ঢাকা ০৩:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বঙ্গভবন ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন নীলফামারী সদরের ইটাখোলায় রাস্তার সংস্কার কাজ বিলম্ব করায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন সাবেক রাষ্ট্রপতি আইন অনুযায়ী সব সুবিধা পাবেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কসবায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে বাস, আহত অন্তত ২০ শতাধিক উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে শুরু আইপিএসসি বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক উৎসব হাসিনা-বেনজীরসহ ৮ জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী রাজৈরে মাদারীপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা নিজ অফিসে প্রথম কার্য দিবস শুরু স্পিকার থেকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি: মেজর হাফিজ উদ্দিনকে ঘিরে তজুমদ্দিনে বিএনপির বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল

পিয়ন থেকে কোটিপতি-এনবিআরের আব্দুল লতিফকে ঘিরে দুদকের অনুসন্ধান

​জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর অঞ্চল-১৪-তে কর্মরত এক তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর বিরুদ্ধে অঢেল অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। পিয়ন থেকে পদোন্নতি পেয়ে উচ্চমান সহকারী হওয়া এই কর্মচারীর নাম আব্দুল লতিফ। সরকারি পদের আড়ালে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন কয়েক কোটি টাকার বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন তিনি। এই আলাদিনের চেরাগের উৎস খুঁজতে ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।​

বহুতল ভবন, জমি ও একাধিক ফ্ল্যাট​দুদকে জমা হওয়া অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল রহমতপুর এলাকায় আব্দুল লতিফের একটি আলিশান বহুতল ভবন রয়েছে। এছাড়া ডেমরার হাজী বাদশা মিয়া রোড ও মাতুয়াইল নিউ টাউন এলাকায় নিজের এবং স্ত্রীর নামে বিঘায় বিঘায় দামি জমি কিনেছেন তিনি। বিভিন্ন আবাসিক ভবনে তার একাধিক ফ্ল্যাট, ব্যাংক হিসাবে মোটা অঙ্কের টাকা এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার থাকার তথ্যও উঠে এসেছে। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়ে নিজের গ্রামের বাড়িতে নতুন করে জমি কিনছেন বলেও জানা গেছে।​বীর মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগে মামলার প্রক্রিয়া​বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমানের দায়ের করা এই লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ শুরু করেছে দুদক।

দুদকের উপপরিচালক ফাতেমা সরকার গণমাধ্যমকে জানান, “বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এটি অনুসন্ধান করছি। তদন্তে অবৈধ সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” দুদক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।​পলাতক লতিফ, এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য​এই বিপুল সম্পদের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আব্দুল লতিফের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার কর্মস্থলে গিয়েও তাকে মেলেনি।​এদিকে, এক সময়ের সাধারণ পিয়ন আব্দুল লতিফ কীভাবে এতো বিপুল সম্পদের মালিক হলেন, তা নিয়ে এনবিআর এবং তার নিজ এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এনবিআরের প্রভাবশালী কোনো মহলের যোগসাজশ ও ছত্রছায়া ছাড়া একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারীর পক্ষে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া অসম্ভব।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বঙ্গভবন ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন

পিয়ন থেকে কোটিপতি-এনবিআরের আব্দুল লতিফকে ঘিরে দুদকের অনুসন্ধান

আপডেট সময় ১১:৫৯:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

​জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর অঞ্চল-১৪-তে কর্মরত এক তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর বিরুদ্ধে অঢেল অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। পিয়ন থেকে পদোন্নতি পেয়ে উচ্চমান সহকারী হওয়া এই কর্মচারীর নাম আব্দুল লতিফ। সরকারি পদের আড়ালে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন কয়েক কোটি টাকার বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন তিনি। এই আলাদিনের চেরাগের উৎস খুঁজতে ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।​

বহুতল ভবন, জমি ও একাধিক ফ্ল্যাট​দুদকে জমা হওয়া অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল রহমতপুর এলাকায় আব্দুল লতিফের একটি আলিশান বহুতল ভবন রয়েছে। এছাড়া ডেমরার হাজী বাদশা মিয়া রোড ও মাতুয়াইল নিউ টাউন এলাকায় নিজের এবং স্ত্রীর নামে বিঘায় বিঘায় দামি জমি কিনেছেন তিনি। বিভিন্ন আবাসিক ভবনে তার একাধিক ফ্ল্যাট, ব্যাংক হিসাবে মোটা অঙ্কের টাকা এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার থাকার তথ্যও উঠে এসেছে। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়ে নিজের গ্রামের বাড়িতে নতুন করে জমি কিনছেন বলেও জানা গেছে।​বীর মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগে মামলার প্রক্রিয়া​বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমানের দায়ের করা এই লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ শুরু করেছে দুদক।

দুদকের উপপরিচালক ফাতেমা সরকার গণমাধ্যমকে জানান, “বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এটি অনুসন্ধান করছি। তদন্তে অবৈধ সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” দুদক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।​পলাতক লতিফ, এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য​এই বিপুল সম্পদের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আব্দুল লতিফের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার কর্মস্থলে গিয়েও তাকে মেলেনি।​এদিকে, এক সময়ের সাধারণ পিয়ন আব্দুল লতিফ কীভাবে এতো বিপুল সম্পদের মালিক হলেন, তা নিয়ে এনবিআর এবং তার নিজ এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এনবিআরের প্রভাবশালী কোনো মহলের যোগসাজশ ও ছত্রছায়া ছাড়া একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারীর পক্ষে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া অসম্ভব।