ঢাকা ০৩:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে জনসচেতনতা ও আইন প্রয়োগ জরুরি : পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী পাঁচ বছরে খাদ্য মজুতের সক্ষমতা ৩৪ লাখ টনে নেয়ার পরিকল্পনা বাড়িওয়ালারা প্লিজ একটু মানবিক হোন : মনিরা মিঠু বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট ফুলবাড়ীতে আইন-শৃঙ্খলা ও চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের কোনো সুযোগ নেই : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সরকারি ভবনের মালামাল লুটে ইউএনওর বিরুদ্ধে অভিযোগ চাকরি না পেয়ে টাকাও ফেরত পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা আমিরাতের ভিসা জটিলতার সমাধানের চেষ্টা হচ্ছে : নুরুল হক নুর
স্বাস্থ্যের আউটসোর্সিং নিয়োগ ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ

চাকরি না পেয়ে টাকাও ফেরত পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে চাকরির আশায় লিফটম্যান সুমন মিয়া পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডকে মোট ৬০ হাজার টাকা দেন। প্রথমে তিনি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন দুলালের বিকাশে ২০ হাজার টাকা পাঠান। পরে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের কার্যালয়ে গিয়ে বাকি ৪০ হাজার টাকা তুলে দেন দুলালের ভাগনে রায়হানের হাতে। এ সময় দেলোয়ার হোসেন দুলালও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এরপর আরও টাকা দাবি করা হলে সুমন মিয়া অপারগতা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে চাকরির তালিকায় তার নাম না ওঠায় তিনি ওই টাকা ফেরত চান। তবে অভিযোগ রয়েছে, দেলোয়ার হোসেন দুলাল নানা টালবাহানা করে টাকা ফেরত দিচ্ছেন না।

গত ১৯ জুলাই টাকা চাইলে দুলাল ঢাকার বাইরে আছেন বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরে ২২ জুলাই অফিসে গিয়ে টাকা নিয়ে যেতে বললেও সেদিন তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি পিমা এসোসিয়েটসের এ কর্ণধার ফোনও রিসিভ করেননি।

শুধু সুমন মিয়াই নন, চাকরির আশ্বাস দিয়ে এমন আরও বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন দুলালের বিরুদ্ধে। তবে টাকা নেওয়ার পরও তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এখন টাকা ফেরত চাইলে দেলোয়ার হোসেন দুলাল নানা টালবাহানা করছেন বলেও অভিযোগ তাদের।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৩৬ জন অভিজ্ঞ আউটসোর্সিং কর্মীর মধ্য থেকে অন্তত কয়েকজনের কাছে চাকরি পুনর্বহালের আশ্বাস দিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী (বন্যা রানী ও জয় ডোম-১) এর কাছ থেকে পরিবহন কর্মকর্তা হাফিজ উদ্দিন প্রধান এক লাখ টাকা নিয়ে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

এ ছাড়া, পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাকর্মী মঞ্জু রানীর কাছ থেকে নগদ এক লাখ টাকা এবং লিফটম্যান মো. সুমন মিয়ার কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাফিজ উদ্দিন প্রধান চাকরিচ্যুত বা চাকরিবঞ্চিত কর্মীদের অর্থের বিনিময়ে পুনর্বহাল এবং নিয়োগের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, টাকা ছাড়া কোনো পুরোনো কর্মীকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে ই-জিপি (e-GP) পদ্ধতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত কাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন দুলালের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. নাছির উদ্দিন এবং পরিবহন কর্মকর্তা মো. হাফিজ উদ্দিন প্রধান সমন্বয় করে টেন্ডার-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, টেন্ডার জমা দেওয়ার সময় যেসব আবেদনকারীর জীবনবৃত্তান্ত (বায়োডাটা) আপলোড করা হয়েছিল, তাদের অনেকের নাম চূড়ান্ত নিয়োগ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, টেন্ডারের আওতায় ৩৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও পুরোনো কর্মীদের মধ্যে প্রথমে ১৬ জন এবং পরে আরও চারজনকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, প্রত্যাশিত পরিমাণ অর্থ দিতে না পারায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আউটসোর্সিং ব্যবস্থায় ৮ থেকে ১৬ বছর ধরে সুইপার, ঝাড়ুদার, ক্লিনার ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত অন্তত ১৬ জন অভিজ্ঞ কর্মী নিয়োগ থেকে বাদ পড়েন।

