মৌলভীবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আবারও কথিত ‘মার্কা’ বাণিজ্য, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি, অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, আগের কর্মকর্তার পরিবর্তনের পরও অফিসে অনিয়ম ও দালালচক্রের প্রভাব কমেনি; বরং সাধারণ মানুষকে এখনও নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সদর উপজেলার ৭ নম্বর ইউনিয়নের বাসিন্দা জুবায়ের আহমদ নাম সংশোধনের জন্য পাসপোর্ট অফিসে গেলে দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কর্মচারীর অসৌজন্যমূলক আচরণের মুখোমুখি হন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, একাধিক সেবাগ্রহীতার অভিযোগ, কিছু ট্রাভেলস এজেন্সির মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে কথিত ‘মার্কা’ সংগ্রহ করা যায়। তাদের দাবি, ওই বিশেষ চিহ্ন থাকলে ফাইল দ্রুত গ্রহণ করা হয়। এমনকি কাগজপত্রে ত্রুটি থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা উপেক্ষা করা হয়। অন্যদিকে সাধারণ আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং বিভিন্ন অজুহাতে ফাইল গ্রহণে বিলম্ব করা হয় বা ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে রূঢ় আচরণ, অযৌক্তিক বিলম্ব, অপমানজনক মন্তব্য এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও নতুন নয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার পরিবর্তে সাধারণ মানুষ প্রায়ই হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাসপোর্ট অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার সরাসরি ও মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফলে তাদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য বা ব্যাখ্যা প্রদান করলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, অতীতেও একই ধরনের অভিযোগ ওঠার পরও যদি পুনরায় অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ সামনে আসে, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা কোথায়? একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানে যদি দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, কথিত ‘মার্কা’ বাণিজ্য এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ অব্যাহত থাকে, তবে তা জনসেবার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন করে এবং সুশাসনের নীতির পরিপন্থী।
ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসন, পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পাসপোর্ট অফিসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দালালমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জনস্বার্থে কত দ্রুত কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মো. হাসান আহমেদ ইয়ামিন 





















