ঢাকা ১২:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কাস্টমস কর্মকর্তা কাজী সুলতানা দম্পতির ‘সম্পদের পাহাড়’, উঠছে দুর্নীতির অভিযোগ কাস্টমসের সহকারী কমিশনার আতীকুজ্জামানের নামে-বেনামে ৫০ কোটি টাকার সম্পদ মাদারীপুর বিআরটিএর সামসুদ্দীনের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় ৪৮৫ গ্রেপ্তার, মামলা ৫০ স্টার্ক-আফ্রিদিকে ছাড়িয়ে নতুন কীর্তি রশিদ খানের বরগুনার উন্নয়নই আমাদের অঙ্গীকার: চীফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি ড্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ র‍্যাবের নাম বদলে আসছে এসআরবি অফিস টাইমে ক্লিনিকে রোগী দেখছিলেন সরকারি চিকিৎসক, লাইসেন্স বাতিল ও বরখাস্তের নির্দেশ

ভূমি কর্মকর্তা হাবিবুজ্জামান জিয়ার বিরুদ্ধে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

নওগাঁয় হাবিবুজ্জামান জিয়া নামের এক ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি ও জালিয়াতি করে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া এলাকায় ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে জোর করে পুকুর দখলে নেওয়ারও অভিযোগ আছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

হাবিবুজ্জামান জিয়া নওগাঁ পৌরসভা-চণ্ডিপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। গত ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট ওই ভূমি অফিসে যোগদান করেন তিনি। অভিযোগ উঠেছে তিনি যখন যে অফিসে দায়িত্ব পালন করেন সেখানে গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। নামজারিসহ ভূমি সংক্রান্ত কাজ করতে গেলেই তাকে দিতে হয় অতিরিক্ত টাকা। এমনকি টাকা দিলে ভুয়া খতিয়ান দিয়েও হয় জমির খারিজ। এ ভাবেই অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন তিনি।

সম্প্রতি খাদেমুল ইসলাম ও একটা মাদরাসার জমি খারিজ করতে ১০ লাখ টাকা ঘুস দাবি, ও ঘুষের এক লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে আলোচনায় আসেন জিয়া। এরপর গত মে মাসে একাধিক সংবাদ মাধ্যমে নিউজ প্রকাশিত হয়। তবে নিউজ প্রকাশের ৩ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তিনি আছেন বহাল তবিয়তে।

জানা গেছে, সম্প্রতি নওগাঁ শহরের প্রাণকেন্দ্র কাজির মোড়ে অবস্থিত ‘ডক্টর হাইটস’ নামের দশ তলা বিল্ডিংয়ের ছয় তলায় ৬১ লাখ টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন জিয়া। এদিকে ২০২১ সালে হাবিবুজ্জামান ও তার বোনের যৌথ নামে নওগাঁ শহরের চকদেব মৌজায় ৬৭৫ দাগে ৩ শতক জমি কেনা হয়। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় কোটি টাকা। এ ছাড়া চাকরির পর তার গ্রামের বাড়ি নারচি ও পুটিমারি মৌজায় জিয়া প্রায় ৬-৭ বিঘা জমি কিনেছেন।

ফ্ল্যাট কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই বিল্ডিংয়ে দায়িত্বে থাকা একাধিক ব্যক্তি। তারা বলেন, এই ভবনের ৬ তলায় দুই মাস আগে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন তহশিলদার জিয়া। সম্ভবত ৬১ লাখ দিয়ে নিয়েছেন। এখন তিনি পরিবার সহ এ বাসাতেই থাকেন। ডক্টর হাউস নামক বিল্ডিংয়ের কেয়ারটেকার সাবু বলেন, দুই মাস আগে টিডিআর জিয়াকে আমি ৬১ লাখ টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কিনে দিয়েছি। একজন ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হয়ে কীভাবে কোটি টাকার মালিক হওয়া সম্ভব এমন প্রশ্নই এখন পুরো জেলা জুড়ে।

অন্যদিকে এর আগে তিনি সদর উপজেলার হাপানিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে উপ-সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন একটি ভুয়া খতিয়ান দিয়ে খারিজ অনুমোদন করে দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে হয়নি কোনো ব্যবস্থা। যার ফলে ঘুষ বাণিজ্যে বেপরোয়া হয়ে উঠেন এই ভূমি কর্মকর্তা।

পুকুর দখলের বিষয়ে নারচি গ্রামের ভুক্তভোগী মোস্তফা বলেন, আমাদের শরিকানা পুকুর দখল করে নিয়েছে জিয়া। ওই পুকুরটার ১৩ ভাগের মধ্যে জিয়ার এক ভাগ ছিল। পরে সে একাই মালিকানা দাবি করেন। লোক ভাড়া করে নিয়ে এসে আমাদের মারপিট করে পুকুর দখল নেন। আমার মাথা ফেটে দিয়ে উল্টো আমাদের নামেই মামলা করেন। কোর্টে সমাধানের নামে আমাদের জোর করে না-দাবির সই করে নেন জিয়া ও তার লোকজন।

