সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিস না করার অভিযোগ ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর বিএডিসি’র প্রকল্প পরিচালক মুজিবরের দুনীতিতে তছনছ প্রকল্পের কর্যক্রম ব্যাংক খাতের সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক চোখ-মুখ ফুলে যাওয়ায় ভক্তদের উদ্বেগ, অসুস্থ সালমান খান? বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা কালুখালীর শিকজান বাজারে জুয়া ও মাদকবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত গজারিয়া সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মচারী জাকিরের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ সমাবেশ নওগাঁয় মানব পাচার প্রতিরোধ বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত মাদকমুক্ত প্রজন্ম গঠনে শিক্ষার ওপর জোর ডেপুটি স্পিকারের

বাপেক্সের রিগ ক্রয় টেন্ডারে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ রিগ ক্রয় প্রকল্পকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক সামনে এসেছে। প্রকল্পটির টেন্ডার প্রক্রিয়া, যোগ্যতা নির্ধারণের শর্ত এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট মহলের একটি অংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. ফজলুল হকের প্রশাসনিক ভূমিকা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া।
অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, প্রায় দুই হাজার অশ্বশক্তিসম্পন্ন এসি-এসি ভিএফডি ড্রিলিং রিগ ক্রয়ের টেন্ডারে এমন কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যা অনেক আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ও অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণকে সীমিত করতে পারে। তাদের ভাষ্য, প্রতিযোগিতা সীমিত হলে রাষ্ট্রের জন্য সর্বোত্তম মূল্য ও প্রযুক্তিগত সুবিধা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগও কমে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, টেন্ডার নথির অভিজ্ঞতাসংক্রান্ত শর্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে একটি আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে জানতে চাওয়া হয়, কেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মূল যন্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতাকে মূল্যায়নে পূর্ণাঙ্গভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা ছাড়াই মূল্যায়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, টেন্ডারের কিছু শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র সংকুচিত হয়। যদিও এ বিষয়ে বাপেক্সের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা জনসমক্ষে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপিত হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা ধরনের প্রশ্ন ও জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।
জ্বালানি খাতের পর্যবেক্ষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় অর্থে পরিচালিত বড় প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা মনে করেন, যেকোনো বিতর্ক এড়াতে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার যৌক্তিকতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি জনসমক্ষে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, অতীতে প্রকল্প বাস্তবায়নে সফলতা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতাও মূল্যায়নে গুরুত্ব পাওয়া উচিত। তাদের ভাষ্য, শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু শর্তের ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব আরোপ করলে প্রকৃত সক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যেতে পারে।
এদিকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে যে তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযোগ ও আপত্তি জানিয়েছে। অভিযোগকারীরা মনে করেন, বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা হলে বিতর্কের অবসান ঘটতে পারে। তারা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, পেট্রোবাংলা, সিপিটিইউ এবং অন্যান্য তদারকি সংস্থার মাধ্যমে স্বাধীন পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের প্রকল্পে যে কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও তদারকি সংস্থার। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দায়ী করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি উত্থাপিত প্রশ্নগুলোও উপেক্ষা করা উচিত নয়। সুশাসনের স্বার্থে প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা।
বর্তমানে আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠেছে—টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রকৃত প্রতিযোগিতা কতটা নিশ্চিত হয়েছে, মূল্যায়নের মানদণ্ড কতটা যৌক্তিক ছিল এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী অবস্থান গ্রহণ করবে। তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনার মাধ্যমে এসব প্রশ্নের উত্তর সামনে এলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিস না করার অভিযোগ

বাপেক্সের রিগ ক্রয় টেন্ডারে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

আপডেট সময় ১২:৩০:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ রিগ ক্রয় প্রকল্পকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক সামনে এসেছে। প্রকল্পটির টেন্ডার প্রক্রিয়া, যোগ্যতা নির্ধারণের শর্ত এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট মহলের একটি অংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. ফজলুল হকের প্রশাসনিক ভূমিকা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া।
অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, প্রায় দুই হাজার অশ্বশক্তিসম্পন্ন এসি-এসি ভিএফডি ড্রিলিং রিগ ক্রয়ের টেন্ডারে এমন কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যা অনেক আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ও অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণকে সীমিত করতে পারে। তাদের ভাষ্য, প্রতিযোগিতা সীমিত হলে রাষ্ট্রের জন্য সর্বোত্তম মূল্য ও প্রযুক্তিগত সুবিধা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগও কমে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, টেন্ডার নথির অভিজ্ঞতাসংক্রান্ত শর্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে একটি আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে জানতে চাওয়া হয়, কেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মূল যন্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতাকে মূল্যায়নে পূর্ণাঙ্গভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা ছাড়াই মূল্যায়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, টেন্ডারের কিছু শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র সংকুচিত হয়। যদিও এ বিষয়ে বাপেক্সের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা জনসমক্ষে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপিত হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা ধরনের প্রশ্ন ও জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।
জ্বালানি খাতের পর্যবেক্ষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় অর্থে পরিচালিত বড় প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা মনে করেন, যেকোনো বিতর্ক এড়াতে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার যৌক্তিকতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি জনসমক্ষে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, অতীতে প্রকল্প বাস্তবায়নে সফলতা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতাও মূল্যায়নে গুরুত্ব পাওয়া উচিত। তাদের ভাষ্য, শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু শর্তের ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব আরোপ করলে প্রকৃত সক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যেতে পারে।
এদিকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে যে তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযোগ ও আপত্তি জানিয়েছে। অভিযোগকারীরা মনে করেন, বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা হলে বিতর্কের অবসান ঘটতে পারে। তারা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, পেট্রোবাংলা, সিপিটিইউ এবং অন্যান্য তদারকি সংস্থার মাধ্যমে স্বাধীন পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের প্রকল্পে যে কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও তদারকি সংস্থার। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দায়ী করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি উত্থাপিত প্রশ্নগুলোও উপেক্ষা করা উচিত নয়। সুশাসনের স্বার্থে প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা।
বর্তমানে আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠেছে—টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রকৃত প্রতিযোগিতা কতটা নিশ্চিত হয়েছে, মূল্যায়নের মানদণ্ড কতটা যৌক্তিক ছিল এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী অবস্থান গ্রহণ করবে। তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনার মাধ্যমে এসব প্রশ্নের উত্তর সামনে এলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।