ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে : সারজিস আলম যাদের কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা উপদেষ্টা হয়েছিল : পার্থ ভারতে যাওয়ার সময় কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার হাসিনা কোনো বক্তব্য দিলে দায় নেবে না ভারত: রণধীর জয়সওয়াল আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই সংবিধান সংশোধন করা হবে : চিফ হুইপ জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী ‘তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে ২৮ দিনের সন্তান নিয়ে উধাও গৃহবধূ

কারখানা স্থানান্তরে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর ক্ষতি ৭১৫ কোটি টাকা

ঢাকার কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং তা সাভারের আশুলিয়ায় স্থানান্তরের কারণে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিটির এতে এককালীন প্রায় ৭১৫ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বড় এই আর্থিক ক্ষতির ফলে সর্বশেষ গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের মুনাফায়ও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

কোম্পানিটির ২০২৫ হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদনের নিরীক্ষক গতকাল বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) তাদের মতামত জানিয়েছে। ওই মতামতে নিরীক্ষক জানায়, বিএটি বাংলাদেশ আলোচিত হিসাব বছরে কারখানা পুনর্গঠন ও স্থানান্তরের পেছনে মোট ৭১৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে, যার মধ্যে বড় একটি অংশ (৩৭৫ কোটি টাকা) স্থায়ী সম্পদের অবলোপনজনিত কারণে ব্যয় হয়েছে। এতে কোম্পানির আলোচিত বছরের মুনাফায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

গত বছরের জুনে সুপ্রিম কোর্ট জমির ইজারা চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পর কোম্পানিটির ঢাকার কারখানাটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় বিএটি বাংলাদেশ। একইসঙ্গে মহাখালী ডিওএইচএস থেকে তাদের প্রধান কার্যালয় সাভারের আশুলিয়ায় সরিয়ে নেওয়া হয়।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকার কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্তের পর সাভারের কারখানায় উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ২৯৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে কোম্পানিটি। ২০২৫ সালের বার্ষিক ডিভিডেন্ড ঘোষণার সময় কোম্পানিটি জানায়, গত বছরের জুলাই থেকে ঢাকার কারখানার সব যন্ত্রাংশ ও সিগারেট তৈরির সরঞ্জাম সাভারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আকস্মিক কারখানা বন্ধ, স্থানান্তর এবং পুনর্গঠনের ফলে ৭১৫ কোটির এই বড় ক্ষতি কোম্পানির মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ হিসাব বছরে বিএটি বাংলাদেশের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ১০ টাকা ৮১ পয়সা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬৭ শতাংশ কম। আগের হিসাব বছরে ইপিএস হয়েছিল ৩২ টাকা ৪২ পয়সা। মুনাফায় এই বড় পতন হওয়ায় ২০২৫ হিসাব বছরে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের মাত্র ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে। আগের হিসাব বছরে কোম্পানিটি ৩০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিলো।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার

কারখানা স্থানান্তরে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর ক্ষতি ৭১৫ কোটি টাকা

আপডেট সময় ১২:৫৯:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকার কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং তা সাভারের আশুলিয়ায় স্থানান্তরের কারণে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিটির এতে এককালীন প্রায় ৭১৫ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বড় এই আর্থিক ক্ষতির ফলে সর্বশেষ গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের মুনাফায়ও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

কোম্পানিটির ২০২৫ হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদনের নিরীক্ষক গতকাল বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) তাদের মতামত জানিয়েছে। ওই মতামতে নিরীক্ষক জানায়, বিএটি বাংলাদেশ আলোচিত হিসাব বছরে কারখানা পুনর্গঠন ও স্থানান্তরের পেছনে মোট ৭১৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে, যার মধ্যে বড় একটি অংশ (৩৭৫ কোটি টাকা) স্থায়ী সম্পদের অবলোপনজনিত কারণে ব্যয় হয়েছে। এতে কোম্পানির আলোচিত বছরের মুনাফায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

গত বছরের জুনে সুপ্রিম কোর্ট জমির ইজারা চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পর কোম্পানিটির ঢাকার কারখানাটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় বিএটি বাংলাদেশ। একইসঙ্গে মহাখালী ডিওএইচএস থেকে তাদের প্রধান কার্যালয় সাভারের আশুলিয়ায় সরিয়ে নেওয়া হয়।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকার কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্তের পর সাভারের কারখানায় উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ২৯৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে কোম্পানিটি। ২০২৫ সালের বার্ষিক ডিভিডেন্ড ঘোষণার সময় কোম্পানিটি জানায়, গত বছরের জুলাই থেকে ঢাকার কারখানার সব যন্ত্রাংশ ও সিগারেট তৈরির সরঞ্জাম সাভারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আকস্মিক কারখানা বন্ধ, স্থানান্তর এবং পুনর্গঠনের ফলে ৭১৫ কোটির এই বড় ক্ষতি কোম্পানির মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ হিসাব বছরে বিএটি বাংলাদেশের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ১০ টাকা ৮১ পয়সা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬৭ শতাংশ কম। আগের হিসাব বছরে ইপিএস হয়েছিল ৩২ টাকা ৪২ পয়সা। মুনাফায় এই বড় পতন হওয়ায় ২০২৫ হিসাব বছরে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের মাত্র ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে। আগের হিসাব বছরে কোম্পানিটি ৩০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিলো।