সংবাদ শিরোনাম ::
ওসমান হাদিকে নিয়ে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে চিঠি গিলাতলা-কালীগঞ্জ সড়ক সংস্কার কাজ পরিদর্শনে কর্তৃপক্ষ, কাজের মান সন্তোষজনক নোরা ফাতেহির সঙ্গে নতুন গানে আবারও সঞ্জয় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের পথ সামনে খুলবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া-চীন সফর পররাষ্ট্রনীতির মানদণ্ড নিশ্চিত করেছে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে হোন্ডার ম্যাংগো ফেস্ট, উচ্চস্বরে মাইক বাজিয়ে পরিবেশ দূষণ আত্রাইয়ে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত আত্রাইয়ে নদী থেকে মানসিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশি খুন, গুরুতর আহত ১ সংসদ সদস্যের সময় চাওয়ায় স্পিকার বললেন বাকি চাহিয়া লজ্জা দেবেন না’

বনশ্রীর টেকাপাড়ায় রাজউকের নির্দেশ উপেক্ষিত: আলাউদ্দিন গংয়ের অবৈধ নির্মাণে ‘অদৃশ্য খুঁটি’

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০২:৫৫:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৮৩ বার পড়া হয়েছে

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বনশ্রী-মেরাদিয়া এলাকায় চলছে অবৈধ ভবন নির্মাণের মহোৎসব। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ার পর চার মাস আগে ইউটিলিটি (বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি) সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার দাপ্তরিক আদেশ দেওয়া হলেও রহস্যজনক কারণে তা কার্যকর হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, রাজউকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী মহলের ‘অদৃশ্য’ ইশারায় আলাউদ্দিন গং নামের একটি চক্র বহাল তবিয়তে এই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

রাজধানীর মেরাদিয়া কলার আড়ত সংলগ্ন টেকাপাড়া এলাকায় এই বিতর্কিত ভবনটি অবস্থিত। রাজউক সূত্রে জানা যায়, ভবনটি নির্মাণে মানা হয়নি অনুমোদিত নকশা ও বিধিমালা। বিষয়টি নজরে আসার পর রাজউকের পরিদর্শক দল তদন্ত করে অনিয়মের সত্যতা পায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ জুলাই ২০২৫ তারিখে রাজউক জোন-৬ (আবাসিক অঞ্চল-১)-এর দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থাগুলোর দপ্তরে একটি চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধ করতে ভবনটির বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, চিঠি ইস্যু করার চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ভবনের কোনো সংযোগই বিচ্ছিন্ন করা হয়নি। বরং প্রশাসনের চোখের সামনেই চলছে নির্মাণযজ্ঞ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজউকের তদন্তে অনিয়ম ধরা পড়ার পরও কাজ বন্ধ না হওয়া গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। তাদের দাবি, রাজউকেরই একটি অসাধু চক্রের যোগসাজশে এবং অদৃশ্য কোনো শক্তির প্রভাবে আলাউদ্দিন গং আইনকে তোয়াক্কা করছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী বলেন, “সরকারি আদেশ থাকার পরও যদি ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে বুঝতে হবে এর পেছনে বড় কোনো হাত রয়েছে।”

নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল বুধবার (৩ ডিসেম্বর ২০২৫) রাজউকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অথরাইজড অফিসার) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরা আবারও চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।” তবে গত চার মাসে কেন আগের চিঠির নির্দেশনা কার্যকর হলো না, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

নগর পরিকল্পনা আইন ও রাজউকের বিধিমালা লঙ্ঘন করে গড়ে ওঠা এই স্থাপনার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক এবং রাজউকের আদেশ বাস্তবায়নে গড়িমসির কারণ খতিয়ে দেখা হোক।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ওসমান হাদিকে নিয়ে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে চিঠি

বনশ্রীর টেকাপাড়ায় রাজউকের নির্দেশ উপেক্ষিত: আলাউদ্দিন গংয়ের অবৈধ নির্মাণে ‘অদৃশ্য খুঁটি’

আপডেট সময় ০২:৫৫:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বনশ্রী-মেরাদিয়া এলাকায় চলছে অবৈধ ভবন নির্মাণের মহোৎসব। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ার পর চার মাস আগে ইউটিলিটি (বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি) সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার দাপ্তরিক আদেশ দেওয়া হলেও রহস্যজনক কারণে তা কার্যকর হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, রাজউকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী মহলের ‘অদৃশ্য’ ইশারায় আলাউদ্দিন গং নামের একটি চক্র বহাল তবিয়তে এই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

রাজধানীর মেরাদিয়া কলার আড়ত সংলগ্ন টেকাপাড়া এলাকায় এই বিতর্কিত ভবনটি অবস্থিত। রাজউক সূত্রে জানা যায়, ভবনটি নির্মাণে মানা হয়নি অনুমোদিত নকশা ও বিধিমালা। বিষয়টি নজরে আসার পর রাজউকের পরিদর্শক দল তদন্ত করে অনিয়মের সত্যতা পায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ জুলাই ২০২৫ তারিখে রাজউক জোন-৬ (আবাসিক অঞ্চল-১)-এর দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থাগুলোর দপ্তরে একটি চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধ করতে ভবনটির বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, চিঠি ইস্যু করার চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ভবনের কোনো সংযোগই বিচ্ছিন্ন করা হয়নি। বরং প্রশাসনের চোখের সামনেই চলছে নির্মাণযজ্ঞ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজউকের তদন্তে অনিয়ম ধরা পড়ার পরও কাজ বন্ধ না হওয়া গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। তাদের দাবি, রাজউকেরই একটি অসাধু চক্রের যোগসাজশে এবং অদৃশ্য কোনো শক্তির প্রভাবে আলাউদ্দিন গং আইনকে তোয়াক্কা করছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী বলেন, “সরকারি আদেশ থাকার পরও যদি ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে বুঝতে হবে এর পেছনে বড় কোনো হাত রয়েছে।”

নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল বুধবার (৩ ডিসেম্বর ২০২৫) রাজউকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অথরাইজড অফিসার) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরা আবারও চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।” তবে গত চার মাসে কেন আগের চিঠির নির্দেশনা কার্যকর হলো না, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

নগর পরিকল্পনা আইন ও রাজউকের বিধিমালা লঙ্ঘন করে গড়ে ওঠা এই স্থাপনার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক এবং রাজউকের আদেশ বাস্তবায়নে গড়িমসির কারণ খতিয়ে দেখা হোক।