ঢাকা ১০:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেরোবিতে চার দিনব্যাপী শহিদ আবু সাঈদ বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠিত ১০ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে ভিক্ষা চাই, রাস্তাটা করে দিন ফেনীতে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন সফল করতে এএইএফআইওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত ফেনীতে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিপণনে শৃঙ্খলা রক্ষায় জরুরি সভা অনুষ্ঠিত চার সিটিতে লক্ষ্যমাত্রার ৯২ শতাংশ শিশুর টিকা সম্পন্ন ৩ কোটি টাকা দিয়ে বদলি! এক বছরে ২০ কোটির সম্পদের অভিযোগ সাব-রেজিস্ট্রার জাকিরের বিরুদ্ধে হয়তোবা আরো ৩ বছর জাতীয় দলে খেলতে পারতাম : রুবেল ট্রাম্পের চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না যুক্তরাজ্য বিশ্বকাপের আগে দুঃসংবাদ পেল ফ্রান্স বিশ্বকাপের আগে দুঃসংবাদ পেল ফ্রান্স

যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ ‘২৭ হাজার কোটি ডলার’ চায় ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ইরানের। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনার আগে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটি। খবর আল জাজিরার।

ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ২৭ হাজার কোটি ডলার) ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিয়ে ইসলামাবাদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে।

জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি অভিযোগ করেছেন, ৫টি দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তাই এসব দেশকেও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। দেশগুলো হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার এবং জর্ডান।

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে সামরিক স্থাপনা, তেল ও গ্যাস স্থাপনা, পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা ও ইস্পাত-অ্যালুমিনিয়ামের কারখানা। এসব স্থাপনা ঠিক করতে বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছে ইরান।

এছাড়া দেশটির সেতু, বন্দর, রেললাইন, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা কেন্দ্র, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি শোধনাগারও হামলার শিকার হয়েছে। বহু হাসপাতাল, স্কুল ও আবাসিক ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে বিমান খাতেও বড় ক্ষতি হয়েছে। ইরানের বিমান সংস্থাগুলোর সংগঠন জানিয়েছে, অন্তত ৬০টি বেসামরিক বিমান অচল হয়ে গেছে, যার মধ্যে ২০টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

দেশটির পার্লামেন্টের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা উচিত নয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পুনরায় শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ পাবে বলে তিনি মনে করেন।

ইরান ক্ষতিপূরণ আদায়ের একটি নতুন প্রস্তাবও দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর কর আরোপ করে ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে, ইরানের ক্ষতিপূরণ দাবি এবং কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতের কূটনৈতিক আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বেরোবিতে চার দিনব্যাপী শহিদ আবু সাঈদ বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠিত

যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ ‘২৭ হাজার কোটি ডলার’ চায় ইরান

আপডেট সময় ০৭:১৬:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ইরানের। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনার আগে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটি। খবর আল জাজিরার।

ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ২৭ হাজার কোটি ডলার) ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিয়ে ইসলামাবাদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে।

জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি অভিযোগ করেছেন, ৫টি দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তাই এসব দেশকেও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। দেশগুলো হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার এবং জর্ডান।

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে সামরিক স্থাপনা, তেল ও গ্যাস স্থাপনা, পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা ও ইস্পাত-অ্যালুমিনিয়ামের কারখানা। এসব স্থাপনা ঠিক করতে বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছে ইরান।

এছাড়া দেশটির সেতু, বন্দর, রেললাইন, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা কেন্দ্র, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি শোধনাগারও হামলার শিকার হয়েছে। বহু হাসপাতাল, স্কুল ও আবাসিক ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে বিমান খাতেও বড় ক্ষতি হয়েছে। ইরানের বিমান সংস্থাগুলোর সংগঠন জানিয়েছে, অন্তত ৬০টি বেসামরিক বিমান অচল হয়ে গেছে, যার মধ্যে ২০টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

দেশটির পার্লামেন্টের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা উচিত নয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পুনরায় শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ পাবে বলে তিনি মনে করেন।

ইরান ক্ষতিপূরণ আদায়ের একটি নতুন প্রস্তাবও দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর কর আরোপ করে ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে, ইরানের ক্ষতিপূরণ দাবি এবং কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতের কূটনৈতিক আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।