আপত্তি, প্রকাশ্য অনুসন্ধান এবং বিতর্কিত ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে উঠেছে একের পর এক প্রশ্ন। তবুও থামছে না বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) বহুল আলোচিত ৫জি প্রকল্প বাস্তবায়নের তৎপরতা। এবার প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে সরাসরি উদ্যোগ নিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। দুদকের আপত্তির মুখে স্থবির হয়ে পড়া এই প্রকল্পের অবশিষ্ট কার্যক্রম চালিয়ে নিতে সম্প্রতি মন্ত্রণালয় থেকে নতুন করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়েছে। আর অনিয়মে অভিযুক্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নানামুখী তৎপরতার পেছনে কলকাঠি নাড়ছে চীনা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে।

এর আগে একই প্রকল্পের পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার তৎকালীন বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব নিজের প্যাডে আধা সরকারি চিঠি (ডিও লেটার) দিয়ে দুদক চেয়ারম্যানের ‘ব্যক্তিগত মনোযোগ ও সহযোগিতা’ চেয়েছিলেন। সেই ঘটনা নিয়ে ‘দুদককে থামিয়ে দিতে বিশেষ সহকারীর চিঠি, দেড়শ কোটির প্রকল্পে ব্যয় ৩২৬ কোটি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে বুয়েটের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, দুদকের অনুসন্ধান এবং প্রকল্পে অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার অভিযোগ উঠে আসে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, যেখানে ১৬৫ কোটি টাকায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা সম্ভব, সেখানে বাড়তি প্রায় ২০০ কোটি টাকা বাড়িয়ে ভাগবাটোয়ারার উদ্দেশ্যে অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির কেনার তোড়জোড় চলছে। সংশ্লিষ্টদের মত, বাড়তি এসব যন্ত্রপাতি বেহুদা পড়ে থাকবে, কোনো কাজে আসবে না।

সর্বশেষ পাওয়া নথিতে দেখা যায়, এবার ব্যক্তিগত উদ্যোগ নয়, বরং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিতর্কিত প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়েছে। নথি অনুযায়ী, মন্ত্রণালয় প্রকল্পের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করে অবশিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে।

চিঠিতে বিটিসিএলের প্রকল্প বাস্তবায়ন, যন্ত্রপাতি আমদানি, এলসি, কারিগরি মূল্যায়নসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করে প্রকল্পটি চালিয়ে নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে। গত ৫ মে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-৩ শাখা থেকে চিঠিটি পাঠানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণায়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শুভ দেবনাথ। জানতে চাইলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে দুদক সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কমিশন না থাকায় এই চিঠির বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ বা ব্যাখ্যা নেওয়া হয়নি। গত বছরের ১৩ এপ্রিল ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে দুদকে চিঠি দিয়ে প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। চিঠিতে প্রকল্পটি চালিয়ে নিতে দুদকের সহযোগিতা চাওয়া হয়। তবে একই বছরের ১৮ জুন মন্ত্রণালয়ের চিঠির জবাব দেয় দুদক। দুদকের তৎকালীন সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, ‘এ প্রকল্পের ক্রয় প্রক্রিয়ার অবশিষ্ট কার্যক্রম এগিয়ে বা চালিয়ে নিলে তা আইনের ব্যত্যয় হবে বলে প্রতীয়মান হয় এবং সংশ্লিষ্ট অর্থ ব্যয় আইনসিদ্ধ হবে না বলে অনুমেয়।’ এরপর সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব দুদক চেয়ারম্যানকে ডিও লেটার দিয়ে প্রকল্পটি চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

তবে দুদক তখন সাড়া দেয়নি। দুদকের লিখিত আপত্তির পরও ক্ষমতার পালাবলদে ফের প্রকল্পটি চালিয়ে নিতে তোড়জোড় শুরু করেছে চক্রটি। এরই ধারাবাহিকতায় ফের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, “আলোচ্য প্রকল্পের চলমান কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নিমিত্তে দুদক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ অবস্থায়, ‘৫জির উপযোগীকরণে বিটিসিএলের অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রল্পের চলমান কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সূত্রোক্ত ১ নং স্মারকে দুদক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।”

