ঢাকা ০৫:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় এমপিদের বৈঠক হাইওয়ের পাশে টিকিট কাউন্টার থাকবে না : সড়কমন্ত্রী এবার সরকারি ডিপোতে মিলল তেলের অবৈধ মজুত, অভিযানের খবরে পালালেন ম্যানেজার ৬০ কোটি টাকার বিনিময়ে এলজিইডির শীর্ষ পদে রশিদ মিয়া গোপালগঞ্জের মেডিকেল এলাকায় অবৈধ দোকান উচ্ছেদের পর ফের দখল  দুর্ভোগে রোগী-স্বজনদের  নবীন ফ্যাশন বন্ধের ঘটনায় হাতিরঝিল থানার ওসির ক্ষমা প্রার্থনা রাজধানীতে শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, পাশে পড়ে ছিল মদের বোতল বরিশালে যাত্রীবাহী বাস উল্টে খাদে, নারী নিহত সৌদিতে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বিমান ধ্বংস করে দিলো ইরান বিনা অনুমতিতে হাওরের বাঁধ কাটলে আইনি ব্যবস্থা, সতর্ক করল প্রশাসন
মৎস্যজীবী দল নেতা বুশের প্রতারণা

গোদাগাড়ীতে স্বাক্ষর জাল ও একই ফোন নম্বরে ১৩ খাস পুকুর ইজারা

রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সভাপতি বেলাল উদ্দিন ওরফে বুশ সরকারি খাস পুকুর ইজারা গ্রহণে ভয়াবহ জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। আর এ গুরুতর অনিয়মে সহযোগী হিসাবে কাজ করেছেন তারই কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃত মৎস্যজীবীরা বঞ্চিত হওয়ায় তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ এবং অসন্তোষ।
মৎস্যজীবী দল নেতা বেলাল উদ্দিন বুশ বিভিন্ন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতির স্বাক্ষর জাল এবং তার নিজের ব্যবহৃত একই মোবাইল ফোন নম্বর ব্যবহার করে ১৩টি সরকারি খাস পুকুর ইজারার অনুমোদন নিয়েছেন। আর বুশ এবং তার কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুন পুকুরগুলো বর্তমানে তৃতীয়পক্ষের কাছে বিক্রির পরিকল্পনায় রয়েছেন।
চেষ্টায় রয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার। ইতোমধ্যে অধিকাংশ পুকুরের রাজস্বের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংকের মাধ্যমে ট্রেজারি চালানও দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রমাণাদি ইতোমধ্যে হাতে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৪৩৩ থেকে ১৪৩৫ বাংলা সনে তিন বছরের মেয়াদে সরকারি খাস পুকুর ইজারা প্রদানের জন্য ৪ জানুয়ারি গোদাগাড়ী উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এ বিজ্ঞপ্তিতে উপজেলার ১৮৫টি খাস পুকুর ইজারা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৬ মার্চ উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রকাশিত অনুমোদিত তালিকায় ৪২, ৫০, ৫২, ৬৪, ৬৮, ৭৬, ৮৮, ১০৬, ১১৯, ১২১, ১২৩, ১৫১ ও ১৬৬ নম্বর ক্রমিকের পুকুর ইজারার অনুমোদনের ক্ষেত্রে মৎস্যজীবী দল নেতা বেলাল উদ্দিন বুশের মোবাইল ফোন নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মৎস্যজীবী সমিতিগুলোর সভাপতির স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।
অনুমোদিত তালিকার ৪২ এবং ৬৮ নম্বর ক্রমিকের পুকুর দুটি জোত জীবন পশ্চিমপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড, তানোরের নামে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ দুটি সমিতির সভাপতি হিসাবে মো. আলাউদ্দিনের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। তালিকার ৫০ নম্বর পুকুরটি বিল্লী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড তানোরের নামে বরাদ্দ রয়েছে। এর সভাপতি আইনাল হক।
৫২ নম্বর পুকুরটি ফকিরনি নদী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড বাগমারার নামে বরাদ্দ। এর সভাপতি নম্বুল হালদার। ৬৪ নম্বর পুকুরটি দ্বীপ নগর উত্তরপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড বাগমারার নামে বরাদ্দ। এর সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস। ৭৬ নম্বর পুকুরটি ইউসুফপুর টাংগন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড চারঘাটের নামে বরাদ্দ। এর সভাপতি মুনছুর রহমান।
