ঢাকা ১০:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের পাইলট প্রকল্প শুরুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দেশে পোস্টগ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী তেজগাঁও থানায় আকস্মিক পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ নিউজ নেটওয়ার্ক নীলফামারীর আহ্বায়ক কমিটি গঠন অল্প সময়ে জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয় : পানিসম্পদমন্ত্রী জাজিরায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা মঠবাড়িয়ায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কীর্তি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিলেন তাকওয়া ফাউন্ডেশন মৌলভীবাজারের বড়লেখায় প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার রাজনীতি নিষিদ্ধ ববিতে জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের কাউন্সিল, পূর্ণাঙ্গ কমিটির আত্মপ্রকাশ   পোষা বিড়ালের আঁচড়ের পর থেকে ‘মিউ মিউ’ করছে শিশু আদ্রিতা

কিশোরগঞ্জে ঘুষ ছাড়া ফাইলে সই করেন না শিক্ষা অফিসের নাসরিন

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইলে স্বাক্ষর না করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হিসাব সহকারী নাসরিন সুলতানার বিরুদ্ধে। নিয়ম অনুযায়ী সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরেও ঘুষ ছাড়া বিলের ফাইলে স্বাক্ষর করেন না তিনি।

সরেজমিন ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের অফিস ব্যয়, বিদ্যালয় সংক্রান্ত অন্যান্য বিল অযৌক্তিকভাবে আটকে রাখা হচ্ছে। বিল দ্রুত নিষ্পত্তি করতে চাইলে মৌখিকভাবে অর্থ দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়। এছাড়া বিদ্যালয় সংস্কার বরাদ্দের বিল তুলতে গেলে তাকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে হয়। শিক্ষকদের অবসরভাতা উত্তোলন করতেও ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করেন না তিনি। বিল জমা দেওয়ার পর বারবার ঘোরানো হয়। সরাসরি কিছু না বললেও বুঝিয়ে দেওয়া হয়, টাকা না দিলে স্বাক্ষর পাওয়া যাবে না।

আরও জানা যায়, সিঙ্গেরগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাবুল হোসেন অবসরে যাওয়ার পর অসুস্থতা জনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। পরে তার অবসর ভাতা উত্তোলন করতে মোটা অঙ্কের ঘুষ নেন নাসরিন সুলতানা।

বাবুল হোসেনের স্ত্রী সোহনেয়ারা বেগম বলেন, আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করে অবসর নিয়েছেন। পরে তিনি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে মারা যান। মারা যাওয়ার পরে আমরা সমস্যায় পড়ি, তখন তার অবসর ভাতা তুলতে গেলে শিক্ষা অফিসের নাসরিন আমার ফাইল পার করায় না। দিনের পর দিন ফাইল আটকে রেখে আমাদের ঘোরায়। পরে তিনি প্রস্তাব দেন তাকে এক লাখ টাকা দিলে সে ফাইল পার করিয়ে দেবেন। আমি মানুষের কাছে সুদের ওপর টাকা নিয়ে তাকে সেই ঘুষ দেই। তখন সে স্বাক্ষর করে ফাইলটা পার করেছে।

মেলাবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আমি ২০২২ সালে চাকরি জীবন শেষ করে অবসরে যাই। ভেবেছিলাম চাকরি থেকে অবসর যাওয়ার পর ভালোভাবে অবসর ভাতা উত্তোলন করতে পারব। তবে সব কাগজপত্র ঠিক করে অফিসে নিয়ে গেলে হিসাব সহকারী সেটিতে স্বাক্ষর না করে দীর্ঘদিন ঘোরায়। পরে সে এক মাধ্যমে আমার কাছে ঘুষ দাবি করে। সেটি দেওয়ার পর আমার অবসর ভাতা তুলতে পেরেছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষক বলেন, আমরা শিক্ষা অফিসে বিল সংক্রান্ত কাজ করতে গেলে ঘুষ ছাড়া কোনোভাবে কাজ হয় না। সেখানে হিসাব সহকারীকে খুশি করাতে হয়। আমাদের যে ছোট বরাদ্দ আসে সেগুলোর কাজ করব নাকি সেখান থেকে টাকা বাঁচিয়ে ঘুষ দেব। এ বিষয়ে কথা বললে বরাদ্দ পাব না কিংবা সমস্যা হবে এজন্য এসব বিষয় কথা বলি না।

