ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের কোল্লাপাথর শহীদ মিনার সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬৫টি বিরল প্রজাতির কচ্ছপ উদ্ধার করেছে (৬০) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে বন বিভাগের উপস্থিতিতে উদ্ধারকৃত কচ্ছপগুলো সালদা নদীতে অবমুক্ত করা হয়।
সালদানদী বিওপির কমান্ডার সুবেদার মো. মাসুদ-এর নেতৃত্বে ল্যান্স নায়েক সাব্বির, ল্যান্স নায়েক শিমুল, সিপাহী জুয়েল ও সিপাহী বাবু মারমা এ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা কচ্ছপগুলো ফেলে পালিয়ে যায়।
উদ্ধারকৃত কচ্ছপের মধ্যে ৪টি সুন্ধি কাছিম ও ৬১টি গোল্ডেন ফ্ল্যাপশেল কচ্ছপ রয়েছে। পরে বিজিবি ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে কচ্ছপগুলো সালদা নদীতে অবমুক্ত করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোটবাড়ী এসপিএনটিসি (সামাজিক বন বিভাগ, কুমিল্লা)-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল, বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. জসিমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সালদানদী বিওপির কমান্ডার সুবেদার মো. মাসুদ বলেন, “সীমান্ত এলাকায় বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কচ্ছপগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে যেন কোনো বন্যপ্রাণী পাচার হতে না পারে, সে লক্ষ্যে বিজিবির অভিযান ও নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
কোটবাড়ী এসপিএনটিসি (সামাজিক বন বিভাগ, কুমিল্লা)-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “কচ্ছপ জলজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব বন্যপ্রাণী পাচার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বিজিবির সময়োপযোগী অভিযানের ফলে কচ্ছপগুলো উদ্ধার করে তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সালদা নদীতে অবমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বিজিবির এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।”
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বিজিবি ও বন বিভাগের এই যৌথ উদ্যোগকে স্থানীয়রা স্বাগত জানিয়েছেন এবং সীমান্ত এলাকায় বন্যপ্রাণী পাচার রোধে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
কসবা প্রতিনিধি: মোরশেদ আলম 



