তথ্য বলছে, মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে গত বছরের ১৮ জুন দুদক থেকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠির কথা বলা হয়েছে। সেই চিঠিতে দুদক মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল, প্রকল্পটিতে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। যে কারণে প্রকল্পটি চালিয়ে নেওয়া আইনসিদ্ধ হবে না।

জানতে চাইলে দুদকের তদন্তসংশ্লিষ্ট একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “মন্ত্রণালয়ের চিঠিকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না। কারণ দুদকের যে অবস্থান, তা আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পরেও সেই প্রকল্প চালিয়ে নেওয়ার অনুমতি দুদক দিতে পারে না। এ ছাড়া একবার চিঠি দিয়ে ‘না’ বলার পরও ফের চিঠি দিয়ে একই প্রকল্প চালিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করা নজিরবিহীন। এটা দুদককে তদন্তনাধীন বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল, ক্ষমতার অপব্যবহার।’

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘অনুসন্ধান কমিটি এরই মধ্যে তাদের অনুসন্ধান শেষ করে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। নতুন কমিশন এলে মামলা দায়ের করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলায় ফয়েজ তৈয়্যবসহ ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকতা। এ ছাড়া হুয়াওয়ের সঙ্গে বিটিসিএলের সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করে হুয়াওয়েকে কালো তালিকাভুক্ত করতে সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা সমন্বয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত সংস্থা সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটকে (সিপিটিইউ) সুপারিশ করার কথা বলেছে দুদকের অনুসন্ধানকারী দল।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য বলছে, এই প্রকল্পের শুরু থেকেই ব্যয়, প্রয়োজনীয়তা এবং কারিগরি সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর বিতর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ২০৩০ সাল পর্যন্ত বিটিসিএলের সম্ভাব্য ব্যান্ডউইথ চাহিদা নির্ধারণ করেছিল ২৬ দশমিক ২ টেরাবাইট। সেই চাহিদা পূরণে ১০০জি প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামোর সুপারিশও করেছিল বুয়েট। অথচ পরবর্তী সময়ে প্রকল্পে ১২৬ টেরাবাইট সক্ষমতার যন্ত্রপাতি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফলে প্রায় ১৬৫ কোটি টাকার প্রয়োজনীয়তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২৬ কোটি টাকায়। এ অভিযোগের ভিত্তিতেই দুদক প্রকাশ্য অনুসন্ধান শুরু করে।

অনুসন্ধানে গোপনীয়তার শর্ত লঙ্ঘন, পিপিআর অমান্য, বুয়েটের সুপারিশ উপেক্ষা এবং প্রয়োজনের তুলনায় বহুগুণ বেশি সক্ষমতার যন্ত্রপাতি কেনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার তথ্যও উঠে আসে।

মন্ত্রণালয়ের নতুন চিঠি পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রকল্পের আওতায় আমদানিকৃত যন্ত্রপাতির গুণগতমান যাচাইয়ের জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করার কথা বলা হয়েছে। ওই কমিটিতে বুয়েটের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যন্ত্রপাতি গ্রহণযোগ্য বলেও দাবি করা হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই যুক্তিগুলো মূল বিতর্কের উত্তর নয়। কারণ দুদকের অনুসন্ধানের কেন্দ্রবিন্দু কেবল যন্ত্রপাতির মান নয়; বরং কেন প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি সক্ষমতার যন্ত্রপাতি কেনা হলো, কেন বুয়েটের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা উপেক্ষা করা হলো এবং কেন প্রকল্প ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ করা হলো—এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ফ্যাক্টরি পরীক্ষা ছাড়া এত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি শিপমেন্টের কোনো আইনি বৈধতা না থাকার পরও কোনো পক্ষকে লাভবান করতে এটা করা হয়েছে—সেটা তদন্তের বিষয়।

