ঢাকা ০২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ সমরের স্থান সংরক্ষণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতা: মৃত্যুদণ্ড শ্রীলঙ্কার সাবেক পুলিশপ্রধানের গ্যাসের দাম বাড়ালে আমরা পেট্রোবাংলা ঘেরাও করব: নাহিদ ইসলাম ‘বিশ্বকাপ ট্রফি’ বিক্রি করতে বাধ্য হলেন ফরাসি তারকা র‌্যাব-১ সদর দপ্তরের ‘আয়না ঘর’ পরিদর্শন করলেন ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা মধ্য দিয়া উদযাপন অফিসে বসেই মদ কেনার টাকা দেওয়ার অভিযোগ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের ভিডিও ভাইরাল নবাবগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রার নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ নীতি সুদহার কমিয়ে বিনিয়োগে জোর, মূল্যস্ফীতি নিয়ে শঙ্কা শিশুদের সু-স্বাস্থ্যে মায়ের দুধের বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বাবার সঙ্গে শেষ ফোনালাপে ‘টেনশনে’ থাকার কথা জানিয়েছিলেন রুমী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৭:২৯:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬৬৯ বার পড়া হয়েছে

জান্নাতারা রুমী, ছবি- সংগৃহীত

রাজধানীর জিগাতলায় একটি ছাত্রীনিবাস থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী জান্নাত আরা রুমীর (৩২) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের একটি ঘটনার জেরে গত এক মাস ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সাইবার বুলিং ও হত্যার হুমকির শিকার হয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন তিনি। বাবার সঙ্গে শেষ ফোনালাপেও তিনি ‘টেনশনে’ থাকার কথা জানিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে জিগাতলা পুরাতন কাঁচাবাজার রোড এলাকার ‘জান্নাতী ছাত্রী হোস্টেল’-এর পঞ্চম তলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত রুমীর বাবা জাকির হোসেন জানান, ধানমন্ডি থানার ওসির মাধ্যমে তিনি মেয়ের মৃত্যুর দুঃসংবাদ পান। এরপরই তিনি মেয়ের মরদেহ নিতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। তিনি বলেন, ‘‘গত ১৩ ডিসেম্বর মেয়ের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। তখন সে জানিয়েছিল, কোনো একটা বিষয় নিয়ে সে খুব টেনশনে আছে। তবে বিস্তারিত কিছু বলেনি।’’

তিনি আরও জানান, পাসপোর্ট করার জন্য রুমীর বাড়িতে আসার কথা ছিল। এছাড়া ফোনালাপে রুমী তাকে বাসায় রাখা একটি ব্যাংক চেক খুঁজে রাখতে বলেছিলেন।

হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

গত ১৪ নভেম্বর আওয়ামী লীগের ডাকা কর্মসূচির দিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া এক নারীকে মারধরের ঘটনায় রুমীর নাম আলোচনায় আসে। ওই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তিনি ক্রমাগত হুমকি ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছিলেন বলে দাবি করেছেন এনসিপির নেতারা।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, ইন্টারনেটে রুমীর পারিবারিক পরিচয়, গ্রামের বাড়ি ও বর্তমান ঠিকানা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। গত দুই মাস ধরে তিনি হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি পাচ্ছিলেন। এসব কারণে তিনি ‘ট্রমাটাইজড’ বা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। দলীয় কর্মসূচিতে আসলেও তাকে সবসময় বিমর্ষ দেখা যেত। রুমী এনসিপির ধানমন্ডি শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী ছিলেন।

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে লিখেন, ‘‘গত এক মাস ধরে আওয়ামী লীগের ক্রমাগত সাইবার বুলিং, হত্যা ও ধর্ষণের হুমকিতে অতিষ্ঠ হয়ে রুমী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। ধানমন্ডির সহযোদ্ধারা তার পাশে থাকার চেষ্টা করেছে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। বুলিংয়ের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে সে আত্মহননের পথ বেছে নেবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।’

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ সমরের স্থান সংরক্ষণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

বাবার সঙ্গে শেষ ফোনালাপে ‘টেনশনে’ থাকার কথা জানিয়েছিলেন রুমী

আপডেট সময় ০৭:২৯:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজধানীর জিগাতলায় একটি ছাত্রীনিবাস থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী জান্নাত আরা রুমীর (৩২) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের একটি ঘটনার জেরে গত এক মাস ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সাইবার বুলিং ও হত্যার হুমকির শিকার হয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন তিনি। বাবার সঙ্গে শেষ ফোনালাপেও তিনি ‘টেনশনে’ থাকার কথা জানিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে জিগাতলা পুরাতন কাঁচাবাজার রোড এলাকার ‘জান্নাতী ছাত্রী হোস্টেল’-এর পঞ্চম তলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত রুমীর বাবা জাকির হোসেন জানান, ধানমন্ডি থানার ওসির মাধ্যমে তিনি মেয়ের মৃত্যুর দুঃসংবাদ পান। এরপরই তিনি মেয়ের মরদেহ নিতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। তিনি বলেন, ‘‘গত ১৩ ডিসেম্বর মেয়ের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। তখন সে জানিয়েছিল, কোনো একটা বিষয় নিয়ে সে খুব টেনশনে আছে। তবে বিস্তারিত কিছু বলেনি।’’

তিনি আরও জানান, পাসপোর্ট করার জন্য রুমীর বাড়িতে আসার কথা ছিল। এছাড়া ফোনালাপে রুমী তাকে বাসায় রাখা একটি ব্যাংক চেক খুঁজে রাখতে বলেছিলেন।

হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

গত ১৪ নভেম্বর আওয়ামী লীগের ডাকা কর্মসূচির দিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া এক নারীকে মারধরের ঘটনায় রুমীর নাম আলোচনায় আসে। ওই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তিনি ক্রমাগত হুমকি ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছিলেন বলে দাবি করেছেন এনসিপির নেতারা।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, ইন্টারনেটে রুমীর পারিবারিক পরিচয়, গ্রামের বাড়ি ও বর্তমান ঠিকানা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। গত দুই মাস ধরে তিনি হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি পাচ্ছিলেন। এসব কারণে তিনি ‘ট্রমাটাইজড’ বা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। দলীয় কর্মসূচিতে আসলেও তাকে সবসময় বিমর্ষ দেখা যেত। রুমী এনসিপির ধানমন্ডি শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী ছিলেন।

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে লিখেন, ‘‘গত এক মাস ধরে আওয়ামী লীগের ক্রমাগত সাইবার বুলিং, হত্যা ও ধর্ষণের হুমকিতে অতিষ্ঠ হয়ে রুমী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। ধানমন্ডির সহযোদ্ধারা তার পাশে থাকার চেষ্টা করেছে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। বুলিংয়ের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে সে আত্মহননের পথ বেছে নেবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।’