উপজেলা শিক্ষা অফিসের হিসাব সহকারী নাসরিন সুলতানা বলেন, আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সত্য না। আমি এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে কোন কথা বলতে চাই না। আপনি আমার সঙ্গে দেখা করেন নয়তো আমার ভাই আপনার সঙ্গে দেখা করবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা বেগম বলেন, বিষয়টি খুবই খারাপ লাগার। শিক্ষকদের কাজের ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেন করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি এটা করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের পাইলট প্রকল্প শুরুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

কিশোরগঞ্জে ঘুষ ছাড়া ফাইলে সই করেন না শিক্ষা অফিসের নাসরিন

আপডেট সময় ০৭:১৬:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইলে স্বাক্ষর না করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হিসাব সহকারী নাসরিন সুলতানার বিরুদ্ধে। নিয়ম অনুযায়ী সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরেও ঘুষ ছাড়া বিলের ফাইলে স্বাক্ষর করেন না তিনি।

সরেজমিন ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের অফিস ব্যয়, বিদ্যালয় সংক্রান্ত অন্যান্য বিল অযৌক্তিকভাবে আটকে রাখা হচ্ছে। বিল দ্রুত নিষ্পত্তি করতে চাইলে মৌখিকভাবে অর্থ দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়। এছাড়া বিদ্যালয় সংস্কার বরাদ্দের বিল তুলতে গেলে তাকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে হয়। শিক্ষকদের অবসরভাতা উত্তোলন করতেও ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করেন না তিনি। বিল জমা দেওয়ার পর বারবার ঘোরানো হয়। সরাসরি কিছু না বললেও বুঝিয়ে দেওয়া হয়, টাকা না দিলে স্বাক্ষর পাওয়া যাবে না।

আরও জানা যায়, সিঙ্গেরগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাবুল হোসেন অবসরে যাওয়ার পর অসুস্থতা জনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। পরে তার অবসর ভাতা উত্তোলন করতে মোটা অঙ্কের ঘুষ নেন নাসরিন সুলতানা।

বাবুল হোসেনের স্ত্রী সোহনেয়ারা বেগম বলেন, আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করে অবসর নিয়েছেন। পরে তিনি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে মারা যান। মারা যাওয়ার পরে আমরা সমস্যায় পড়ি, তখন তার অবসর ভাতা তুলতে গেলে শিক্ষা অফিসের নাসরিন আমার ফাইল পার করায় না। দিনের পর দিন ফাইল আটকে রেখে আমাদের ঘোরায়। পরে তিনি প্রস্তাব দেন তাকে এক লাখ টাকা দিলে সে ফাইল পার করিয়ে দেবেন। আমি মানুষের কাছে সুদের ওপর টাকা নিয়ে তাকে সেই ঘুষ দেই। তখন সে স্বাক্ষর করে ফাইলটা পার করেছে।

মেলাবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আমি ২০২২ সালে চাকরি জীবন শেষ করে অবসরে যাই। ভেবেছিলাম চাকরি থেকে অবসর যাওয়ার পর ভালোভাবে অবসর ভাতা উত্তোলন করতে পারব। তবে সব কাগজপত্র ঠিক করে অফিসে নিয়ে গেলে হিসাব সহকারী সেটিতে স্বাক্ষর না করে দীর্ঘদিন ঘোরায়। পরে সে এক মাধ্যমে আমার কাছে ঘুষ দাবি করে। সেটি দেওয়ার পর আমার অবসর ভাতা তুলতে পেরেছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষক বলেন, আমরা শিক্ষা অফিসে বিল সংক্রান্ত কাজ করতে গেলে ঘুষ ছাড়া কোনোভাবে কাজ হয় না। সেখানে হিসাব সহকারীকে খুশি করাতে হয়। আমাদের যে ছোট বরাদ্দ আসে সেগুলোর কাজ করব নাকি সেখান থেকে টাকা বাঁচিয়ে ঘুষ দেব। এ বিষয়ে কথা বললে বরাদ্দ পাব না কিংবা সমস্যা হবে এজন্য এসব বিষয় কথা বলি না।

উপজেলা শিক্ষা অফিসের হিসাব সহকারী নাসরিন সুলতানা বলেন, আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সত্য না। আমি এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে কোন কথা বলতে চাই না। আপনি আমার সঙ্গে দেখা করেন নয়তো আমার ভাই আপনার সঙ্গে দেখা করবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা বেগম বলেন, বিষয়টি খুবই খারাপ লাগার। শিক্ষকদের কাজের ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেন করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি এটা করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।