প্রযুক্তি খাতের একাধিক বিশেষজ্ঞের ভাষ্য, কোনো যন্ত্রপাতি মানসম্মত হলেই সেটি কেনার যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠিত হয় না। রাষ্ট্রীয় প্রকল্পে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত—এটি আদৌ প্রয়োজন ছিল কি না। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সক্ষমতার যন্ত্রপাতি কিনে তা বছরের পর বছর অব্যবহৃত থাকলে সেটিও সরকারি অর্থের অপচয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

দুদকের অনুসন্ধানেও একই ধরনের প্রশ্ন উঠে এসেছে। অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে বুয়েটের সুপারিশ উপেক্ষা, অতিরিক্ত সক্ষমতার যন্ত্রপাতি কেনার উদ্যোগ, পিপিআর লঙ্ঘন এবং সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। সে কারণেই কমিশন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানায়, অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে প্রকল্পের অবশিষ্ট ক্রয়কার্য এগিয়ে নিলে তা আইনের ব্যত্যয় হবে এবং সংশ্লিষ্ট অর্থ ব্যয় আইনসিদ্ধ হবে না। কিন্তু সেই অবস্থানের পরও প্রকল্পটি সচল রাখার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে যন্ত্রপাতি দেশে আসার পর এলসির বিপরীতে অর্থ ছাড়ের প্রশ্ন সামনে এসেছে। সেই অর্থ ছাড়াতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ম্যানেজারকে বিভিন্ন মাধ্যমে চাপ প্রয়োগেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাদিম মাহমুদ বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন লিখিতভাবে দুর্নীতি-অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার বিষয়টি জানানোর পরেও চিঠি বা ডিও দিয়ে সেই প্রকল্প চালিয়ে নেওয়ার জন্য দুদককে চাপ দেওয়া স্পষ্টত আইনের ব্যত্যয়। এটা দুদকের স্বাধীনতায় নগ্ন হস্তক্ষেপ। আমার মনে হচ্ছে, যারা বারবার চিঠি ইস্যু করছে, তারাই মূলত এই প্রকল্পের দুনীতির টাকার সুবিধাভোগী। ওই কর্মকর্তাদের সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করা উচিত দুর্নীতি দমন কমিশনের।’

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘টেক খাতে হুয়াওয়ে একদিকে যেমন বিশ্বের অন্যতম নেতৃস্থানীয় প্রতিষ্ঠান, অন্যদিকে তারা তাদের আগ্রাসী সাফল্যের পেছনে অনৈতিক ও দুর্নীতিনির্ভর ব্যবসায়িক চর্চার অভিযোগের জন্যও ব্যাপক বিতর্কিত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে দুর্নীতির অভিযোগে হুয়াওয়ে ও তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের শাস্তি ভোগ করতে হয়েছে।

হুয়াওয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে দুর্নীতির ঝুঁকি রয়েছে, তা কর্তৃপক্ষের অজানা নয়। বিশেষ করে দুদকের তদন্তে আমলযোগ্য তথ্যপ্রমাণ রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সরকারের কাছে প্রত্যাশা থাকবে, এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থানের ঊর্ধ্বে থেকে দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সৎসাহসের পরিচয় দেওয়া এবং আইনসিদ্ধভাবে তদন্ত প্রক্রিয়ার পথ সুগম করা। তা না করে দৃশ্যত হুয়াওয়েরই ইন্ধনে এ প্রতিষ্ঠানটির দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত বা এমনকি রুদ্ধ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট মহলের এমন অবস্থান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এর পেছনেও অবৈধ লেনদেনসহ কোনো গভীরতর ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নও অমূলক হবে না।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাস সমস্যা নিয়ে কাজ করছে সরকার, তবে সমাধান প্রক্রিয়া সহজ নয়: তথ্য উপদেষ্টা

