ঢাকা ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বন মামলার নথি বদলে ফেলেছে বন সংরক্ষক এ.এস.এম. জহির উদ্দিন ফায়ারের গাড়ি চালক সাখাওয়াতের কোটি কোটি টাকা বন্যা মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী দেশে বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই : শিক্ষামন্ত্রী বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. পাভেলকে দেখতে হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নামার আগে সেরা খেলোয়াড়কে হারাল সুইজারল্যান্ড ফরিদপুরে বাসচাপায় নিহত ৪ ‘জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে’ : ব্রাহ্মণপাড়ায় এমপি জসিম উদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের দামে ধস

পুরোনো পোশাকে ফিরতে চায় পুলিশ

  • বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ১১:১৬:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬০৬ বার পড়া হয়েছে

বদলে যাওয়া পোশাক নিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যের অস্বস্তির বিষয়টি নতুনভাবে সামনে এসেছে। পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না অনেকে। নতুন পোশাকের পরিবর্তন চাচ্ছেন। বর্তমান পোশাকের রং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। পুলিশ সদস্যরা বলছেন, তারা পুরোনো পোশাকে ফিরতে চান। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে এই পোশাক নিয়ে ব্যঙ্গ করছেন। এতে অস্বস্তি বোধ করছেন তারা।

গতকাল সোমবার রাতে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে তারা জানান, বাহিনীর বেশির ভাগ সদস্য তড়িঘড়ি করে নেওয়া এই পরিবর্তনের পক্ষে নন। তারা বরং বর্তমানে পরিহিত পোশাকটিকে বাংলাদেশ পুলিশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের প্রতীক হিসেবে মনে করেন না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশ সদস্যদের গায়ের রং, আবহাওয়া এবং তাদের মতামত উপেক্ষা করেই কোনোরূপ জনমত যাচাই ছাড়া পোশাক নির্বাচন করে। অন্য যে সব সংস্থা ইউনিফর্ম পরে থাকে তাদের সঙ্গে নতুন পোশাকের হুবহু সাদৃশ্য রয়েছে। এতে পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর দীর্ঘদিনের খাকি যে পোশাকটি ছিল তা ২০০৩-০৪ সালের তৎকালীন সরকার একটি গঠিত কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে গ্রহণ করা। এই পোশাকে পুলিশের চাকরিতে কর্মরতদের গায়ের রং, আবহাওয়া, রাত ও দিনের ডিউটিতে সহসা চিহ্নিত করা যায়। এ ছাড়া ওই পোশাক অন্য যে কোনো বাহিনীর সঙ্গে যেন সাদৃশ্য না হয় এসব বিষয় বিবেচনা করেই নির্ধারণ করা হয়েছিল।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, পোশাক পরিবর্তন বিশাল ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া; যা বর্তমানে দেশের অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, এই বিপুল অর্থে নতুন পোশাক তৈরির পরিবর্তে বাহিনীর আধুনিকায়ন, থানা পর্যায়ে যানবাহন সরবরাহ ও লজিস্টিকস সাপোর্ট বৃদ্ধি করাই অধিক যুক্তিযুক্ত হবে। পোশাকের রং বা নকশা নয়, বরং পুলিশ সদস্যদের মন-মানসিকতার পরিবর্তন, মনোবল এবং পেশাদারিত্বের উন্নয়ন করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি যেন পুনর্বিবেচনা করে তা আরও অধিক গবেষণা ও জনমত যাচাইকল্পে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এবং পুলিশের প্রতিটি সদস্যের আবেগ ও বাস্তবসম্মত দিকগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুজ্জামান সমকালকে বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করেই নতুন পোশাক দেওয়া হয়। এই পোশাক মানানসই নয়। অন্যান্য বাহিনীর পোশাক বদলের বিষয়টি বিভিন্ন সময় আলোচনায় এলেও শুধু পুলিশের পোশাক বদলে দেওয়া হয়। পোশাক বদলের বিষয়টি বিবেচনা করতে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করব। এর আগে যে পোশাক আমরা পরতাম সেটিতে ফেরত যেতে পারি।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বন মামলার নথি বদলে ফেলেছে বন সংরক্ষক এ.এস.এম. জহির উদ্দিন

পুরোনো পোশাকে ফিরতে চায় পুলিশ

আপডেট সময় ১১:১৬:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বদলে যাওয়া পোশাক নিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যের অস্বস্তির বিষয়টি নতুনভাবে সামনে এসেছে। পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না অনেকে। নতুন পোশাকের পরিবর্তন চাচ্ছেন। বর্তমান পোশাকের রং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। পুলিশ সদস্যরা বলছেন, তারা পুরোনো পোশাকে ফিরতে চান। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে এই পোশাক নিয়ে ব্যঙ্গ করছেন। এতে অস্বস্তি বোধ করছেন তারা।

গতকাল সোমবার রাতে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে তারা জানান, বাহিনীর বেশির ভাগ সদস্য তড়িঘড়ি করে নেওয়া এই পরিবর্তনের পক্ষে নন। তারা বরং বর্তমানে পরিহিত পোশাকটিকে বাংলাদেশ পুলিশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের প্রতীক হিসেবে মনে করেন না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশ সদস্যদের গায়ের রং, আবহাওয়া এবং তাদের মতামত উপেক্ষা করেই কোনোরূপ জনমত যাচাই ছাড়া পোশাক নির্বাচন করে। অন্য যে সব সংস্থা ইউনিফর্ম পরে থাকে তাদের সঙ্গে নতুন পোশাকের হুবহু সাদৃশ্য রয়েছে। এতে পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর দীর্ঘদিনের খাকি যে পোশাকটি ছিল তা ২০০৩-০৪ সালের তৎকালীন সরকার একটি গঠিত কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে গ্রহণ করা। এই পোশাকে পুলিশের চাকরিতে কর্মরতদের গায়ের রং, আবহাওয়া, রাত ও দিনের ডিউটিতে সহসা চিহ্নিত করা যায়। এ ছাড়া ওই পোশাক অন্য যে কোনো বাহিনীর সঙ্গে যেন সাদৃশ্য না হয় এসব বিষয় বিবেচনা করেই নির্ধারণ করা হয়েছিল।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, পোশাক পরিবর্তন বিশাল ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া; যা বর্তমানে দেশের অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, এই বিপুল অর্থে নতুন পোশাক তৈরির পরিবর্তে বাহিনীর আধুনিকায়ন, থানা পর্যায়ে যানবাহন সরবরাহ ও লজিস্টিকস সাপোর্ট বৃদ্ধি করাই অধিক যুক্তিযুক্ত হবে। পোশাকের রং বা নকশা নয়, বরং পুলিশ সদস্যদের মন-মানসিকতার পরিবর্তন, মনোবল এবং পেশাদারিত্বের উন্নয়ন করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি যেন পুনর্বিবেচনা করে তা আরও অধিক গবেষণা ও জনমত যাচাইকল্পে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এবং পুলিশের প্রতিটি সদস্যের আবেগ ও বাস্তবসম্মত দিকগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুজ্জামান সমকালকে বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করেই নতুন পোশাক দেওয়া হয়। এই পোশাক মানানসই নয়। অন্যান্য বাহিনীর পোশাক বদলের বিষয়টি বিভিন্ন সময় আলোচনায় এলেও শুধু পুলিশের পোশাক বদলে দেওয়া হয়। পোশাক বদলের বিষয়টি বিবেচনা করতে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করব। এর আগে যে পোশাক আমরা পরতাম সেটিতে ফেরত যেতে পারি।