এছাড়া ৮৮ নম্বর পুকুরটি রাওথা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড চারঘাটের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর সভাপতি এনামুল হক। ১০৬ নম্বর পুকুরটি বিল্লী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড তানোরের নামে বরাদ্দ। এটির সভাপতিও আইনাল হক। ১১৯ নম্বর পুকুরটি বিলশনি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড বাগমারার নামে বরাদ্দ। এর সভাপতি খলিলুর রহমান। ১২১ নম্বর পুকুরটি ফাতেহাপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড তানোরের নামে বরাদ্দ। এর সভাপতি আলমগীর। ১২৩ নম্বর পুকুরটি বিলপনি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড বাগমারার নামে বরাদ্দ। এর সভাপতি খলিলুর রহমান।
তাছাড়া ১৫১ নম্বর তালিকার পুকুরটি ইউসুফপুর টাংগন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড চারঘাটের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর সভাপতি মুনছুর রহমান। সর্বশেষ ১৬৬ নম্বর পুকুরটি ফাতেহাপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড তানোরের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর সভাপতি আলমগীর।
১৩টি পুকুর ইজারা অনুমোদনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত মৎস্যজীবী দল নেতা বুশ এবং হারুনের বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। বুশ গোদাগাড়ী মৎস্য কার্যালয় থেকে মৎস্যজীবীদের প্রকৃত কার্ড না থাকা সত্ত্বেও দলের দাপট দেখিয়ে পুকুর ইজারায় অংশ নেওয়ার জন্য সদ্য বাতিলকৃত হাটপুকুর রাজারামপুর মৎস্যজীবী সমিতির নামে প্রত্যয়নপত্র নিয়েছেন।
এছাড়া চলতি ইজারা প্রক্রিয়ায় রাজারামপুর মৌজার ২১ ও ২৯ নম্বর দাগে মাধবপুর এবং একতা নামের দুটি মৎস্যজীবী সমিতি ৩.৬৬ ও ৩.৬৯ একরের দুটি বড় পুকুর ইজারার জন্য আবেদন করে। কিন্তু মৎস্যজীবী দল নেতা বুশ জেলা সমবায় কার্যালয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও সমিতি দুটির নিবন্ধন বাতিল করিয়ে দেন।
অভিযোগ রয়েছে, বুশকে এসব কাজে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করছেন তার কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুন। হারুন প্রকৃত মৎস্যজীবী না হওয়া সত্ত্বেও ভুয়া মৎস্যজীবী কার্ড ও ঠিকানা ব্যবহার করে আমতলা উত্তরপাড়া মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি হয়েছেন। চলতি ইজারা প্রক্রিয়ায় তিনিও আইহাই এলাকায় ১.৮৬ একর আয়তনের একটি বড় পুকুর ভুয়া অনলাইন কপি ব্যবহার করে ইজারা নিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি তার সমিতির কার্যালয়ের চুক্তিপত্রের দাতা অর্থাৎ ভাড়াটিয়ার ভুয়া নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। এরপর সেই চুক্তিপত্র সমবায় কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য গোদাগাড়ী পৌরসভা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি বেলাল উদ্দিন বুশ পুকুর ইজারা নেওয়ার ক্ষেত্রে তার ব্যবহৃত যে মোবাইল ফোন নম্বর ব্যবহার করেছেন, সেটিতে ফোন করা হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমার ফোন নম্বর ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছুই জানি না। আমি গত দুই মাস থেকে অসুস্থ। আমি কারও স্বাক্ষর জালও করিনি।
তবে হাট রাজারামপুর মৎস্যজীবী সমিতির প্রত্যয়ন নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, দুই মাস আগে আবেদন করেছিলাম। দুটি পুকুর পাওয়ার জন্য এটি করেছিলাম। তবে সেটি বাতিল হয়ে গেছে। কারণ সেটির ঠিকানা সঠিক ছিল না। আর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাধবপুর এবং একতা নামের দুটি মৎস্যজীবী সমিতির নিবন্ধন বাতিলের যে অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে করা হচ্ছে, সেটি সঠিক নয়।
বুশের সহযোগী পৌরসভা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ নিজেকে প্রকৃত মৎস্যজীবী দাবি করে বলেন, আমি একটি মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি। রাজনীতি করতে হলে মানুষের জন্য কাজ করতে হয়। এজন্য দু-একটি পুকুরের প্রয়োজন হয়। এর বেশি কিছু আমি বলব না।
