লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার ফলে তিনি একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে তুলেছেন, যার ফলে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি অফিসের নির্ধারিত সময় এবং প্রশাসনিক বিধিমালা উপেক্ষা করে তিনি নিজের ইচ্ছামতো অফিসে আসা-যাওয়া করছেন। অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য অফিসে গিয়েও সাধারণ মানুষ তাকে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সেবামূলক কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে না, বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলাতে ৩৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশব্লক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন অসম্পূর্ণ রেখেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া ১০টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রায় ৩০০টি টুইন-পিট টয়লেট নির্মাণ, আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল, গভীর নলকূপ, মিনি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিম্নমানের কাজ, প্রকল্প অসম্পূর্ণ রেখে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। এলাকার মানুষ অভিযোগ করেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নলকূপ বরাদ্দ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্রদের পরিবর্তে প্রভাবশালী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশ নলকূপ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য কোনো পরিকল্পনা বা কারিগরি মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি।
এমনকি যেখানে প্রয়োজন নেই, সেখানে নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে; আবার যেখানে প্রয়োজন ছিল, সেখানে মানুষ বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও সুবিধা পাননি। একইভাবে মিনি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পের বহু কাজ শুরু হলেও দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, কোটি কোটি টাকার সরকারি বিনিয়োগ থাকলেও সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কেরোয়া ইউনিয়নের একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, তাদের এলাকার নলকূপ বরাদ্দ তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও অনেক পরিবার এখন পর্যন্ত নলকূপ পায়নি। পরবর্তীতে তারা জানতে পারেন, অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ওই বরাদ্দ অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজের প্রভাব ব্যবহার করে এসব অনিয়ম পরিচালনা করছেন। ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে শুরু হওয়া ওয়াশব্লক নির্মাণ প্রকল্পের অধিকাংশ কাজ এখনো বাস্তবে সম্পন্ন হয়নি, যদিও কাগজে-কলমে অনেক প্রকল্প শেষ দেখানো হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ যথাযথভাবে তদারকি না করে উল্টো যোগসাজশের মাধ্যমে নিম্নমানের কাজ গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে আরও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, রায়পুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের গত কয়েক বছরের সকল উন্নয়ন প্রকল্প, টেন্ডার প্রক্রিয়া, বিল-ভাউচার, ওয়াশব্লক নির্মাণ, টিউবওয়েল এবং গভীর নলকূপ স্থাপন, মিনি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















