রাঙ্গামাটির দুর্গম পাহাড়ি জনপদে তীব্র শীতে আর্তমানবতার সেবায় হাত বাড়িয়েছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। কিন্তু পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) হুমকির মুখে সেই মানবিক উদ্যোগ ভেস্তে গেছে। সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বাধার কারণে ত্রাণের জন্য নির্ধারিত স্থানে আসতে পারেনি সাধারণ মানুষ। ফলে শীতবস্ত্র ও শিক্ষা সামগ্রী থেকে বঞ্চিত হয়েছেন শতাধিক অসহায় পাহাড়ি নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল ৯টায় কাউখালী উপজেলার পানছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে পানছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, ঘিলাছড়ি এবং তালুকদার পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা ও শিক্ষা সামগ্রী এবং স্থানীয় শীতার্তদের জন্য শীতবস্ত্রসহ প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকার ত্রাণসামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে রাঙ্গামাটি সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. একরামুল রাহাত, মেজর মিনহাজুল আবেদীন, কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল খালেক এবং ঘাগড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাজিম উদ্দিনসহ স্থানীয় শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

কিন্তু স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ইউপিডিএফের সদস্যরা সাধারণ মানুষকে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নিষেধ করে এবং যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করে। সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ ঘর থেকে বের হতে সাহস পাননি। ফলে পুরো এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়ে এবং সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ত্রাণ বিতরণ না করেই ফিরে আসতে বাধ্য হন।
স্থানীয় সচেতন মহল এই ঘটনাকে ‘মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, পানছড়ি পাড়া, রাঙ্গীপাড়া এবং উল্টাপাড়া এলাকায় রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সাধারণের চলাচলে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছে ইউপিডিএফ। তাদের এই অপতৎপরতার কারণে দুর্গম এলাকার মানুষ আধুনিকতার ছোঁয়া ও উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে পড়ছে। ভেতরে চাপা ক্ষোভ থাকলেও প্রাণের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারছেন না।
আহমদ বিলাল খান, রাঙ্গামাটি 





