ভুক্তভোগী মোস্তফার পরিবারের অন্য সদস্যরা জানান, টিডিআর হওয়ার কারণে বর্তমানে এই গ্রামের মধ্যে জিয়া বহু টাকার মালিক বনে গেছেন। অন্যায় ভাবে আমাদের পুকুর দখল করে নিয়েছেন। পাশেই আরও একটি পুকুরের অংশ কিনে সেখানেও গন্ডগোল বাঁধিয়ে ওই পুকুরেও কাউকে নামতে দেন না। স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন, ওই পুকুরের রেকর্ড ভুল হয়ে ৭২ সালে এসে জিয়ার দাদা সায়েদ আলী ফকিরসহ তিন জন মালিক হন। তারা নাকি রাজার কাছ থেকে কিনে নিয়েছেন। এই মূলেই জিয়া দখল করেছেন। কিন্তু ঐ পুকুরের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেন নি।

তিনি আরও বলেন, জিয়ার বাবারা অনেক ভাই-বোন। তাদের প্রায় ৪০-৪৫ বিঘা জমি ছিল। এরমধ্যে ৬-৭ বিঘা করে ভাগ পাবে জিয়ার বাবা। জিয়া’রা আবার তিন ভাই-বোন। তবে জিয়া চাকরির পর অনেক জমি করেছে, অনেক অর্থ হয়েছে। নজিপুরে ৫২ বিঘার একটা দিঘী লিজ নিয়ে চাষ করেন। স্থানীয় পারভিন নামের এক নারীর আরেকটি পুকুর দেখিয়ে জানালেন, এই পুকুরের পাশে জিয়া ২ বিঘা জমি কিনেছেন। এখানে জমি কেনার পর পুরো পুকুরটা একাই দখল করে নিয়েছেন। কাউকে পুকুরে যেতে দেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানালেন, জিয়া এক সময় অন্যের সহযোগিতা নিয়ে তার চিকিৎসা করেছেন। ২০১১ সালে চাকরি হওয়ার পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি, হয়েছেন আঙুল ফুলে কলা গাছ। এখন কালো টাকা সাদা করতে যোগ দিয়েছেন পুকুরের ব্যবসায়।

অভিযোগের বিষয়ে মোবাইলফোনে জানতে চাইলে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা হাবিবুজ্জামান জিয়া নিজেকে ব্যস্ত দেখিয়ে পরে কথা বলতে চাইলেন। এরপর একাধিকবার খুদে বার্তা ও কল করা হলেও তিনি কোনো রেসপন্স করেননি। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাস্টমস কর্মকর্তা কাজী সুলতানা দম্পতির ‘সম্পদের পাহাড়’, উঠছে দুর্নীতির অভিযোগ

ভূমি কর্মকর্তা হাবিবুজ্জামান জিয়ার বিরুদ্ধে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

আপডেট সময় ১২:০৫:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

নওগাঁয় হাবিবুজ্জামান জিয়া নামের এক ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি ও জালিয়াতি করে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া এলাকায় ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে জোর করে পুকুর দখলে নেওয়ারও অভিযোগ আছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

হাবিবুজ্জামান জিয়া নওগাঁ পৌরসভা-চণ্ডিপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। গত ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট ওই ভূমি অফিসে যোগদান করেন তিনি। অভিযোগ উঠেছে তিনি যখন যে অফিসে দায়িত্ব পালন করেন সেখানে গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। নামজারিসহ ভূমি সংক্রান্ত কাজ করতে গেলেই তাকে দিতে হয় অতিরিক্ত টাকা। এমনকি টাকা দিলে ভুয়া খতিয়ান দিয়েও হয় জমির খারিজ। এ ভাবেই অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন তিনি।

সম্প্রতি খাদেমুল ইসলাম ও একটা মাদরাসার জমি খারিজ করতে ১০ লাখ টাকা ঘুস দাবি, ও ঘুষের এক লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে আলোচনায় আসেন জিয়া। এরপর গত মে মাসে একাধিক সংবাদ মাধ্যমে নিউজ প্রকাশিত হয়। তবে নিউজ প্রকাশের ৩ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তিনি আছেন বহাল তবিয়তে।

জানা গেছে, সম্প্রতি নওগাঁ শহরের প্রাণকেন্দ্র কাজির মোড়ে অবস্থিত ‘ডক্টর হাইটস’ নামের দশ তলা বিল্ডিংয়ের ছয় তলায় ৬১ লাখ টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন জিয়া। এদিকে ২০২১ সালে হাবিবুজ্জামান ও তার বোনের যৌথ নামে নওগাঁ শহরের চকদেব মৌজায় ৬৭৫ দাগে ৩ শতক জমি কেনা হয়। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় কোটি টাকা। এ ছাড়া চাকরির পর তার গ্রামের বাড়ি নারচি ও পুটিমারি মৌজায় জিয়া প্রায় ৬-৭ বিঘা জমি কিনেছেন।

