সংবাদ শিরোনাম ::
সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী

খিলগাঁও থেকে ডিবির হাতে গ্রেফতার মোল্লা ফখরুল, নড়াইল ও ঢাকায় একাধিক মামলা

নড়াইল জেলার নড়াগাতী উপজেলার নওগাতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মোল্লা ফখরুল ইসলামকে ঢাকার খিলগাঁও এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় পূর্বে সাধারণ ডায়েরি থাকা এবং নড়াইল জেলায় একাধিক মামলার তথ্যের ভিত্তিতেই এই গ্রেফতার অভিযান পরিচালিত হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গতকাল গভীর রাতে খিলগাঁও থানাধীন পশ্চিম নন্দীপাড়ার নিজ বাসা থেকে ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে আটক করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, মোল্লা ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঢাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি রয়েছে। পাশাপাশি নড়াইল জেলার বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও সহিংসতা সংক্রান্ত একাধিক মামলা বিচারাধীন থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মোল্লা ফখরুল ইসলাম নড়াইল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বিএম কবিরুল হক মুক্তির ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি কবিরুল হক মুক্তির ঘনিষ্ঠতার সুযোগে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বিস্তার করেন। পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পরও তিনি খোলস পাল্টে বিভিন্ন এলাকায় অপকর্মে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নড়াইল জেলার বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা একটি মামলার নথিতে মোল্লা ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের বিবরণ রয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বর দুপুর আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিটে নড়াগাতী উপজেলার কলাবাড়ীয়া গ্রামে বাদীর বসতবাড়িতে গিয়ে একদল ব্যক্তি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। এতে বাদীর জানমালের গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়।

নথিতে উল্লেখ রয়েছে, অভিযুক্ত পক্ষ এলাকাজুড়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত এবং মিথ্যা মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে থাকে। ঢাকায় একটি জমি কেনাবেচা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে খিলগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। সেই ঘটনার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে নড়াইলে সংঘটিত ঘটনাটি ঘটে বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও জানা যায়, সাবেক এমপি কবিরুল হক মুক্তি গ্রেফতার হওয়ার পরও মোল্লা ফখরুল ইসলাম তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এবং গ্রেফতারের দিন গুলশান থানায় তাকে দেখতে যান। এই বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মোল্লা ফখরুল ইসলামের স্থায়ী ঠিকানা নড়াইল জেলার নড়াগাতী উপজেলার কলাবাড়ীয়া গ্রামে এবং বর্তমানে তিনি ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় বসবাস করছিলেন। তার পিতা মরহুম মো. আতিয়ার রসুল ও মাতা মরহুমা রাহিলা খাতুন।

ঢাকা ডিবি পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, খিলগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি ও নড়াইলের মামলার নথি একত্রে পর্যালোচনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হবে। এ ঘটনায় নড়াইল ও ঢাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত

খিলগাঁও থেকে ডিবির হাতে গ্রেফতার মোল্লা ফখরুল, নড়াইল ও ঢাকায় একাধিক মামলা

আপডেট সময় ০৮:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

নড়াইল জেলার নড়াগাতী উপজেলার নওগাতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মোল্লা ফখরুল ইসলামকে ঢাকার খিলগাঁও এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় পূর্বে সাধারণ ডায়েরি থাকা এবং নড়াইল জেলায় একাধিক মামলার তথ্যের ভিত্তিতেই এই গ্রেফতার অভিযান পরিচালিত হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গতকাল গভীর রাতে খিলগাঁও থানাধীন পশ্চিম নন্দীপাড়ার নিজ বাসা থেকে ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে আটক করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, মোল্লা ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঢাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি রয়েছে। পাশাপাশি নড়াইল জেলার বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও সহিংসতা সংক্রান্ত একাধিক মামলা বিচারাধীন থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মোল্লা ফখরুল ইসলাম নড়াইল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বিএম কবিরুল হক মুক্তির ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি কবিরুল হক মুক্তির ঘনিষ্ঠতার সুযোগে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বিস্তার করেন। পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পরও তিনি খোলস পাল্টে বিভিন্ন এলাকায় অপকর্মে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নড়াইল জেলার বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা একটি মামলার নথিতে মোল্লা ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের বিবরণ রয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বর দুপুর আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিটে নড়াগাতী উপজেলার কলাবাড়ীয়া গ্রামে বাদীর বসতবাড়িতে গিয়ে একদল ব্যক্তি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। এতে বাদীর জানমালের গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়।

নথিতে উল্লেখ রয়েছে, অভিযুক্ত পক্ষ এলাকাজুড়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত এবং মিথ্যা মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে থাকে। ঢাকায় একটি জমি কেনাবেচা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে খিলগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। সেই ঘটনার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে নড়াইলে সংঘটিত ঘটনাটি ঘটে বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও জানা যায়, সাবেক এমপি কবিরুল হক মুক্তি গ্রেফতার হওয়ার পরও মোল্লা ফখরুল ইসলাম তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এবং গ্রেফতারের দিন গুলশান থানায় তাকে দেখতে যান। এই বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মোল্লা ফখরুল ইসলামের স্থায়ী ঠিকানা নড়াইল জেলার নড়াগাতী উপজেলার কলাবাড়ীয়া গ্রামে এবং বর্তমানে তিনি ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় বসবাস করছিলেন। তার পিতা মরহুম মো. আতিয়ার রসুল ও মাতা মরহুমা রাহিলা খাতুন।

ঢাকা ডিবি পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, খিলগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি ও নড়াইলের মামলার নথি একত্রে পর্যালোচনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হবে। এ ঘটনায় নড়াইল ও ঢাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।