ঢাকা ১১:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এল নিনোর ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূতের সাক্ষাৎ ৯ বছরের শিশুকে যৌন হয়রানি খাল খননের উদ্বৃত্ত ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে নজির, প্রশংসিত এমপি রাজৈরে লিবিয়ায় নির্যাতনের পর নিহত সোহাগ মুন্সি পরিবারের থানায় অভিযোগ মোবাইল কোর্টের অভিযানে হেলমেট না পরায় ৫ মামলায় ৪ হাজার টাকা জরিমানা লটারির মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৭৬৭ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বদলি শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে নিয়ে মিলল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য গোসিংগা ইউনিয়ন বিএনপি’র বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে: পবিপ্রবি উপাচার্য

পারিবারিক বিরোধে নিরীহ যুবককে ‘শয়তানের নিশ্বাস’ মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ

পটুয়াখালীতে পারিবারিক বিরোধের জেরে নিরীহ এক যুবককে ‘শয়তানের নিশ্বাস’ চক্রের মামলায় জড়িয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বরিশালে কর্মরত এস আই জাহিদুল ইসলাম ও পুলিশ কনস্টবল মোল্লা মাসুমের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গ্রেপ্তার ও মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের ঘুষ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পটুয়াখালী সদর উপজেলার মৌকরণ ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা গাজী নাসির (৩০)-আবদুর রহিম গাজীর ছেলেকে দুই মাস আগে বরিশালে দায়ের হওয়া একটি মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে গত ১৭ ডিসেম্বর র‌্যাব গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে বরিশাল কোতয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হলেও রহস্যজনকভাবে ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও আদালতে সোপর্দ করা হয়নি।

পরিবারের অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এস আই জাহিদুল ও কনস্টবল মোল্লা মাসুম তার সহকর্মী বরিশাল কোতয়ালী থানায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাইফুলের সঙ্গে যোগসাজশে নাসিরকে ‘শয়তানের নিশ্বাস’ চক্রের সদস্য হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করছেন। গ্রেপ্তারের পর পরিবারের কাছে দেড় লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয় এবং পরে আরও টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন এক পুলিশ কর্মকর্তাকে জানালে তদন্তকারী কর্মকর্তা এক লাখ টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন বলে পরিবারের দাবি।

গাজী নাসিরের বাবা আবদুর রহিম গাজী বলেন, “আমার ছেলে নির্দোষ। বরিশালের সাগরদী এলাকায় দুই মাস আগে হওয়া ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সিসিটিভি ফুটেজের চেহারা, পোশাক ও চলাফেরার সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। ঘটনার আগে-পরে দুই মাসেও সে বরিশালে যায়নি। তবু উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে ধরে এনে কোর্টে না তুলে নির্যাতন ও ঘুষের চাপ দেওয়া হচ্ছে। আমি আমার ছেলের মুক্তি ও দোষীদের বিচার চাই।”

উল্লেখ্য, বরিশালের সাগরদী এলাকায় তানভির হোসেনের বাসায় ডাকাতির ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় মামলা হয়। পরিবার বলছে, সেই মামলায় নাসিরকে অন্যায়ভাবে জড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বরিশাল কোতয়ালী থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

এল নিনোর ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

পারিবারিক বিরোধে নিরীহ যুবককে ‘শয়তানের নিশ্বাস’ মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ

আপডেট সময় ০১:১৩:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

পটুয়াখালীতে পারিবারিক বিরোধের জেরে নিরীহ এক যুবককে ‘শয়তানের নিশ্বাস’ চক্রের মামলায় জড়িয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বরিশালে কর্মরত এস আই জাহিদুল ইসলাম ও পুলিশ কনস্টবল মোল্লা মাসুমের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গ্রেপ্তার ও মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের ঘুষ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পটুয়াখালী সদর উপজেলার মৌকরণ ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা গাজী নাসির (৩০)-আবদুর রহিম গাজীর ছেলেকে দুই মাস আগে বরিশালে দায়ের হওয়া একটি মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে গত ১৭ ডিসেম্বর র‌্যাব গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে বরিশাল কোতয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হলেও রহস্যজনকভাবে ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও আদালতে সোপর্দ করা হয়নি।

পরিবারের অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এস আই জাহিদুল ও কনস্টবল মোল্লা মাসুম তার সহকর্মী বরিশাল কোতয়ালী থানায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাইফুলের সঙ্গে যোগসাজশে নাসিরকে ‘শয়তানের নিশ্বাস’ চক্রের সদস্য হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করছেন। গ্রেপ্তারের পর পরিবারের কাছে দেড় লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয় এবং পরে আরও টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন এক পুলিশ কর্মকর্তাকে জানালে তদন্তকারী কর্মকর্তা এক লাখ টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন বলে পরিবারের দাবি।

গাজী নাসিরের বাবা আবদুর রহিম গাজী বলেন, “আমার ছেলে নির্দোষ। বরিশালের সাগরদী এলাকায় দুই মাস আগে হওয়া ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সিসিটিভি ফুটেজের চেহারা, পোশাক ও চলাফেরার সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। ঘটনার আগে-পরে দুই মাসেও সে বরিশালে যায়নি। তবু উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে ধরে এনে কোর্টে না তুলে নির্যাতন ও ঘুষের চাপ দেওয়া হচ্ছে। আমি আমার ছেলের মুক্তি ও দোষীদের বিচার চাই।”

উল্লেখ্য, বরিশালের সাগরদী এলাকায় তানভির হোসেনের বাসায় ডাকাতির ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় মামলা হয়। পরিবার বলছে, সেই মামলায় নাসিরকে অন্যায়ভাবে জড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বরিশাল কোতয়ালী থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।