সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে ঘুস, চোরাচালান, খনিজ বালি-পাথর লুট, টেলিভিশন উপহার নেওয়ার অভিযোগের তদন্তকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ঘুস কাণ্ডে জড়িত থাকায় ওসির ব্যাপারে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে পুলিশের সিলেট রেঞ্জ ডিআইজির (কার্যালয়) কাছে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও সিলেট রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের দায়িত্বশীল অফিসার এমন তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রসঙ্গত, তাহিরপুর থানায় যোগদানের পর ওসি আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুস, চোরাচালান, খনিজ বালি-পাথর লুট, একাধিক মামলার আসামির এক স্বজনের মাধ্যমে একটি রঙিন টেলিভিশন উপহার নেওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এক স্মারকপত্রে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার (তাহিরপুর সার্কেল), জেলা পুলিশের একজন পুলিশ পরিদর্শকসহ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রকাশ্যে-গোপনে, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তদন্ত কাজ শুরুর পর ২ মার্চ পুলিশের সিলেট রেঞ্জ ডিআইজির কাছে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করেন।
প্রতিবেদনে আসামির স্বজনের কাছ থেকে ডেভিল হান্ট অভিযানে ফের গ্রেফতারের ভয়-ভীতি দেখিয়ে একটি রঙিন টেলিভিশন উপহার নিয়ে ওসি আমিনুল নিজেই ব্যবহার করছেন-এমন অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ঘুসকাণ্ডে ওসির জড়িত থাকার অডিও সংগ্রহ করেছে তদন্ত কমিটি।
অভিযোগ রয়েছে, আগে হবিগঞ্জ ডিবিতে কর্মরত অবস্থায় ওসি আমিনুল প্রতিপক্ষের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে এক প্রবীণ ব্যক্তিকে ইয়াবা মামলায় ফাঁসিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তি অব্যাহতি পান। এ ঘটনায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অভিযোগ হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। তবে ওসি আমিনুল বরাবরের মতো সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো অনিয়মে জড়িত নন। তদন্ত কমিটির সদস্য সহকারী পুলিশ সুপার প্রণয় রায় জানান, তদন্ত প্রতিবেদন সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