২০০ কোটি টাকার অকেজো যন্ত্র কিনতে চাপ, অভিযোগের মুখে হুয়াওয়ে

আপডেট সময় ০২:৫৩:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্পষ্ট আপত্তি, প্রকাশ্য অনুসন্ধান এবং বিতর্কিত ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে উঠেছে একের পর এক প্রশ্ন। তবুও থামছে না বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) বহুল আলোচিত ৫জি প্রকল্প বাস্তবায়নের তৎপরতা। এবার প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে সরাসরি উদ্যোগ নিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। দুদকের আপত্তির মুখে স্থবির হয়ে পড়া এই প্রকল্পের অবশিষ্ট কার্যক্রম চালিয়ে নিতে সম্প্রতি মন্ত্রণালয় থেকে নতুন করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়েছে। আর অনিয়মে অভিযুক্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নানামুখী তৎপরতার পেছনে কলকাঠি নাড়ছে চীনা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে।

এর আগে একই প্রকল্পের পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার তৎকালীন বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব নিজের প্যাডে আধা সরকারি চিঠি (ডিও লেটার) দিয়ে দুদক চেয়ারম্যানের ‘ব্যক্তিগত মনোযোগ ও সহযোগিতা’ চেয়েছিলেন। সেই ঘটনা নিয়ে ‘দুদককে থামিয়ে দিতে বিশেষ সহকারীর চিঠি, দেড়শ কোটির প্রকল্পে ব্যয় ৩২৬ কোটি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে বুয়েটের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, দুদকের অনুসন্ধান এবং প্রকল্পে অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার অভিযোগ উঠে আসে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, যেখানে ১৬৫ কোটি টাকায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা সম্ভব, সেখানে বাড়তি প্রায় ২০০ কোটি টাকা বাড়িয়ে ভাগবাটোয়ারার উদ্দেশ্যে অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির কেনার তোড়জোড় চলছে। সংশ্লিষ্টদের মত, বাড়তি এসব যন্ত্রপাতি বেহুদা পড়ে থাকবে, কোনো কাজে আসবে না।

সর্বশেষ পাওয়া নথিতে দেখা যায়, এবার ব্যক্তিগত উদ্যোগ নয়, বরং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিতর্কিত প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়েছে। নথি অনুযায়ী, মন্ত্রণালয় প্রকল্পের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করে অবশিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে।

চিঠিতে বিটিসিএলের প্রকল্প বাস্তবায়ন, যন্ত্রপাতি আমদানি, এলসি, কারিগরি মূল্যায়নসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করে প্রকল্পটি চালিয়ে নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে। গত ৫ মে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-৩ শাখা থেকে চিঠিটি পাঠানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণায়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শুভ দেবনাথ। জানতে চাইলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে দুদক সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কমিশন না থাকায় এই চিঠির বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ বা ব্যাখ্যা নেওয়া হয়নি। গত বছরের ১৩ এপ্রিল ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে দুদকে চিঠি দিয়ে প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। চিঠিতে প্রকল্পটি চালিয়ে নিতে দুদকের সহযোগিতা চাওয়া হয়। তবে একই বছরের ১৮ জুন মন্ত্রণালয়ের চিঠির জবাব দেয় দুদক। দুদকের তৎকালীন সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, ‘এ প্রকল্পের ক্রয় প্রক্রিয়ার অবশিষ্ট কার্যক্রম এগিয়ে বা চালিয়ে নিলে তা আইনের ব্যত্যয় হবে বলে প্রতীয়মান হয় এবং সংশ্লিষ্ট অর্থ ব্যয় আইনসিদ্ধ হবে না বলে অনুমেয়।’ এরপর সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব দুদক চেয়ারম্যানকে ডিও লেটার দিয়ে প্রকল্পটি চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

