প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিম। গণপূর্ত প্রকৌশলীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দুর্নীতিবাজ হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে রাঙামাটি গণপূর্ত সার্কেলের দায়িত্বে আছেন। গুণধর এই পূর্ত কর্মকর্তার গুণকীর্তনের বিষয়ে লিখে শেষ করা যাবে না। তার গুণকীর্তন নিয়ে লিখলে লুটপাটের কয়েকটি থ্রিলার বা উপন্যাস হয়ে যাবে। চাকরিতে যেখানেই দায়িত্বে ছিলেন সেখানেই দুর্নীতি লুটপাট বা কোন কেলংকারির সৃষ্টি করেছেন। নামে-বেনামে শতাধিক কোটি টাকার সহায়-সম্পদের মালিক এই প্রকৌশলী দুদকের মুখোমুখি হয়েছেন দুইবার। ডিপার্টমেন্টাল তদন্ত ফেস করেছেন বেশ কয়েকবার। কোন কিছুই তাকে দমাতে পারেনি। থামাতে পারেনি তার দুর্নীতির অপ্রতিরোধ্য পাগলা ঘোড়াকে। চাকরির পদ ও পদবীকে ব্যবহার করে শালা ও ভাইয়ের নামে ঠিকাদারী ব্যবসাসহ বহুমুখী জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দ লোপাট করে তিনি এখন দেশ-বিদেশে অবৈধ সহায়-সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। নিকটাত্মীয় রেজাউলকে দিয়ে ইউনিভার্সাল এন্টারপ্রাইজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে করান ঠিকাদারী ব্যবসা। মূলত: ওই সকল কাজ তিনি নিজেই পরোক্ষভাবে পরিচালনা করে আসছেন। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঁচার করে কানাডাতে গড়েছেন আলিশান বাড়ি। দক্ষিণখানে গার্মেন্টস কারখানা, মিরপুর রূপনগরে রয়েছে ৬কাঠার ২টি প্লট, রোড-১১, ব্লক- সি, প্লট নং-৩২/এ,৩৩/এ। মিরপুর টোলারবাগে পানির ট্যাঙ্কির সন্নিকটে ৬তলা বড়ি। উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে আলিশান বাড়ি রোড-৮, বাসা-৮৯/বি। এছাড়াও মিরপুরে একাধিক ফ্ল্যাট ও জায়গা কিনেছেন। চলেন ব্র্যান্ড নিউ হ্যারিয়ার লেক্সাস গাড়িতে। কারণে-আকরণে বছরের বিভিন্ন সময়ে ঘুৃরতে যান থাইল্যান্ড সিঙ্গাপুর। কথিত মডেল নায়িকা বা কলগার্লদের নিয়ে দেশ-বিদেশে প্রমোদ ভ্রমনসহ রয়েছে বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকান্ডের অভিযোগ।
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক গাজীপুর গণপূর্তের কয়েকজন স্টাফ বলেন, আনোয়ারুল আজিম স্যার এই অফিসে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম করে শত কোটি টাকা লোপাট করেছেন। তারা আরও বলেন, এ সকল দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কারণে আজ আমাদের গণপূর্তের অনেক কর্মকর্তা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অর্থ সহায়তার জন্য অভিযুক্ত হয়েছেন।
স্বৈরাচার লীগ সরকারের আমলে মহাখালী সাবডিভিশনের এসডিইসহ ঘুরেফিরে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘ সময়ে। ২০১৫ সালের দিকে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে গাজীপুর ডিভিশনে পোষ্টিং বাগিয়ে নেন। তখনও ইজিপি টেন্ডার শুরু হয়নি। মেডিকেল কলেজের অসংখ্য টেন্ডার তিনি ম্যানুয়ালি করে উর্দ্ধতনদের দোহাই দিয়ে পার্সেন্টেজ বাবদ কয়েক কোটি টাকা লোপাট করেন। ব্যাপক ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠিত হলে তিনি পোষ্টিং বাগিয়ে নেন সিরাজগঞ্জে। সেখানেও ওই সময়ে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। প্রায় ৪বছর ওই ডিভিশনে কাটিয়ে দিয়ে হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পে বেনামী ঠিকাদারী ব্যবসা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে কয়েক কোটি টাকা লোপাট করে গাজীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে টার্গেট করে সেখানে আবার ফিরে আসেন। অক্টোবর ২০১৯ থেকে অক্টোর/২০২০ পর্যন্ত তিনি পুনরায় গাজীপুরে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে গাজীপুর গণপূর্তের ৩৪টি নির্মাণ কাজে প্রকল্পের কাজ সম্পাদন ছাড়াই প্রকৌশলী আ. আজিমকে সন্তুষ্ট করে হস্ত রশিদের মাধ্যমে ৪৯ কোটি ২৯ লাখ ২২ হাজার ৩০৬ টাকা বিল তুলে নিয়েছিলেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো। এর পরে কিছুদিন ছিলেন পাবনা গণপূর্তে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে। প্রমোশন নিয়ে পুনরায় পাবনা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসাবে দায়িত্ব নিয়ে রূপপুর প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির আশ্রয় নেন অধিনস্থদের সহায়তায়। তার বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের কারণে স্থানীয় প্রতিবাদী ঠিকাদারদের হাতে তাকে লাঞ্ছিত হতে হয়। ওই সময়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক আকারে লেখালেখির কারণে তিনি সাময়িক সাসপেনশনে পড়েন। কিন্তু অবৈধ অর্থের জোড়ে তিনি পুনরায় পোষ্টিং নিয়ে রাঙামাটি যান সেখানে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পকে টার্গেট করে। সেখানে ঢাকা থেকে স্বৈরাচার আ’লীগের ঠিকাদারদের ডেকে নিয়ে বড় বড় কাজ পাইয়ে দিয়ে তিনি ফ্যাসিবাদকে পূণঃ বাসনের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। এ নিয়ে বিস্তারিত থাকছে পরবতীর্তে বেশ কয়েকটি অনুসন্ধানী ধারাবাহিক প্রতিবেদন।
সংবাদ শিরোনাম ::
কানাডায় বাড়ি, দেশে শতকোটির সম্পদ
রাঙামাটি গণপূর্তের প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - আপডেট সময় ০১:১৫:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
- ৫১০ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ





















