কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের অস্তিত্ব রক্ষা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও বন্ধ ট্যানারি চালুর দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা।
শনিবার (৯ মে) নগরীর আতুরার ডিপো এলাকায় সংগঠনটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতারা এ দাবি তোলেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সভাপতি মুসলিম উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুস ও সহ-সভাপতি মুহাম্মদ শাহজাহান।
তারা বলেন, কোরবানির ঈদের আগে সরকার ঢাকায় লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬০-৬৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫০-৫৫ টাকা নির্ধারণ করলেও কোরবানির পর ট্যানারি মালিকদের কাছে সেই চামড়া ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন ব্যবসায়ীরা। এতে গত কয়েক বছর ধরে চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
তারা জানান, বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির ১১২ জন সদস্যসহ আগে প্রায় ১৪০ থেকে ১৫০ জন ব্যবসায়ী চামড়া ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কিন্তু ধারাবাহিক লোকসানের কারণে বর্তমানে এ সংখ্যা কমে ৩০ থেকে ৪০ জনে নেমে এসেছে। অনেক ব্যবসায়ী দেউলিয়া হয়ে পড়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, রমজানের ঈদের পর থেকে বর্তমান বাজারদরের ভিত্তিতে ট্যানারি মালিক সমিতি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কোরবানির চামড়ার দাম নির্ধারণ করে তা ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচার করা উচিত। পাশাপাশি নির্ধারিত দামে চামড়া ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে কি না তা তদারকির জন্য মনিটরিং সেল গঠনের দাবি জানানো হয়।
সমিতির নেতারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে চট্টগ্রামের মদিনা ট্যানারিসহ দেশের বন্ধ ট্যানারিগুলো দ্রুত চালুর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। দেশে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ট্যানারি থাকলেও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ইটিপি ও এলডব্লিউজি সনদ রয়েছে মাত্র কয়েকটি ট্যানারির। এর মধ্যে চট্টগ্রামের রীফ লেদার, যশোরের এএসএফ ট্যানারি, খুলনার সুপারেক্স ট্যানারি, ঢাকার এপেক্স ফুটওয়্যার ও অস্তিত্ব ট্যানারির নাম উল্লেখ করা হয়। আন্তর্জাতিক মানের সনদ বাড়ানো গেলে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে আরও বেশি চামড়া রপ্তানি করতে সক্ষম হবে বলেও মত দেন তারা।
সম্মেলনে আরও বলা হয়, বৃহত্তর চট্টগ্রাম কোরবানির সময় দেশের অন্যতম বড় লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার বাজার। ব্যবসায়ীরা ধার-দেনা করে নগদ ও বাকিতে চামড়া কিনে তা সংরক্ষণ করেন। কিন্তু কোরবানির পর ঢাকার বড় ক্রেতারা চট্টগ্রামে না আসায় বিপাকে পড়তে হয় ব্যবসায়ীদের। গত বছর রীফ লেদার, বায়না লেদার, পানা লেদার, গোল্ডেন গ্রুপ ও ইস্টার্ন লেদার কিছু চামড়া কিনলেও বিপুল পরিমাণ চামড়া কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এ সময় ঢাকার ট্যানারি মালিকদের চট্টগ্রামমুখী হয়ে কোরবানির চামড়া ক্রয়ের আহ্বান জানান তারা। এছাড়া প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতি পশুর লাম্পি, অ্যানথ্রাক্স ও ক্ষুরারোগসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন ও ওষুধ সরবরাহের দাবি জানানো হয়। ব্যবসায়ীদের মতে, এসব রোগের কারণে পশুর চামড়া নষ্ট হয়ে চামড়া শিল্প বড় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