ফ্ল্যাট কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই বিল্ডিংয়ে দায়িত্বে থাকা একাধিক ব্যক্তি। তারা বলেন, এই ভবনের ৬ তলায় দুই মাস আগে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন তহশিলদার জিয়া। সম্ভবত ৬১ লাখ দিয়ে নিয়েছেন। এখন তিনি পরিবার সহ এ বাসাতেই থাকেন। ডক্টর হাউস নামক বিল্ডিংয়ের কেয়ারটেকার সাবু বলেন, দুই মাস আগে টিডিআর জিয়াকে আমি ৬১ লাখ টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কিনে দিয়েছি। একজন ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হয়ে কীভাবে কোটি টাকার মালিক হওয়া সম্ভব এমন প্রশ্নই এখন পুরো জেলা জুড়ে।

অন্যদিকে এর আগে তিনি সদর উপজেলার হাপানিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে উপ-সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন একটি ভুয়া খতিয়ান দিয়ে খারিজ অনুমোদন করে দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে হয়নি কোনো ব্যবস্থা। যার ফলে ঘুষ বাণিজ্যে বেপরোয়া হয়ে উঠেন এই ভূমি কর্মকর্তা।

পুকুর দখলের বিষয়ে নারচি গ্রামের ভুক্তভোগী মোস্তফা বলেন, আমাদের শরিকানা পুকুর দখল করে নিয়েছে জিয়া। ওই পুকুরটার ১৩ ভাগের মধ্যে জিয়ার এক ভাগ ছিল। পরে সে একাই মালিকানা দাবি করেন। লোক ভাড়া করে নিয়ে এসে আমাদের মারপিট করে পুকুর দখল নেন। আমার মাথা ফেটে দিয়ে উল্টো আমাদের নামেই মামলা করেন। কোর্টে সমাধানের নামে আমাদের জোর করে না-দাবির সই করে নেন জিয়া ও তার লোকজন।

ভুক্তভোগী মোস্তফার পরিবারের অন্য সদস্যরা জানান, টিডিআর হওয়ার কারণে বর্তমানে এই গ্রামের মধ্যে জিয়া বহু টাকার মালিক বনে গেছেন। অন্যায় ভাবে আমাদের পুকুর দখল করে নিয়েছেন। পাশেই আরও একটি পুকুরের অংশ কিনে সেখানেও গন্ডগোল বাঁধিয়ে ওই পুকুরেও কাউকে নামতে দেন না। স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন, ওই পুকুরের রেকর্ড ভুল হয়ে ৭২ সালে এসে জিয়ার দাদা সায়েদ আলী ফকিরসহ তিন জন মালিক হন। তারা নাকি রাজার কাছ থেকে কিনে নিয়েছেন। এই মূলেই জিয়া দখল করেছেন। কিন্তু ঐ পুকুরের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেন নি।

তিনি আরও বলেন, জিয়ার বাবারা অনেক ভাই-বোন। তাদের প্রায় ৪০-৪৫ বিঘা জমি ছিল। এরমধ্যে ৬-৭ বিঘা করে ভাগ পাবে জিয়ার বাবা। জিয়া’রা আবার তিন ভাই-বোন। তবে জিয়া চাকরির পর অনেক জমি করেছে, অনেক অর্থ হয়েছে। নজিপুরে ৫২ বিঘার একটা দিঘী লিজ নিয়ে চাষ করেন। স্থানীয় পারভিন নামের এক নারীর আরেকটি পুকুর দেখিয়ে জানালেন, এই পুকুরের পাশে জিয়া ২ বিঘা জমি কিনেছেন। এখানে জমি কেনার পর পুরো পুকুরটা একাই দখল করে নিয়েছেন। কাউকে পুকুরে যেতে দেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানালেন, জিয়া এক সময় অন্যের সহযোগিতা নিয়ে তার চিকিৎসা করেছেন। ২০১১ সালে চাকরি হওয়ার পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি, হয়েছেন আঙুল ফুলে কলা গাছ। এখন কালো টাকা সাদা করতে যোগ দিয়েছেন পুকুরের ব্যবসায়।

অভিযোগের বিষয়ে মোবাইলফোনে জানতে চাইলে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা হাবিবুজ্জামান জিয়া নিজেকে ব্যস্ত দেখিয়ে পরে কথা বলতে চাইলেন। এরপর একাধিকবার খুদে বার্তা ও কল করা হলেও তিনি কোনো রেসপন্স করেননি। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।