টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা নূর নবীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অফিসের গোপন তথ্য বাইরে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে মেয়ের নামে প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ এবং কমিশন বাণিজ্যে জড়িত থাকারও অভিযোগ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগ এনে সম্প্রতি দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আসাদুল নামে এক ব্যক্তি।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সালের ১১ এপ্রিল দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নূর নবী বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। চাকরির পাশাপাশি মেয়ের নামে তাসফিয়া এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে ঠিকাদারদের ওই প্রতিষ্ঠান থেকে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী কিনতে বাধ্য করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজের কমিশন নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় লিটন মেম্বারের কাছ থেকে বালু সরবরাহের কমিশন এবং রুবেল মিস্ত্রি ও কালাম মিস্ত্রির কাছ থেকে সরকারি নির্মাণকাজের কমিশন গ্রহণ করেন তিনি। এভাবে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ তথ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছে সরবরাহ করেন নূর নবী। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগে তিনি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটও গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। নিজের, স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনের নামে ফ্ল্যাট ও জমি কেনার পাশাপাশি উপজেলার গড়াসিন ও নাল্লাপাড়া এলাকায় স্ত্রীর নামে জমি কিনে দোকানপাট নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। জমি-সংক্রান্ত বিষয়ে আটিয়া ইউনিয়নের এক ভূমি সহকারী কর্মকর্তার সহযোগিতা পাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, নূর নবীর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে অনেকেই জানেন। তবে প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা নূর নবী। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। তিনি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন।
দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা যূথী বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















