ঢাকা ০৪:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কালীগঞ্জে সতি নদী থেকে কৃষকের মরদেহ উদ্ধার পরীক্ষা কক্ষে নকলের মহোৎসব! ভিডিও ভাইরাল সাদুল্লাপুরে  কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু ১০৪তম আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরে আলোচনা সভা ও চারাগাছ বিতরণ বেরোবির ওয়েবসাইটে মিলছে না শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য, বাড়ছে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি জুলাই গণঅভ্যুত্থান: তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের যাত্রা চুক্তিভিত্তিক সচিব কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ ৪ লাখ টাকা ঘুষের অভিযোগে অভিযুক্ত প্রকৌশলী ফেনী পৌরসভায় বদলি বিএডিসির আবুল খায়ের মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উপেক্ষা করে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি

পীরগঞ্জে উচ্ছেদ আতঙ্কে দিন কাটছে ১৭২ ভূমিহীন পরিবারের

উচ্ছেদ আতঙ্কে মানবেতর জীবন যাপন করছে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের শেয়ালডাঙ্গী গ্রামের ১৭২টি ভূমিহীন পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাসজমি বন্দোবস্তের জন্য আবেদন করেও এখন পর্যন্ত কোনো বন্দোবস্ত না পাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে এসব পরিবারের। তারা প্রায় ৪০ বছর ধরে ওই খাসজমিতে বসবাস করে আসলেও প্রভাবশালী একটি মহল নিয়মিত তাদের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। কখনো মিথ্যা মামলা, আবার কখনো জোরপূর্বক উচ্ছেদের ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকাছাড়া করার চেষ্টা করছে।
সোমবার দুপুরে সিডিএ’র সহযোগীতায় জগন্নাথপুর ভূমিহীন জনসংগঠনের উদ্যোগে সংগঠনটির মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী ভূমিহীনরা।
এ সময় ভূমিহীনরা অভিযোগ করে বলেন, একাধিকবার উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করলেও তাদের সমস্যার কোনো কার্যকর সমাধান হচ্ছে না। বরং প্রভাবশালীদের চাপের মুখে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন। ভূমিহীনদের মাঝে খাসজমি বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের লোকজন কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।
ভুক্তভোগী ভূমিহীন আমেনা বেগম বলেন, এ গ্রামে প্রায় ৪০ বছর ধরে বসবাস করছি। এ খানে সরকারের প্রায় ৮২ একর খাস জমি রয়েছে। আমরা ভূমিহীন আমরা যেখানে বসবাস করছি শুধু খাসজমিটুকুর বন্দোবস্ত চাই। প্রতিদিন উচ্ছেদের ভয়ে পরিবার নিয়ে ঘুমাতে পারি না। আতঙ্কে দিনরাত পার করছি। প্রতিবাদ করতে গেলে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
ভূমিহীন রমজান আলী বলেন, খাস জমি বন্দোবস্ত না থাকায় এ গ্রামে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এতে শিশু সহ শিক্ষার্থীদের রাতে বেলা পড়া করতে অসুবিধা হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন মোলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। গ্রামে বৈদ্যুতিক খুঁটি নিয়ে আসা হলেও এখন পর্যন্ত সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। আধুনিক যুগে এসেও অন্ধকারে বসবাস করতে হচ্ছে।
ভূমিহীন রুকসা বেগম বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরেও আমরা বাস্তুহারা মানুষকে বসবাস করার জমির জন্য লড়াই সংগ্রাম করতে হচ্ছে। হাজার হাজার একর সরকারি খাস জমি থাকা সত্ত্বেও আমাদের নামে বন্দোবস্ত দেওয়া হচ্ছে নান। আমরা বিভিন্ন দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছি না। সরকারি লোকজনের সদইচ্ছার কারণে আমাদের বাড়ি ঘর হারানোর ভয় থাকতে হচ্ছে।
উপজেলা ভূমিহীন সংগঠনের সভাপ্রধান অবিনাশ রায় জানান, দেশের একটি কোম্পানি এখানকার খাস জমি থেকে ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করে এখানে জুতা তৈরির কারখানা স্থাপন করতে চায়। দীর্ঘদিন ধরে তারা ভূমিহীনদের উচ্ছেদের জন্য নানা ভাবে পায়তারা করে আসছে। সম্প্রতি ওই এলাকায় আতঙ্ক তৈরী করতে অবৈধ ভাবে সরকারি গাছ কেটে নিয়ে গেছেন অবৈধ দখলের চেষ্টাকারাীরা। আমরা প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন করেও খাস জমি বন্দোবস্ত পাচ্ছি না। প্রভাবশালীরাই বন্দোবস্ত পাচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাছবীর হোসেন বলেন, সরকারি খাস জমিতে বসবাস করা কোন ভূমিহীনকে কেউ উচ্ছেদের হুমকি দিয়ে থাকেল লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালীগঞ্জে সতি নদী থেকে কৃষকের মরদেহ উদ্ধার

