ঢাকা ০৪:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কেবল সনদ অর্জনের জন্য নয়, জ্ঞান অন্বেষণ ও গবেষণার জন্য’: পবিপ্রবি ভাইস-চ্যান্সেলর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বৈষম্যহীন দেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-আইওএম মিশন প্রধানের বৈঠকে মানবপাচার রোধে জোর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৮টি ভারতীয় মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেলসহ দুইজন আটক আমরা সবই করতে চাই, তবে আমাদের হাত-পা বাঁধা: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী রামগতি-কমলনগরের মেঘনায় ইলিশের খরা, সংকটে হাজারো জেলে পরিবার কুমিল্লায় ৫২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস বায়েক উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক হাজী আব্দুল মালেক আর নেই স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তির বিকাশে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ২০০ কোটি টাকার অকেজো যন্ত্র কিনতে চাপ, অভিযোগের মুখে হুয়াওয়ে

টাঙ্গাইলে উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা নূর নবীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অফিসের গোপন তথ্য বাইরে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে মেয়ের নামে প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ এবং কমিশন বাণিজ্যে জড়িত থাকারও অভিযোগ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগ এনে সম্প্রতি দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আসাদুল নামে এক ব্যক্তি।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সালের ১১ এপ্রিল দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নূর নবী বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। চাকরির পাশাপাশি মেয়ের নামে তাসফিয়া এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে ঠিকাদারদের ওই প্রতিষ্ঠান থেকে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী কিনতে বাধ্য করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজের কমিশন নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় লিটন মেম্বারের কাছ থেকে বালু সরবরাহের কমিশন এবং রুবেল মিস্ত্রি ও কালাম মিস্ত্রির কাছ থেকে সরকারি নির্মাণকাজের কমিশন গ্রহণ করেন তিনি। এভাবে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ তথ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছে সরবরাহ করেন নূর নবী। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগে তিনি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটও গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। নিজের, স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনের নামে ফ্ল্যাট ও জমি কেনার পাশাপাশি উপজেলার গড়াসিন ও নাল্লাপাড়া এলাকায় স্ত্রীর নামে জমি কিনে দোকানপাট নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। জমি-সংক্রান্ত বিষয়ে আটিয়া ইউনিয়নের এক ভূমি সহকারী কর্মকর্তার সহযোগিতা পাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, নূর নবীর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে অনেকেই জানেন। তবে প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা নূর নবী। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। তিনি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন।
দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা যূথী বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কেবল সনদ অর্জনের জন্য নয়, জ্ঞান অন্বেষণ ও গবেষণার জন্য’: পবিপ্রবি ভাইস-চ্যান্সেলর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান

টাঙ্গাইলে উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ

আপডেট সময় ০১:৪৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা নূর নবীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অফিসের গোপন তথ্য বাইরে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে মেয়ের নামে প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ এবং কমিশন বাণিজ্যে জড়িত থাকারও অভিযোগ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগ এনে সম্প্রতি দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আসাদুল নামে এক ব্যক্তি।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সালের ১১ এপ্রিল দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নূর নবী বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। চাকরির পাশাপাশি মেয়ের নামে তাসফিয়া এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে ঠিকাদারদের ওই প্রতিষ্ঠান থেকে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী কিনতে বাধ্য করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজের কমিশন নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় লিটন মেম্বারের কাছ থেকে বালু সরবরাহের কমিশন এবং রুবেল মিস্ত্রি ও কালাম মিস্ত্রির কাছ থেকে সরকারি নির্মাণকাজের কমিশন গ্রহণ করেন তিনি। এভাবে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ তথ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছে সরবরাহ করেন নূর নবী। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগে তিনি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটও গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। নিজের, স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনের নামে ফ্ল্যাট ও জমি কেনার পাশাপাশি উপজেলার গড়াসিন ও নাল্লাপাড়া এলাকায় স্ত্রীর নামে জমি কিনে দোকানপাট নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। জমি-সংক্রান্ত বিষয়ে আটিয়া ইউনিয়নের এক ভূমি সহকারী কর্মকর্তার সহযোগিতা পাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, নূর নবীর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে অনেকেই জানেন। তবে প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা নূর নবী। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। তিনি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন।
দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা যূথী বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।