তবে দুদক তখন সাড়া দেয়নি। দুদকের লিখিত আপত্তির পরও ক্ষমতার পালাবলদে ফের প্রকল্পটি চালিয়ে নিতে তোড়জোড় শুরু করেছে চক্রটি। এরই ধারাবাহিকতায় ফের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, “আলোচ্য প্রকল্পের চলমান কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নিমিত্তে দুদক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ অবস্থায়, ‘৫জির উপযোগীকরণে বিটিসিএলের অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রল্পের চলমান কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সূত্রোক্ত ১ নং স্মারকে দুদক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।”

তথ্য বলছে, মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে গত বছরের ১৮ জুন দুদক থেকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠির কথা বলা হয়েছে। সেই চিঠিতে দুদক মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল, প্রকল্পটিতে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। যে কারণে প্রকল্পটি চালিয়ে নেওয়া আইনসিদ্ধ হবে না।

জানতে চাইলে দুদকের তদন্তসংশ্লিষ্ট একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “মন্ত্রণালয়ের চিঠিকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না। কারণ দুদকের যে অবস্থান, তা আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পরেও সেই প্রকল্প চালিয়ে নেওয়ার অনুমতি দুদক দিতে পারে না। এ ছাড়া একবার চিঠি দিয়ে ‘না’ বলার পরও ফের চিঠি দিয়ে একই প্রকল্প চালিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করা নজিরবিহীন। এটা দুদককে তদন্তনাধীন বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল, ক্ষমতার অপব্যবহার।’

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘অনুসন্ধান কমিটি এরই মধ্যে তাদের অনুসন্ধান শেষ করে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। নতুন কমিশন এলে মামলা দায়ের করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলায় ফয়েজ তৈয়্যবসহ ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকতা। এ ছাড়া হুয়াওয়ের সঙ্গে বিটিসিএলের সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করে হুয়াওয়েকে কালো তালিকাভুক্ত করতে সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা সমন্বয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত সংস্থা সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটকে (সিপিটিইউ) সুপারিশ করার কথা বলেছে দুদকের অনুসন্ধানকারী দল।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য বলছে, এই প্রকল্পের শুরু থেকেই ব্যয়, প্রয়োজনীয়তা এবং কারিগরি সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর বিতর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ২০৩০ সাল পর্যন্ত বিটিসিএলের সম্ভাব্য ব্যান্ডউইথ চাহিদা নির্ধারণ করেছিল ২৬ দশমিক ২ টেরাবাইট। সেই চাহিদা পূরণে ১০০জি প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামোর সুপারিশও করেছিল বুয়েট। অথচ পরবর্তী সময়ে প্রকল্পে ১২৬ টেরাবাইট সক্ষমতার যন্ত্রপাতি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফলে প্রায় ১৬৫ কোটি টাকার প্রয়োজনীয়তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২৬ কোটি টাকায়। এ অভিযোগের ভিত্তিতেই দুদক প্রকাশ্য অনুসন্ধান শুরু করে।

অনুসন্ধানে গোপনীয়তার শর্ত লঙ্ঘন, পিপিআর অমান্য, বুয়েটের সুপারিশ উপেক্ষা এবং প্রয়োজনের তুলনায় বহুগুণ বেশি সক্ষমতার যন্ত্রপাতি কেনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার তথ্যও উঠে আসে।

মন্ত্রণালয়ের নতুন চিঠি পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রকল্পের আওতায় আমদানিকৃত যন্ত্রপাতির গুণগতমান যাচাইয়ের জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করার কথা বলা হয়েছে। ওই কমিটিতে বুয়েটের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যন্ত্রপাতি গ্রহণযোগ্য বলেও দাবি করা হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই যুক্তিগুলো মূল বিতর্কের উত্তর নয়। কারণ দুদকের অনুসন্ধানের কেন্দ্রবিন্দু কেবল যন্ত্রপাতির মান নয়; বরং কেন প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি সক্ষমতার যন্ত্রপাতি কেনা হলো, কেন বুয়েটের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা উপেক্ষা করা হলো এবং কেন প্রকল্প ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ করা হলো—এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ফ্যাক্টরি পরীক্ষা ছাড়া এত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি শিপমেন্টের কোনো আইনি বৈধতা না থাকার পরও কোনো পক্ষকে লাভবান করতে এটা করা হয়েছে—সেটা তদন্তের বিষয়।

