সংবাদ শিরোনাম ::
বিশ্বকাপের ফাইনালে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন ট্রাম্প: ফিফা সভাপতি রাজবাড়ীর কালুখালীতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে কৃষকদের নিয়ে পার্টনার কংগ্রেস ও ফল মেলা অনুষ্ঠিত বিরোধীদলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফ্যাসিবাদী মানসিকতা দেখা যাচ্ছে: রিজভী বনানী থেকে নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান গ্রেফতার তারেক রহমানের সঙ্গে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ আদিতমারীতে নন্দিনী হত্যা মামলার আসামির গরু নিলামে বিক্রি করলেন স্কুল মাস্টার যে অবিশ্বাস্য রেকর্ডে মিল আছে মেসি ও রোনালদোর দোকানের নাম ‘আর্জেন্টিনা সবজি ভাণ্ডার’, জার্সি পরে গেলেই বিশেষ ছাড় হত্যাচেষ্টা মামলায় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ ফের গ্রেপ্তার গুলশানে রেস্টুরেন্টে এডিস মশার লার্ভা, জরিমানা ৫০ হাজার

এপস্টেইন কাণ্ডে অবশেষে মুখ খুললেন বিল গেটস

মার্কিন ধনকুবের ও মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস বলেছেন, যৌন অপরাধে দণ্ডিত জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের সময়ে তিনি কোনো অপরাধ প্রত্যক্ষ করেননি। তবে এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের উপস্থিতিতে তিনি পাশে থাকতে পারেন বলে স্বীকার করেছেন। এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নজরদারি কমিটির কাছে দেওয়া গোপন জিজ্ঞাসাবাদের নথিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে বিল গেটস দাবি করেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল শুধুই পেশাগত। তিনি কখনো কোনো যৌন হয়রানি বা অপরাধে অংশ নেননি এবং এ ধরনের কোনো ঘটনা দেখেননি।

তবে তদন্তকারীরা জানান, এপস্টেইনের কিছু কর্মীও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। এ কারণে গেটস কখনো ভুক্তভোগীদের আশপাশে ছিলেন না—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন বলে মন্তব্য করেন তারা।

এর জবাবে গেটস বলেন, বিষয়টি যৌক্তিক। তিনি স্বীকার করেন, এপস্টেইনের একটি বিমানে এক বৈঠকের শেষে কিছু নারী কর্মীকে তিনি দেখেছিলেন। তবে তারা ভুক্তভোগী ছিলেন কি না, তা তিনি জানতেন না।

গেটস জানান, ২০১১ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য খাতে অর্থ সংগ্রহের আগ্রহ দেখানোর মাধ্যমে এপস্টেইনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তখন তিনি জানতেন, এপস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের সাজা ছিল। তবুও সম্ভাব্য জনকল্যাণমূলক কাজের আশায় তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।

পরে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন গেটস। তিনি বলেন, এপস্টেইনের অতীত সম্পর্কে আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।

জিজ্ঞাসাবাদে গেটস আরও জানান, ২০১৪ সালে সম্পর্ক ছিন্ন করার পর এপস্টেইন তার ব্যক্তিগত জীবনের কিছু বিষয় ব্যবহার করে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে খরচ ফেরত চেয়েও বার্তা পাঠিয়েছিলেন এপস্টেইন। তবে গেটস জানান, তিনি কোনো অর্থ পরিশোধ করেননি।

এদিকে এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের সহকারী লেসলি গ্রফও কংগ্রেসে জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি এপস্টেইনকে ‘অত্যন্ত কৌশলী মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং দাবি করেন, তার অপরাধ সম্পর্কে তিনি জানতেন না।

গ্রফ জানান, এপস্টেইনের বিভিন্ন বৈঠক ও ম্যাসাজের সময়সূচি তিনি পরিচালনা করতেন, তবে এসব কার্যক্রমের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না।

এপস্টেইনের সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে বিল গেটস ও গ্রফের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপের ফাইনালে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন ট্রাম্প: ফিফা সভাপতি

এপস্টেইন কাণ্ডে অবশেষে মুখ খুললেন বিল গেটস

আপডেট সময় ১২:২৯:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

মার্কিন ধনকুবের ও মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস বলেছেন, যৌন অপরাধে দণ্ডিত জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের সময়ে তিনি কোনো অপরাধ প্রত্যক্ষ করেননি। তবে এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের উপস্থিতিতে তিনি পাশে থাকতে পারেন বলে স্বীকার করেছেন। এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নজরদারি কমিটির কাছে দেওয়া গোপন জিজ্ঞাসাবাদের নথিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে বিল গেটস দাবি করেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল শুধুই পেশাগত। তিনি কখনো কোনো যৌন হয়রানি বা অপরাধে অংশ নেননি এবং এ ধরনের কোনো ঘটনা দেখেননি।

তবে তদন্তকারীরা জানান, এপস্টেইনের কিছু কর্মীও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। এ কারণে গেটস কখনো ভুক্তভোগীদের আশপাশে ছিলেন না—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন বলে মন্তব্য করেন তারা।

এর জবাবে গেটস বলেন, বিষয়টি যৌক্তিক। তিনি স্বীকার করেন, এপস্টেইনের একটি বিমানে এক বৈঠকের শেষে কিছু নারী কর্মীকে তিনি দেখেছিলেন। তবে তারা ভুক্তভোগী ছিলেন কি না, তা তিনি জানতেন না।

গেটস জানান, ২০১১ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য খাতে অর্থ সংগ্রহের আগ্রহ দেখানোর মাধ্যমে এপস্টেইনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তখন তিনি জানতেন, এপস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের সাজা ছিল। তবুও সম্ভাব্য জনকল্যাণমূলক কাজের আশায় তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।

পরে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন গেটস। তিনি বলেন, এপস্টেইনের অতীত সম্পর্কে আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।

জিজ্ঞাসাবাদে গেটস আরও জানান, ২০১৪ সালে সম্পর্ক ছিন্ন করার পর এপস্টেইন তার ব্যক্তিগত জীবনের কিছু বিষয় ব্যবহার করে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে খরচ ফেরত চেয়েও বার্তা পাঠিয়েছিলেন এপস্টেইন। তবে গেটস জানান, তিনি কোনো অর্থ পরিশোধ করেননি।

এদিকে এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের সহকারী লেসলি গ্রফও কংগ্রেসে জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি এপস্টেইনকে ‘অত্যন্ত কৌশলী মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং দাবি করেন, তার অপরাধ সম্পর্কে তিনি জানতেন না।

গ্রফ জানান, এপস্টেইনের বিভিন্ন বৈঠক ও ম্যাসাজের সময়সূচি তিনি পরিচালনা করতেন, তবে এসব কার্যক্রমের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না।

এপস্টেইনের সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে বিল গেটস ও গ্রফের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।