ঢাকা ০৪:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অনিয়মে সংকটগ্রস্ত পূবালী ব্যাংক ‘আপনাদের মিথ্যা বলব না’, বিশ্বকাপের পর নীরবতা ভাঙলেন এমবাপে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে জনসচেতনতা ও আইন প্রয়োগ জরুরি : পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী পাঁচ বছরে খাদ্য মজুতের সক্ষমতা ৩৪ লাখ টনে নেয়ার পরিকল্পনা বাড়িওয়ালারা প্লিজ একটু মানবিক হোন : মনিরা মিঠু বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট ফুলবাড়ীতে আইন-শৃঙ্খলা ও চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের কোনো সুযোগ নেই : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সরকারি ভবনের মালামাল লুটে ইউএনওর বিরুদ্ধে অভিযোগ

সরকারি ভবনের মালামাল লুটে ইউএনওর বিরুদ্ধে অভিযোগ

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সরকারি বাসভবন হিসেবে পরিচিত ‘পায়রা ভবন’ ভেঙে ফেলা এবং এর মালামাল সরকারি বিধি অনুসরণ না করেই বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া, দরপত্র আহ্বান, নিলাম বিজ্ঞপ্তি এবং সরকারি কোষাগারে অর্থ জমার বিধান অনুসরণ না করেই ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মালামাল বিক্রির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরীন আক্তারের বিরুদ্ধে। যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছেন।

উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত ‘পায়রা ভবন’ নব্বইয়ের দশকে নির্মিত হয়। দীর্ঘ সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত ভবনটিতে বিভিন্ন সময়ে সংস্কার ও কারুকাজ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দিন ভবনটিতে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এরপর ভবনটির অবকাঠামো অক্ষত থাকলেও সেটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

সরকারি বিধি অনুযায়ী, কোনো সরকারি ভবন অপসারণের আগে সেটিকে পরিত্যক্ত (কনডেমনড) ঘোষণা করতে হয়। এজন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কনডেমনেশন কমিটির সুপারিশ, মূল্য নির্ধারণ, নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, উন্মুক্ত দরপত্র এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা ইসলাম ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক পাঁচ সদস্যের কনডেমনেশন কমিটি গঠন করেন। কমিটি সরেজমিন পরিদর্শনও করে। তবে পরবর্তী কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীর বদলির কারণে প্রক্রিয়াটি থমকে যায়।

এদিকে উপজেলা প্রকৌশল অফিস ভবনটির মালামালের মূল্য চার লাখ ১৪ হাজার ৫০৪ টাকা এবং ভাঙার ব্যয় দুই লাখ ৬৫ হাজার চার টাকা নির্ধারণ করে। সেই হিসাবে অন্তত এক লাখ ৪৯ হাজার ৪০০ টাকা সর্বনিম্ন দর ধরে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রির সুযোগ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। ফলে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

নাছরীন আক্তার ২০২৫ সালের আগস্টে দাউদকান্দিতে যোগদানের পর ভবনটি ভাঙার বিষয়ে উদ্যোগ নেন। ডিসেম্বরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীর বদলির পর পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো নিলাম বা সরকারি অনুমোদনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই ভবনটি ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। দরজা, জানালা, রড, ইটসহ বিভিন্ন মালামাল বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে ।

স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী আমার দেশকে জানান, কয়েক মাস আগে দিনের বেলায় ভবন ভাঙা এবং রাতে ট্রাকে করে মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন ধরে এ কার্যক্রম চললেও কারা কাজটি করেছে কিংবা মালামাল কোথায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, বিধিবহির্ভূতভাবে ভবনটি ভেঙে মালামাল বিক্রি করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী যেসব ধাপ অনুসরণ করা প্রয়োজন ছিল, তার কোনোটিই সম্পন্ন হয়নি।

তবে উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় ভবনটির প্রাক্কলন ব্যয় প্রস্তুত করে জমা দেওয়া হয়েছিল। এর পরের প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি অবগত নন।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর চলতি জুলাইয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মফিজ উদ্দিনের নেতৃত্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। পরবর্তী সময়ে কনডেমনেশন কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনের ব্যত্যয় প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, অভিযোগ প্রকাশের পর দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে (২৩ জুলাই) রাতে এক বিবৃতিতে ইউএনও নাছরীন আক্তার দাবি করেন, তিনি দাউদকান্দিতে যোগদানের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ছুটির দিনে ঢাকায় অবস্থান করতেন। ওই সময়ে কে বা কারা ভবনটি ভেঙে মালামাল নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তার দাবি, একটি কুচক্রী মহল তাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। তিনি গণমাধ্যমকে তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বানও জানান।

উপজেলা পরিষদের ভেতরে অবস্থিত একটি আড়াইতলা সরকারি ভবন কয়েক দিনের ব্যবধানে সম্পূর্ণ উধাও হয়ে গেলেও উপজেলা প্রশাসন নিশ্চিতভাবে বলতে পারেনি কে বা কারা সেটি ভেঙে নিয়ে গেছে। উপজেলা প্রকৌশলী জানান, ভবনটি নিলামের প্রক্রিয়াধীন ছিল। আর ইউএনও বলেন, বিষয়টি তিনি পরে জানতে পেরেছেন এবং পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এছাড়াও কয়েকটি ইউনিয়নে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার ব্যাপারে! সরকারি নিয়ম অনুসরণ না করে স্থাপনা ভাঙার অভিযোগ এবং তার পূর্ববর্তী কর্মস্থল লালমাইয়ে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে লালমাই উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ লেনদেন ও নামজারি কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে একটি প্রতিবেদন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। সে সময় অভিযোগকারীরা লিখিত অভিযোগ দাখিল করলেও সেই বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাছরিন আক্তার আমার দেশকে বলেন, স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপিংয়ের কারণেই আমার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের আমি অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছি না বলেই এগুলো করছে ‌। আমি নিয়ম-নীতির বাইরে কোনো কিছুই করছি না ।