প্রযুক্তি খাতের একাধিক বিশেষজ্ঞের ভাষ্য, কোনো যন্ত্রপাতি মানসম্মত হলেই সেটি কেনার যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠিত হয় না। রাষ্ট্রীয় প্রকল্পে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত—এটি আদৌ প্রয়োজন ছিল কি না। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সক্ষমতার যন্ত্রপাতি কিনে তা বছরের পর বছর অব্যবহৃত থাকলে সেটিও সরকারি অর্থের অপচয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

দুদকের অনুসন্ধানেও একই ধরনের প্রশ্ন উঠে এসেছে। অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে বুয়েটের সুপারিশ উপেক্ষা, অতিরিক্ত সক্ষমতার যন্ত্রপাতি কেনার উদ্যোগ, পিপিআর লঙ্ঘন এবং সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। সে কারণেই কমিশন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানায়, অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে প্রকল্পের অবশিষ্ট ক্রয়কার্য এগিয়ে নিলে তা আইনের ব্যত্যয় হবে এবং সংশ্লিষ্ট অর্থ ব্যয় আইনসিদ্ধ হবে না। কিন্তু সেই অবস্থানের পরও প্রকল্পটি সচল রাখার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে যন্ত্রপাতি দেশে আসার পর এলসির বিপরীতে অর্থ ছাড়ের প্রশ্ন সামনে এসেছে। সেই অর্থ ছাড়াতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ম্যানেজারকে বিভিন্ন মাধ্যমে চাপ প্রয়োগেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাদিম মাহমুদ বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন লিখিতভাবে দুর্নীতি-অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার বিষয়টি জানানোর পরেও চিঠি বা ডিও দিয়ে সেই প্রকল্প চালিয়ে নেওয়ার জন্য দুদককে চাপ দেওয়া স্পষ্টত আইনের ব্যত্যয়। এটা দুদকের স্বাধীনতায় নগ্ন হস্তক্ষেপ। আমার মনে হচ্ছে, যারা বারবার চিঠি ইস্যু করছে, তারাই মূলত এই প্রকল্পের দুনীতির টাকার সুবিধাভোগী। ওই কর্মকর্তাদের সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করা উচিত দুর্নীতি দমন কমিশনের।’

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘টেক খাতে হুয়াওয়ে একদিকে যেমন বিশ্বের অন্যতম নেতৃস্থানীয় প্রতিষ্ঠান, অন্যদিকে তারা তাদের আগ্রাসী সাফল্যের পেছনে অনৈতিক ও দুর্নীতিনির্ভর ব্যবসায়িক চর্চার অভিযোগের জন্যও ব্যাপক বিতর্কিত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে দুর্নীতির অভিযোগে হুয়াওয়ে ও তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের শাস্তি ভোগ করতে হয়েছে।

হুয়াওয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে দুর্নীতির ঝুঁকি রয়েছে, তা কর্তৃপক্ষের অজানা নয়। বিশেষ করে দুদকের তদন্তে আমলযোগ্য তথ্যপ্রমাণ রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সরকারের কাছে প্রত্যাশা থাকবে, এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থানের ঊর্ধ্বে থেকে দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সৎসাহসের পরিচয় দেওয়া এবং আইনসিদ্ধভাবে তদন্ত প্রক্রিয়ার পথ সুগম করা। তা না করে দৃশ্যত হুয়াওয়েরই ইন্ধনে এ প্রতিষ্ঠানটির দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত বা এমনকি রুদ্ধ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট মহলের এমন অবস্থান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এর পেছনেও অবৈধ লেনদেনসহ কোনো গভীরতর ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নও অমূলক হবে না।