পীরগঞ্জে উচ্ছেদ আতঙ্কে দিন কাটছে ১৭২ ভূমিহীন পরিবারের

আপডেট সময় ১২:৩৭:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

উচ্ছেদ আতঙ্কে মানবেতর জীবন যাপন করছে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের শেয়ালডাঙ্গী গ্রামের ১৭২টি ভূমিহীন পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাসজমি বন্দোবস্তের জন্য আবেদন করেও এখন পর্যন্ত কোনো বন্দোবস্ত না পাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে এসব পরিবারের। তারা প্রায় ৪০ বছর ধরে ওই খাসজমিতে বসবাস করে আসলেও প্রভাবশালী একটি মহল নিয়মিত তাদের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। কখনো মিথ্যা মামলা, আবার কখনো জোরপূর্বক উচ্ছেদের ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকাছাড়া করার চেষ্টা করছে।
সোমবার দুপুরে সিডিএ’র সহযোগীতায় জগন্নাথপুর ভূমিহীন জনসংগঠনের উদ্যোগে সংগঠনটির মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী ভূমিহীনরা।
এ সময় ভূমিহীনরা অভিযোগ করে বলেন, একাধিকবার উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করলেও তাদের সমস্যার কোনো কার্যকর সমাধান হচ্ছে না। বরং প্রভাবশালীদের চাপের মুখে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন। ভূমিহীনদের মাঝে খাসজমি বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের লোকজন কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।
ভুক্তভোগী ভূমিহীন আমেনা বেগম বলেন, এ গ্রামে প্রায় ৪০ বছর ধরে বসবাস করছি। এ খানে সরকারের প্রায় ৮২ একর খাস জমি রয়েছে। আমরা ভূমিহীন আমরা যেখানে বসবাস করছি শুধু খাসজমিটুকুর বন্দোবস্ত চাই। প্রতিদিন উচ্ছেদের ভয়ে পরিবার নিয়ে ঘুমাতে পারি না। আতঙ্কে দিনরাত পার করছি। প্রতিবাদ করতে গেলে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
ভূমিহীন রমজান আলী বলেন, খাস জমি বন্দোবস্ত না থাকায় এ গ্রামে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এতে শিশু সহ শিক্ষার্থীদের রাতে বেলা পড়া করতে অসুবিধা হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন মোলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। গ্রামে বৈদ্যুতিক খুঁটি নিয়ে আসা হলেও এখন পর্যন্ত সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। আধুনিক যুগে এসেও অন্ধকারে বসবাস করতে হচ্ছে।
ভূমিহীন রুকসা বেগম বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরেও আমরা বাস্তুহারা মানুষকে বসবাস করার জমির জন্য লড়াই সংগ্রাম করতে হচ্ছে। হাজার হাজার একর সরকারি খাস জমি থাকা সত্ত্বেও আমাদের নামে বন্দোবস্ত দেওয়া হচ্ছে নান। আমরা বিভিন্ন দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছি না। সরকারি লোকজনের সদইচ্ছার কারণে আমাদের বাড়ি ঘর হারানোর ভয় থাকতে হচ্ছে।
উপজেলা ভূমিহীন সংগঠনের সভাপ্রধান অবিনাশ রায় জানান, দেশের একটি কোম্পানি এখানকার খাস জমি থেকে ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করে এখানে জুতা তৈরির কারখানা স্থাপন করতে চায়। দীর্ঘদিন ধরে তারা ভূমিহীনদের উচ্ছেদের জন্য নানা ভাবে পায়তারা করে আসছে। সম্প্রতি ওই এলাকায় আতঙ্ক তৈরী করতে অবৈধ ভাবে সরকারি গাছ কেটে নিয়ে গেছেন অবৈধ দখলের চেষ্টাকারাীরা। আমরা প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন করেও খাস জমি বন্দোবস্ত পাচ্ছি না। প্রভাবশালীরাই বন্দোবস্ত পাচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাছবীর হোসেন বলেন, সরকারি খাস জমিতে বসবাস করা কোন ভূমিহীনকে কেউ উচ্ছেদের হুমকি দিয়ে থাকেল লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।