ঢাকা ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেড় বিলিয়ন ডলার আকুর বিল পরিশোধ, কমলো রিজার্ভ শেষ হচ্ছে অপেক্ষা, বৃহস্পতিবার প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ চিকিৎসা শিক্ষার বিকাশে আট দশক ধরে অবদান রেখে চলেছে ঢামেক : প্রধানমন্ত্রী ১০ নম্বর জার্সি কোনোদিনই পেতেন না মেসি, কী ঘটেছিল তখন? ভূমি দখল ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত আলী আফজাল রোনালদোর বিদায়ের মধ্যেই মেসির স্ত্রীকে জর্জিনার উপহার সরকারি চাকরিতে ৫ লাখ পদে নিয়োগ নিয়ে সুখবর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে যা বললেন ভোক্তা অধিকারের জব্বার মণ্ডল সংবাদ প্রকাশের পর কালুখালীর অসহায় রাসেল মণ্ডলের পাশে উপজেলা প্রশাসন গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতার আশ্বাস যুক্তরাজ্যের

চট্টগ্রামে ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কঠোর হস্তক্ষেপে অবশেষে বন্দরনগরীর বায়েজিদ এলাকায় একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়েছে।

জেপি সনেট লিমিটেড নামের ওই কারখানার মালিকপক্ষ বুধবার (১৮ মার্চ) কারখানার যন্ত্রপাতি বিক্রি করে প্রায় ১৬ লাখ টাকা শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করতে বাধ্য হয়। প্রশাসনের এই কার্যকর হস্তক্ষেপে টানা চার দিনের শ্রম অসন্তোষের অবসান ঘটেছে।

কারখানার মালিকপক্ষের প্রতিনিধি সজিব দাস বলেন, ‘আমরা বিভিন্নভাবে টাকা জোগাড় করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত যন্ত্রপাতি বিক্রি করেই শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করতে হয়েছে।’ জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে সমঝোতা হওয়ায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি জানান।

ভুক্তভোগী সিনিয়র অপারেটর মো. মনির হোসেন জানান, জেলা প্রশাসক নিজে টেলিফোনে সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তদারকি করেন। তিনি মালিকপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে প্রয়োজনে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে হলেও বকেয়া মেটাতে হবে, অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপরই মালিকপক্ষ পাওনা পরিশোধে বাধ্য হয়।

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বায়েজিদ থানার সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ না থাকলে ঈদের আগে শ্রমিকেরা তাঁদের পাওনা পেতেন না। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্লাবন কুমার বিশ্বাস জানান, প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া পরিশোধের সক্ষমতা ছিল না। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তাঁরা যন্ত্রপাতি ও মজুত মালামাল বিক্রির ব্যবস্থা করেন। গতকাল রাত ১২টার দিকে সমঝোতা হওয়ার পর আজ ভোর ৬টায় পুরো টাকা পরিশোধ করা হয়।

চট্টগ্রাম কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান বলেন, ‘আমাদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা থাকলেও জেলা প্রশাসকের সক্রিয় ভূমিকার কারণে মালিকপক্ষ বাধ্য হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘ঘটনাটি জানার সঙ্গেই একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে কারখানায় মোতায়েন করা হয়। ঈদের আগে তিন মাসের বেতন বকেয়া এবং শ্রমিকদের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে যন্ত্রপাতি বিক্রি করার মতো কঠোর নির্দেশ দিতে হয়েছে।’

কয়েক মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা নিয়ে এই অসন্তোষের সূত্রপাত হয় গত ১৪ মার্চ। প্রায় ১৩০ জন শ্রমিক তিন মাসের বেতনের দাবিতে কারখানায় অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। ১৬ মার্চ জেলা প্রশাসন, মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি ও শিল্প পুলিশের উপস্থিতিতে এক বৈঠকে মালিকপক্ষ যন্ত্রপাতি বিক্রির লিখিত অঙ্গীকার করে।

