ঢাকা ০৫:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্যান্টের নিচে কোটি টাকার সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক আটক কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর আগামী বছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই খাল খনন কর্মসূচি শেষ হবে: কৃষিমন্ত্রী আগস্ট মাসে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আরও একজোড়া ট্রেন চালু ঘোষণা কারিগরি শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী সুগার মিল সারা বছর উৎপাদনশীল করার চিন্তা সরকারের : রিজভী চীনের এআই জোটে যোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ নাগরিক দুর্ভোগ দূর করতে কুমিল্লায় সুজনের মানববন্ধন সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে শান্তির আহ্বান নেপালের প্রধানমন্ত্রীর ফ্যাসিবাদের ভয়াবহতার সাক্ষী ‘আয়নাঘরের’ দেয়াল : চিফ প্রসিকিউটর

ভেকুর নিচে প্রাণ গেল জুবায়েরের, কবর খুঁড়ে লাশের অপেক্ষায় পরিবার

‘ভাত খেয়ে আমরা দুজনে শুয়ে ছিলাম। মসজিদের মাইকে ঘোষণা এলো—পুকুর কাটবে, সবাই বাইরে বের হন। শুনেই সে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। হাত ধরে আটকাতে পারিনি জুবায়েরকে, তবুও চলে গেল।’

কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন আহাম্মেদ জুবায়েরের স্ত্রী মোহনা বেগম। পুকুর খননের সময় বাধা দিতে গিয়ে ভেকুর নিচে পড়ে (এক্সকাভেটর) মারা যান তার স্বামী। পরিবারের দাবি, ফসলি জমিতে পুকুর খননে বাধা দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

মোহনা বেগম বলেন, ‘আমি কতবার বলেছি যেও না। বলল, যাব আর একটু পরেই ফিরে আসব। কিছুক্ষণ পরেই খবর এলো আমার স্বামী মারা গেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামীর মরা মুখটাও দেখতে পাইনি। তার আগেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।’

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিহত জুবায়েরের বাড়ি থেকে মাত্র ২০ গজ দূরে কবর খনন হচ্ছে। স্থানীয় সাত-আটজন যুবক কবর খননের কাজ করছেন। চারপাশে ভেসে আসছিল স্বজনদের কান্নার রোল। নিহতের খবর পেয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়স্বজনরা বাড়িতে ছুটে এসেছেন। এখনো লাশ পাননি স্বজনেরা।

এ সময় নিহতের মা কোহিনুর বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে শেষবার কোনো কথা হয়নি। এখনো তার মরা মুখটা দেখতে পাইনি। শুনেছি লাশ থানায় আছে। এরপর রাজশাহী হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হবে, তারপর বাড়িতে আনা হবে।’

এর আগে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ধুরইল ইউনিয়নের বড় পালশা গ্রামে পুকুর খননের সময় এক্সকাভেটরের নিচে পড়ে আহাম্মেদ জুবায়েরের মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ ভেকু চালক আবদুল হামিদকে (২৮) আটক করে। তিনি টাঙ্গাইল জেলার কাদিমহামজানি উত্তরপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।

রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘ভেকুর বাকেটের আঘাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে নিহতের বাবা থানায় এসে মামলা করবেন। একজনকে আটক করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্যান্টের নিচে কোটি টাকার সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক আটক

ভেকুর নিচে প্রাণ গেল জুবায়েরের, কবর খুঁড়ে লাশের অপেক্ষায় পরিবার

আপডেট সময় ১২:৪৩:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

‘ভাত খেয়ে আমরা দুজনে শুয়ে ছিলাম। মসজিদের মাইকে ঘোষণা এলো—পুকুর কাটবে, সবাই বাইরে বের হন। শুনেই সে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। হাত ধরে আটকাতে পারিনি জুবায়েরকে, তবুও চলে গেল।’

কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন আহাম্মেদ জুবায়েরের স্ত্রী মোহনা বেগম। পুকুর খননের সময় বাধা দিতে গিয়ে ভেকুর নিচে পড়ে (এক্সকাভেটর) মারা যান তার স্বামী। পরিবারের দাবি, ফসলি জমিতে পুকুর খননে বাধা দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

মোহনা বেগম বলেন, ‘আমি কতবার বলেছি যেও না। বলল, যাব আর একটু পরেই ফিরে আসব। কিছুক্ষণ পরেই খবর এলো আমার স্বামী মারা গেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামীর মরা মুখটাও দেখতে পাইনি। তার আগেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।’

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিহত জুবায়েরের বাড়ি থেকে মাত্র ২০ গজ দূরে কবর খনন হচ্ছে। স্থানীয় সাত-আটজন যুবক কবর খননের কাজ করছেন। চারপাশে ভেসে আসছিল স্বজনদের কান্নার রোল। নিহতের খবর পেয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়স্বজনরা বাড়িতে ছুটে এসেছেন। এখনো লাশ পাননি স্বজনেরা।

এ সময় নিহতের মা কোহিনুর বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে শেষবার কোনো কথা হয়নি। এখনো তার মরা মুখটা দেখতে পাইনি। শুনেছি লাশ থানায় আছে। এরপর রাজশাহী হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হবে, তারপর বাড়িতে আনা হবে।’

এর আগে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ধুরইল ইউনিয়নের বড় পালশা গ্রামে পুকুর খননের সময় এক্সকাভেটরের নিচে পড়ে আহাম্মেদ জুবায়েরের মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ ভেকু চালক আবদুল হামিদকে (২৮) আটক করে। তিনি টাঙ্গাইল জেলার কাদিমহামজানি উত্তরপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।

রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘ভেকুর বাকেটের আঘাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে নিহতের বাবা থানায় এসে মামলা করবেন। একজনকে আটক করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’