এদিকে, দৈনন্দিন কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধি, স্বল্প সময়ে সেবা প্রদান, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০২৫ সালে অর্থ মন্ত্রণালয় আউটসোর্সিং-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করে। ওই নীতিমালায় নির্ধারিত আউটসোর্সিং সেবার তালিকা, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সেবা ক্রয়ের বিধান থাকলেও, এ ক্ষেত্রে সেই বিধান অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীরা বলেন, ‘আমরা এখানে অনেক বছর ধরে কাজ করছি। নিয়ম অনুযায়ী আমাদের চাকরি হওয়ার কথা ছিল। তারপরও ধারদেনা করে চাকরির আশায় টাকা দিয়েছি। কিন্তু চাকরি তো হয়নি, এখন যে টাকা দিয়েছি সেটিও ফেরত পাচ্ছি না। টাকা চাইলে পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন দুলাল নানা টালবাহানা করছেন। আমাদের সঙ্গে যা করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অমানবিক।’

এ বিষয়ে পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন দুলালের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি ফোন রিসিভ করলেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। পরিবর্তে তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সেবা বা জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক। এ লাইসেন্স প্রতি বছর নবায়ন করতে হয়। আউটসোর্সিং বা জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের লাইসেন্স প্রদান করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই)।

পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে ডিআইএফইর যুগ্ম মহাপরিচালক মো. মতিউর রহমানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে ঘুষ বাণিজ্য করার জন্য লাইসেন্স দিই না। কোনো প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স নিয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ড বা অর্থের বিনিময়ে অনিয়ম করলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ (ক্রিমিনাল অফেন্স)।’

তিনি আরও বলেন, ‘পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই তদন্ত করব। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধের ধরন ও গুরুত্ব বিবেচনায় তাদের লাইসেন্সও বাতিল করা হতে পারে।’

সুশাসন নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। তাদের মতে, নিয়োগে অর্থ লেনদেন ও অনিয়মের যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা উচিত।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে জনসচেতনতা ও আইন প্রয়োগ জরুরি : পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

স্বাস্থ্যের আউটসোর্সিং নিয়োগ ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ

চাকরি না পেয়ে টাকাও ফেরত পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা

আপডেট সময় ০২:০৭:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে চাকরির আশায় লিফটম্যান সুমন মিয়া পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডকে মোট ৬০ হাজার টাকা দেন। প্রথমে তিনি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন দুলালের বিকাশে ২০ হাজার টাকা পাঠান। পরে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের কার্যালয়ে গিয়ে বাকি ৪০ হাজার টাকা তুলে দেন দুলালের ভাগনে রায়হানের হাতে। এ সময় দেলোয়ার হোসেন দুলালও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এরপর আরও টাকা দাবি করা হলে সুমন মিয়া অপারগতা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে চাকরির তালিকায় তার নাম না ওঠায় তিনি ওই টাকা ফেরত চান। তবে অভিযোগ রয়েছে, দেলোয়ার হোসেন দুলাল নানা টালবাহানা করে টাকা ফেরত দিচ্ছেন না।

গত ১৯ জুলাই টাকা চাইলে দুলাল ঢাকার বাইরে আছেন বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরে ২২ জুলাই অফিসে গিয়ে টাকা নিয়ে যেতে বললেও সেদিন তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি পিমা এসোসিয়েটসের এ কর্ণধার ফোনও রিসিভ করেননি।