এই বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ভালো বলতে পারবে। আপনি তার সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অনিয়মে সংকটগ্রস্ত পূবালী ব্যাংক

সরকারি ভবনের মালামাল লুটে ইউএনওর বিরুদ্ধে অভিযোগ

আপডেট সময় ০২:২০:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সরকারি বাসভবন হিসেবে পরিচিত ‘পায়রা ভবন’ ভেঙে ফেলা এবং এর মালামাল সরকারি বিধি অনুসরণ না করেই বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া, দরপত্র আহ্বান, নিলাম বিজ্ঞপ্তি এবং সরকারি কোষাগারে অর্থ জমার বিধান অনুসরণ না করেই ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মালামাল বিক্রির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরীন আক্তারের বিরুদ্ধে। যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছেন।

উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত ‘পায়রা ভবন’ নব্বইয়ের দশকে নির্মিত হয়। দীর্ঘ সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত ভবনটিতে বিভিন্ন সময়ে সংস্কার ও কারুকাজ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দিন ভবনটিতে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এরপর ভবনটির অবকাঠামো অক্ষত থাকলেও সেটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

সরকারি বিধি অনুযায়ী, কোনো সরকারি ভবন অপসারণের আগে সেটিকে পরিত্যক্ত (কনডেমনড) ঘোষণা করতে হয়। এজন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কনডেমনেশন কমিটির সুপারিশ, মূল্য নির্ধারণ, নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, উন্মুক্ত দরপত্র এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা ইসলাম ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক পাঁচ সদস্যের কনডেমনেশন কমিটি গঠন করেন। কমিটি সরেজমিন পরিদর্শনও করে। তবে পরবর্তী কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীর বদলির কারণে প্রক্রিয়াটি থমকে যায়।

এদিকে উপজেলা প্রকৌশল অফিস ভবনটির মালামালের মূল্য চার লাখ ১৪ হাজার ৫০৪ টাকা এবং ভাঙার ব্যয় দুই লাখ ৬৫ হাজার চার টাকা নির্ধারণ করে। সেই হিসাবে অন্তত এক লাখ ৪৯ হাজার ৪০০ টাকা সর্বনিম্ন দর ধরে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রির সুযোগ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। ফলে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

নাছরীন আক্তার ২০২৫ সালের আগস্টে দাউদকান্দিতে যোগদানের পর ভবনটি ভাঙার বিষয়ে উদ্যোগ নেন। ডিসেম্বরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীর বদলির পর পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো নিলাম বা সরকারি অনুমোদনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই ভবনটি ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। দরজা, জানালা, রড, ইটসহ বিভিন্ন মালামাল বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে ।

স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী আমার দেশকে জানান, কয়েক মাস আগে দিনের বেলায় ভবন ভাঙা এবং রাতে ট্রাকে করে মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন ধরে এ কার্যক্রম চললেও কারা কাজটি করেছে কিংবা মালামাল কোথায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, বিধিবহির্ভূতভাবে ভবনটি ভেঙে মালামাল বিক্রি করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী যেসব ধাপ অনুসরণ করা প্রয়োজন ছিল, তার কোনোটিই সম্পন্ন হয়নি।

তবে উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় ভবনটির প্রাক্কলন ব্যয় প্রস্তুত করে জমা দেওয়া হয়েছিল। এর পরের প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি অবগত নন।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর চলতি জুলাইয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মফিজ উদ্দিনের নেতৃত্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। পরবর্তী সময়ে কনডেমনেশন কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনের ব্যত্যয় প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, অভিযোগ প্রকাশের পর দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে (২৩ জুলাই) রাতে এক বিবৃতিতে ইউএনও নাছরীন আক্তার দাবি করেন, তিনি দাউদকান্দিতে যোগদানের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ছুটির দিনে ঢাকায় অবস্থান করতেন। ওই সময়ে কে বা কারা ভবনটি ভেঙে মালামাল নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তার দাবি, একটি কুচক্রী মহল তাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। তিনি গণমাধ্যমকে তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বানও জানান।

উপজেলা পরিষদের ভেতরে অবস্থিত একটি আড়াইতলা সরকারি ভবন কয়েক দিনের ব্যবধানে সম্পূর্ণ উধাও হয়ে গেলেও উপজেলা প্রশাসন নিশ্চিতভাবে বলতে পারেনি কে বা কারা সেটি ভেঙে নিয়ে গেছে। উপজেলা প্রকৌশলী জানান, ভবনটি নিলামের প্রক্রিয়াধীন ছিল। আর ইউএনও বলেন, বিষয়টি তিনি পরে জানতে পেরেছেন এবং পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এছাড়াও কয়েকটি ইউনিয়নে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার ব্যাপারে! সরকারি নিয়ম অনুসরণ না করে স্থাপনা ভাঙার অভিযোগ এবং তার পূর্ববর্তী কর্মস্থল লালমাইয়ে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে লালমাই উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ লেনদেন ও নামজারি কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে একটি প্রতিবেদন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। সে সময় অভিযোগকারীরা লিখিত অভিযোগ দাখিল করলেও সেই বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাছরিন আক্তার আমার দেশকে বলেন, স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপিংয়ের কারণেই আমার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের আমি অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছি না বলেই এগুলো করছে ‌। আমি নিয়ম-নীতির বাইরে কোনো কিছুই করছি না ।

এই বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ভালো বলতে পারবে। আপনি তার সঙ্গে কথা বলতে পারেন।