আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াত হয়ে এখন বিএনপিতে নাম লেখাতে লড়াই করছেন বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম। ফ্যাসিস্ট আমলে শেখ মুজিবুর রহমানের নামে দুটি বই লিখে ‘মুজিব কেতাব’ খেতাব পাওয়া এই ব্যক্তিকে নিয়ে বরিশালে চলছে তোলপাড়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিজেকে জামায়াতের লোক পরিচয় দেওয়া এই শিক্ষক নুরুলের বিরুদ্ধে দাপ্তরিক দুর্নীতিসহ রয়েছে নানা অভিযোগ। তবে সব সময় ক্ষমতার সঙ্গে হাঁটার কারণে কোনোরকম ঝুটঝামেলায় পড়তে হয় না তাকে।
জানা গেছে, ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন নুরুল ইসলাম। সেই সময় নিজেকে আওয়ামী লীগ পরিচয় দেওয়ার পাশাপশি শেখ মুজিবকে নিয়ে দুটি বইও লেখেন তিনি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাজির হতেন মুজিব কোট পরে। এছাড়া সে সময় বরিশাল অঞ্চলের সব এমপির সঙ্গে ওঠাবসা ছিল তার। সেসব ছবি তুলে ফেসবুকেও আপলোড করতেন তিনি। ২০২৩ সালে নুরুলের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠায় তাকে বদলি করা হয় ঝালকাঠি হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ে। সেখানে যোগদানের পরপরই একের পর এক আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। সে সময় আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমুর দোহাই দিয়ে বেঁচে যান তিনি। এর আগেও ২০০৬ সালে ঝালকাঠি সরকারি বালক বিদ্যালয়ে থাকাকালে শহরের ধানসিঁড়ি হোটেলে নারীসহ জনতার হাতে আটক হন নুরুল। এসব বিষয়ে একাধিক অভিযোগ থাকলেও তার বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মাউসির কতিপয় কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে পুনরায় বরিশাল জিলা স্কুলে যোগদান করেন নুরুল। তখন নিজেকে জামায়াত ঘরানার লোক পরিচয় দিতে শুরু করেন। ২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বর জামায়াতের একটি প্রতিষ্ঠান রেটিনা কোচিং সেন্টারকে বিনামূল্যে জিলা স্কুলের ক্লাসরুমে পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ করে দেন নুরুল। এ নিয়ে সে সময় একাধিক পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হলেও জামায়াত পরিচয়ের কারণে নিরাপদ থাকেন তিনি। বিএনপি সরকার গঠন করার পর আবারও ভোল পালটান নুরুল। এবার তিনি ঘেঁষতে থাকেন বিএনপির এমপিদের সঙ্গে। শুরুতেই ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বরিশাল-৩ আসনের সংসদ-সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনকে। এরপর বিএনপির আরও কয়েকজন এমপি-মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করেন।
গত ১১ জুন জিলা স্কুলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন শিক্ষক নুরুল। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানান বিসিসি’র প্রশাসক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিনকে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই ছিলেন বিএনপির নেতাকর্মী। তাদের প্রত্যেককে শাড়ি ও পাঞ্জাবি উপহার দেন নুরুল। এরপর ২৩ জুলাই মেধা পুরস্কার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন নুরুল। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানান বরিশাল সদর ৫ আসনের সংসদ-সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারকে। ওই অনুষ্ঠানেও উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মীদের পাঞ্জাবি উপহার দেন তিনি। সংশ্লিষ্টরা জানান, স্কুল ফান্ডের টাকা দিয়েই নেতাকর্মীদের উপহার দিয়ে খুশি করেন তিনি।
বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকাটা স্বাভাবিক। তবে জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক যা করছেন তা কোনো নিয়মকানুনের মধ্যে পড়ছে না। মাত্র দুবছরের মধ্যে তার তিনটি চরিত্র দেখছি। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম কোনো সদুত্তর দেননি। অনুষ্ঠানে উপহার বিতরণের টাকা কোন ফান্ড থেকে দেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি উত্তর না দিয়ে ফোনটি কেটে দেন। এ বিষয়ে জিলা স্কুলের সভাপতি বরিশাল জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, আমি বরিশালে নতুন। অনেক কিছুই জানা নেই। তবে এসব ঘটনার খোঁজখবর নিয়ে যথাযথা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