দুই মৎস্যজীবী দল নেতার প্রতারণার মাধ্যমে ১৩টি পুকুর ইজারা নেওয়ার বিষয়ে জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক ও গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুস সাদাত রত্ন বলেন, এ সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে কাগজপত্র দেখে সত্যতা পেলে নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় এমপিদের বৈঠক

মৎস্যজীবী দল নেতা বুশের প্রতারণা

গোদাগাড়ীতে স্বাক্ষর জাল ও একই ফোন নম্বরে ১৩ খাস পুকুর ইজারা

আপডেট সময় ১১:৩৫:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সভাপতি বেলাল উদ্দিন ওরফে বুশ সরকারি খাস পুকুর ইজারা গ্রহণে ভয়াবহ জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। আর এ গুরুতর অনিয়মে সহযোগী হিসাবে কাজ করেছেন তারই কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃত মৎস্যজীবীরা বঞ্চিত হওয়ায় তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ এবং অসন্তোষ।
মৎস্যজীবী দল নেতা বেলাল উদ্দিন বুশ বিভিন্ন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতির স্বাক্ষর জাল এবং তার নিজের ব্যবহৃত একই মোবাইল ফোন নম্বর ব্যবহার করে ১৩টি সরকারি খাস পুকুর ইজারার অনুমোদন নিয়েছেন। আর বুশ এবং তার কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুন পুকুরগুলো বর্তমানে তৃতীয়পক্ষের কাছে বিক্রির পরিকল্পনায় রয়েছেন।
চেষ্টায় রয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার। ইতোমধ্যে অধিকাংশ পুকুরের রাজস্বের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংকের মাধ্যমে ট্রেজারি চালানও দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রমাণাদি ইতোমধ্যে হাতে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৪৩৩ থেকে ১৪৩৫ বাংলা সনে তিন বছরের মেয়াদে সরকারি খাস পুকুর ইজারা প্রদানের জন্য ৪ জানুয়ারি গোদাগাড়ী উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এ বিজ্ঞপ্তিতে উপজেলার ১৮৫টি খাস পুকুর ইজারা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৬ মার্চ উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রকাশিত অনুমোদিত তালিকায় ৪২, ৫০, ৫২, ৬৪, ৬৮, ৭৬, ৮৮, ১০৬, ১১৯, ১২১, ১২৩, ১৫১ ও ১৬৬ নম্বর ক্রমিকের পুকুর ইজারার অনুমোদনের ক্ষেত্রে মৎস্যজীবী দল নেতা বেলাল উদ্দিন বুশের মোবাইল ফোন নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মৎস্যজীবী সমিতিগুলোর সভাপতির স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।
অনুমোদিত তালিকার ৪২ এবং ৬৮ নম্বর ক্রমিকের পুকুর দুটি জোত জীবন পশ্চিমপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড, তানোরের নামে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ দুটি সমিতির সভাপতি হিসাবে মো. আলাউদ্দিনের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। তালিকার ৫০ নম্বর পুকুরটি বিল্লী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড তানোরের নামে বরাদ্দ রয়েছে। এর সভাপতি আইনাল হক।
৫২ নম্বর পুকুরটি ফকিরনি নদী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড বাগমারার নামে বরাদ্দ। এর সভাপতি নম্বুল হালদার। ৬৪ নম্বর পুকুরটি দ্বীপ নগর উত্তরপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড বাগমারার নামে বরাদ্দ। এর সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস। ৭৬ নম্বর পুকুরটি ইউসুফপুর টাংগন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড চারঘাটের নামে বরাদ্দ। এর সভাপতি মুনছুর রহমান।
এছাড়া ৮৮ নম্বর পুকুরটি রাওথা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড চারঘাটের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর সভাপতি এনামুল হক। ১০৬ নম্বর পুকুরটি বিল্লী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড তানোরের নামে বরাদ্দ। এটির সভাপতিও আইনাল হক। ১১৯ নম্বর পুকুরটি বিলশনি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড বাগমারার নামে বরাদ্দ। এর সভাপতি খলিলুর রহমান। ১২১ নম্বর পুকুরটি ফাতেহাপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড তানোরের নামে বরাদ্দ। এর সভাপতি আলমগীর। ১২৩ নম্বর পুকুরটি বিলপনি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড বাগমারার নামে বরাদ্দ। এর সভাপতি খলিলুর রহমান।
