বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামি ১২ তারিখ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন সাড়ে ১৪শ’ শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে হচ্ছে। এটি ৩৪ হাজার আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করা মানুষের নির্বাচন এবং শহীদ পরিবারের হাহাকারের নির্বাচন। তাই এই দৃষ্টিকোণ থেকেই ভোট দিতে হবে। এই নির্বাচনে আমাদের সামনে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ এসেছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াতের আমীর বলেন, এই নির্বাচনে দুটি ভোট রয়েছে। প্রথম ভোট ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে। ইনশাল্লাহ ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশ জিতবে, আর ‘না’ ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশ পরাজিত হবে। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামী। অতীতে অনেকে ‘হ্যাঁ’ও বলেনি, ‘না’ও বলেনি। এখন যারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে এসেছেন তাদের অভিনন্দন ও মোবারকবাদ।
তিনি বলেন, যারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের সঙ্গে থাকবে, তারা প্রমাণ করবে যে তারা চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মামলাবাজি এবং মা-বোনদের অপমানের সঙ্গে নেই। তারা থাকবে নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে, থাকবে ২৪-এর আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে। আমরা সেই আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব ইনশাল্লাহ।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, দ্বিতীয় ভোটটি হচ্ছে দেশ গড়ার ভোট। আগামিতে যারা দেশ পরিচালনা করবে, তারা যেন প্রমাণিত ভালো মানুষ হয়। যারা বারবার সুযোগ পেয়েও দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়েছে, তাদের আর নতুন করে দেখার কিছু নেই। এমনকি যারা এখনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাদেরও আর সুযোগ দেওয়ার অবকাশ নেই।
নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশ গড়ার লক্ষ্যে ১১টি দল একত্রিত হয়েছে। প্রত্যেকটি দল নিজ নিজ সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে নিজেদের দলের পক্ষে কাজ করবে এবং ইনশাল্লাহ বিজয় অর্জন করবে। গত ৫৪ বছরে বহু নির্বাচন হয়েছে, সরকারও গঠিত হয়েছে। ভোটের আগে দেওয়া বহু প্রতিশ্রুতি ভোটের পর বাস্তবায়ন হয়নি। এর ফলে সমাজে বৈষম্য বেড়েছে, অপরাধ চরমে পৌঁছেছে এবং দুর্নীতি পুরো সমাজকে গ্রাস করেছে। এর প্রতিবাদেই যুব সমাজ ফুঁসে উঠেছিল।
তিনি বলেন, যুব সমাজ একটি মাত্র স্লোগান নিয়ে রাস্তায় নেমেছিল ‘উই মাষ্ট জাস্টিস’। তারা ন্যায়বিচার চেয়েছে, বাঁচার অধিকার চেয়েছে, শিশুদের জন্য শিক্ষা, যুবক-যুবতীদের জন্য কর্মসংস্থান, মা-বোনদের নিরাপত্তা, ব্যবসায়ীদের শান্তিতে ব্যবসা করার অধিকার, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি এবং কৃষকদের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক কৃষি উপকরণের দাবি জানিয়েছে। এসব দাবি কি অপরাধ ছিল প্রশ্ন রাখেন তিনি।
এ সময় জামায়াতে আমীর টাঙ্গাইল জেলার আটটি আসনের দলীয় ও শরিক দলের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন।
এর মধ্যে টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ি) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. হুমায়ুন কবীর, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে জেলা আমীর আহসান হাবিব মাসুদ, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে একেএম আব্দুল হামিদ, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবনে আবুল হোসেন তালুকদার এবং টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে মো. শফিকুল ইসলাম খানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেওয়া হয়।
এছাড়া টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে এনসিপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লা হায়দারের হাতে শাপলাকলি প্রতীক তুলে দেন তিনি।
টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আহসান হাবিব মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই জনসভায় জামায়াতে ইসলামী ও শরিক দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন।
জীবন আহমেদ রাব্বি, কালিহাতী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি 
