তবে নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে ১৭ মার্চ রাত পর্যন্ত সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। নারী শ্রমিকসহ অনেকে কারখানায় অবস্থান চালিয়ে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৮ মার্চ ভোরে যন্ত্রপাতি বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ১৬ লাখ টাকা পরিশোধ নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসন। এর আগে মোট পাওনার মধ্যে ১ লাখ টাকা আংশিক পরিশোধ করা হয়েছিল। প্রশাসনের উপস্থিতিতেই এই অর্থ বিতরণ সম্পন্ন হয়।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেড় বিলিয়ন ডলার আকুর বিল পরিশোধ, কমলো রিজার্ভ

চট্টগ্রামে ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ

আপডেট সময় ০৮:২৮:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কঠোর হস্তক্ষেপে অবশেষে বন্দরনগরীর বায়েজিদ এলাকায় একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়েছে।

জেপি সনেট লিমিটেড নামের ওই কারখানার মালিকপক্ষ বুধবার (১৮ মার্চ) কারখানার যন্ত্রপাতি বিক্রি করে প্রায় ১৬ লাখ টাকা শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করতে বাধ্য হয়। প্রশাসনের এই কার্যকর হস্তক্ষেপে টানা চার দিনের শ্রম অসন্তোষের অবসান ঘটেছে।

কারখানার মালিকপক্ষের প্রতিনিধি সজিব দাস বলেন, ‘আমরা বিভিন্নভাবে টাকা জোগাড় করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত যন্ত্রপাতি বিক্রি করেই শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করতে হয়েছে।’ জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে সমঝোতা হওয়ায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি জানান।

ভুক্তভোগী সিনিয়র অপারেটর মো. মনির হোসেন জানান, জেলা প্রশাসক নিজে টেলিফোনে সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তদারকি করেন। তিনি মালিকপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে প্রয়োজনে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে হলেও বকেয়া মেটাতে হবে, অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপরই মালিকপক্ষ পাওনা পরিশোধে বাধ্য হয়।

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বায়েজিদ থানার সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ না থাকলে ঈদের আগে শ্রমিকেরা তাঁদের পাওনা পেতেন না। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্লাবন কুমার বিশ্বাস জানান, প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া পরিশোধের সক্ষমতা ছিল না। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তাঁরা যন্ত্রপাতি ও মজুত মালামাল বিক্রির ব্যবস্থা করেন। গতকাল রাত ১২টার দিকে সমঝোতা হওয়ার পর আজ ভোর ৬টায় পুরো টাকা পরিশোধ করা হয়।

চট্টগ্রাম কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান বলেন, ‘আমাদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা থাকলেও জেলা প্রশাসকের সক্রিয় ভূমিকার কারণে মালিকপক্ষ বাধ্য হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘ঘটনাটি জানার সঙ্গেই একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে কারখানায় মোতায়েন করা হয়। ঈদের আগে তিন মাসের বেতন বকেয়া এবং শ্রমিকদের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে যন্ত্রপাতি বিক্রি করার মতো কঠোর নির্দেশ দিতে হয়েছে।’

কয়েক মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা নিয়ে এই অসন্তোষের সূত্রপাত হয় গত ১৪ মার্চ। প্রায় ১৩০ জন শ্রমিক তিন মাসের বেতনের দাবিতে কারখানায় অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। ১৬ মার্চ জেলা প্রশাসন, মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি ও শিল্প পুলিশের উপস্থিতিতে এক বৈঠকে মালিকপক্ষ যন্ত্রপাতি বিক্রির লিখিত অঙ্গীকার করে।

তবে নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে ১৭ মার্চ রাত পর্যন্ত সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। নারী শ্রমিকসহ অনেকে কারখানায় অবস্থান চালিয়ে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৮ মার্চ ভোরে যন্ত্রপাতি বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ১৬ লাখ টাকা পরিশোধ নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসন। এর আগে মোট পাওনার মধ্যে ১ লাখ টাকা আংশিক পরিশোধ করা হয়েছিল। প্রশাসনের উপস্থিতিতেই এই অর্থ বিতরণ সম্পন্ন হয়।