তাছাড়া ১৫১ নম্বর তালিকার পুকুরটি ইউসুফপুর টাংগন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড চারঘাটের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর সভাপতি মুনছুর রহমান। সর্বশেষ ১৬৬ নম্বর পুকুরটি ফাতেহাপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড তানোরের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর সভাপতি আলমগীর।
১৩টি পুকুর ইজারা অনুমোদনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত মৎস্যজীবী দল নেতা বুশ এবং হারুনের বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। বুশ গোদাগাড়ী মৎস্য কার্যালয় থেকে মৎস্যজীবীদের প্রকৃত কার্ড না থাকা সত্ত্বেও দলের দাপট দেখিয়ে পুকুর ইজারায় অংশ নেওয়ার জন্য সদ্য বাতিলকৃত হাটপুকুর রাজারামপুর মৎস্যজীবী সমিতির নামে প্রত্যয়নপত্র নিয়েছেন।
এছাড়া চলতি ইজারা প্রক্রিয়ায় রাজারামপুর মৌজার ২১ ও ২৯ নম্বর দাগে মাধবপুর এবং একতা নামের দুটি মৎস্যজীবী সমিতি ৩.৬৬ ও ৩.৬৯ একরের দুটি বড় পুকুর ইজারার জন্য আবেদন করে। কিন্তু মৎস্যজীবী দল নেতা বুশ জেলা সমবায় কার্যালয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও সমিতি দুটির নিবন্ধন বাতিল করিয়ে দেন।
অভিযোগ রয়েছে, বুশকে এসব কাজে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করছেন তার কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুন। হারুন প্রকৃত মৎস্যজীবী না হওয়া সত্ত্বেও ভুয়া মৎস্যজীবী কার্ড ও ঠিকানা ব্যবহার করে আমতলা উত্তরপাড়া মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি হয়েছেন। চলতি ইজারা প্রক্রিয়ায় তিনিও আইহাই এলাকায় ১.৮৬ একর আয়তনের একটি বড় পুকুর ভুয়া অনলাইন কপি ব্যবহার করে ইজারা নিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি তার সমিতির কার্যালয়ের চুক্তিপত্রের দাতা অর্থাৎ ভাড়াটিয়ার ভুয়া নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। এরপর সেই চুক্তিপত্র সমবায় কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য গোদাগাড়ী পৌরসভা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি বেলাল উদ্দিন বুশ পুকুর ইজারা নেওয়ার ক্ষেত্রে তার ব্যবহৃত যে মোবাইল ফোন নম্বর ব্যবহার করেছেন, সেটিতে ফোন করা হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমার ফোন নম্বর ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছুই জানি না। আমি গত দুই মাস থেকে অসুস্থ। আমি কারও স্বাক্ষর জালও করিনি।
তবে হাট রাজারামপুর মৎস্যজীবী সমিতির প্রত্যয়ন নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, দুই মাস আগে আবেদন করেছিলাম। দুটি পুকুর পাওয়ার জন্য এটি করেছিলাম। তবে সেটি বাতিল হয়ে গেছে। কারণ সেটির ঠিকানা সঠিক ছিল না। আর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাধবপুর এবং একতা নামের দুটি মৎস্যজীবী সমিতির নিবন্ধন বাতিলের যে অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে করা হচ্ছে, সেটি সঠিক নয়।
বুশের সহযোগী পৌরসভা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ নিজেকে প্রকৃত মৎস্যজীবী দাবি করে বলেন, আমি একটি মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি। রাজনীতি করতে হলে মানুষের জন্য কাজ করতে হয়। এজন্য দু-একটি পুকুরের প্রয়োজন হয়। এর বেশি কিছু আমি বলব না।
দুই মৎস্যজীবী দল নেতার প্রতারণার মাধ্যমে ১৩টি পুকুর ইজারা নেওয়ার বিষয়ে জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক ও গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুস সাদাত রত্ন বলেন, এ সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে কাগজপত্র দেখে সত্যতা পেলে নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।