শুধু সুমন মিয়াই নন, চাকরির আশ্বাস দিয়ে এমন আরও বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন দুলালের বিরুদ্ধে। তবে টাকা নেওয়ার পরও তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এখন টাকা ফেরত চাইলে দেলোয়ার হোসেন দুলাল নানা টালবাহানা করছেন বলেও অভিযোগ তাদের।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৩৬ জন অভিজ্ঞ আউটসোর্সিং কর্মীর মধ্য থেকে অন্তত কয়েকজনের কাছে চাকরি পুনর্বহালের আশ্বাস দিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী (বন্যা রানী ও জয় ডোম-১) এর কাছ থেকে পরিবহন কর্মকর্তা হাফিজ উদ্দিন প্রধান এক লাখ টাকা নিয়ে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

এ ছাড়া, পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাকর্মী মঞ্জু রানীর কাছ থেকে নগদ এক লাখ টাকা এবং লিফটম্যান মো. সুমন মিয়ার কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাফিজ উদ্দিন প্রধান চাকরিচ্যুত বা চাকরিবঞ্চিত কর্মীদের অর্থের বিনিময়ে পুনর্বহাল এবং নিয়োগের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, টাকা ছাড়া কোনো পুরোনো কর্মীকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে ই-জিপি (e-GP) পদ্ধতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত কাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন দুলালের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. নাছির উদ্দিন এবং পরিবহন কর্মকর্তা মো. হাফিজ উদ্দিন প্রধান সমন্বয় করে টেন্ডার-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, টেন্ডার জমা দেওয়ার সময় যেসব আবেদনকারীর জীবনবৃত্তান্ত (বায়োডাটা) আপলোড করা হয়েছিল, তাদের অনেকের নাম চূড়ান্ত নিয়োগ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, টেন্ডারের আওতায় ৩৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও পুরোনো কর্মীদের মধ্যে প্রথমে ১৬ জন এবং পরে আরও চারজনকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, প্রত্যাশিত পরিমাণ অর্থ দিতে না পারায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আউটসোর্সিং ব্যবস্থায় ৮ থেকে ১৬ বছর ধরে সুইপার, ঝাড়ুদার, ক্লিনার ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত অন্তত ১৬ জন অভিজ্ঞ কর্মী নিয়োগ থেকে বাদ পড়েন।

এদিকে, দৈনন্দিন কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধি, স্বল্প সময়ে সেবা প্রদান, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০২৫ সালে অর্থ মন্ত্রণালয় আউটসোর্সিং-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করে। ওই নীতিমালায় নির্ধারিত আউটসোর্সিং সেবার তালিকা, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সেবা ক্রয়ের বিধান থাকলেও, এ ক্ষেত্রে সেই বিধান অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীরা বলেন, ‘আমরা এখানে অনেক বছর ধরে কাজ করছি। নিয়ম অনুযায়ী আমাদের চাকরি হওয়ার কথা ছিল। তারপরও ধারদেনা করে চাকরির আশায় টাকা দিয়েছি। কিন্তু চাকরি তো হয়নি, এখন যে টাকা দিয়েছি সেটিও ফেরত পাচ্ছি না। টাকা চাইলে পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন দুলাল নানা টালবাহানা করছেন। আমাদের সঙ্গে যা করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অমানবিক।’

এ বিষয়ে পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন দুলালের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি ফোন রিসিভ করলেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। পরিবর্তে তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সেবা বা জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক। এ লাইসেন্স প্রতি বছর নবায়ন করতে হয়। আউটসোর্সিং বা জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের লাইসেন্স প্রদান করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই)।

পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে ডিআইএফইর যুগ্ম মহাপরিচালক মো. মতিউর রহমানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে ঘুষ বাণিজ্য করার জন্য লাইসেন্স দিই না। কোনো প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স নিয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ড বা অর্থের বিনিময়ে অনিয়ম করলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ (ক্রিমিনাল অফেন্স)।’

তিনি আরও বলেন, ‘পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই তদন্ত করব। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধের ধরন ও গুরুত্ব বিবেচনায় তাদের লাইসেন্সও বাতিল করা হতে পারে।’

সুশাসন নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। তাদের মতে, নিয়োগে অর্থ লেনদেন ও অনিয়মের যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা উচিত।