ঢাকা ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ‘ভুয়া ডিবি ও ডলার প্রতারক’ চক্রের ০১ জন সক্রীয় সদস্য গ্রেফতার। মনোহরগঞ্জে সন্ত্রাসী কায়দায় গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ পিএসএলের বাকি অংশে খেলা হচ্ছে না নাহিদ-মুস্তাফিজের কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অনিয়মকেই নিয়মে পরিনত করছেন মাদারীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার বেরোবিতে আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত আইইএলটিএস পরীক্ষা দিতে আসা তরুণীর লাশ মিলল হোটেলের বাথরুমে বড়লেখা উপজেলা পৌর ছাত্রদল ও বড়লেখা উপজেলা শাখার ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তনু হত্যায় গ্রেপ্তার হাফিজুরের ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ বিসিকের টেন্ডার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাশেদ! ঘোড়াশালে চাঁদাবাজ মহিউদ্দিনের দাপট, স্বাস্থ্যকেন্দ্র দখলের অভিযোগ

‎গাংনীতে সাব রেজিস্টার নাইমা ইসলাম দলিল ফাইলিং করার নামে সপ্তাহে ১ লক্ষ টাকা বাড়তি আয় করছে

মেহেরপুরের গাংনী সাব রেজিষ্ট্রি অফিস বর্তমানে অনিয়ম, দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। দলিল ফাইলিং করার নামে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাব রেজিষ্টার নাঈমা ইসলামের বিরুদ্ধে।
‎এছাড়াও নামজারি ছাড়া বন্টননামা দলিল রেজিস্ট্রি করছেন না, ফলে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ। জেলা রেজিষ্ট্রি অফিসে  ওয়ারিশ সূত্রের জমি রেজিস্ট্রি হলেও বন্ধ রয়েছে গাংনীতে।
‎অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতি সপ্তাহে নাঈমা ইসলামের বাড়তি আয় ১ লক্ষ টাকা। সাব রেজিষ্ট্রী  অফিসের দলিল লেখক ও অসাধু কর্মচারীরা ডিআর  মহোদয়ের অডিট ব্যয় ও নজরানা দেয়া ও দলিল ফাইলিং করার  নাম করে দলিল প্রতি ১ হাজার টাকা পর্যন্ত (দলিল ফিস) হাতিয়ে নিচ্ছেন যা সম্পূর্ণটাই নিয়ম বহির্ভূত।
‎গাংনী সাব রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী নার্গিস আক্তার গোপনে অনিয়মের মাধ্যমে দলিল ফাইলিং করার নামে অতিরিক্ত বাড়তি টাকা দীর্ঘদিন ধরে আদায় করে আসছেন।
‎এছাড়াও দলিলে স্বাক্ষর বা টিপসহি দিতে, মসজিদ উন্নয়নের নামে সরকারী রশিদ না দিয়ে  দলিল প্রতি  ১০০ টাকা করে নেয়া হয়। এতে করে সপ্তাহে মসজিদ উন্নয়নের নামেও প্রায় ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়ে থাকে।
‎মসজিদ উন্নয়নের নামে  টাকা আদায়ের দায়িত্বে রয়েছে অফিসের নাইট গার্ড মহিবুল ইসলাম। ওই টাকাগুলো সাব-রেজিষ্টার সহ সকল কর্মচারীরা ভাগ-বাটোয়ারা  করে থাকেন। সরকারি ভাবে দলিল ফাইলিং ফিস ৩৬০ টাকা। সেখানে নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার  টাকা, অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে  ৬৪০টাকা।
‎ভুক্তভোগী  উপজেলার কাজিপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি গাংনী উপজেলা সাব রেজিষ্টি অফিসে একটি দলিল রেজিষ্ট্রি করতে গেলে দলিল ফাইলিং খরচ, অফিস ফিস ৩৬০ টাকার পরিবর্তে এক হাজার টাকা নিয়েছেন। একই কথা জানালেন দেবীপুর গ্রামের চাঁদ আলীসহ একাধিক ব্যক্তি।
‎উপজেলার  ধর্মচাকী গ্রামের হুমায়ুন কবির জানান, জমি রেজিষ্ট্রি করতে দলিল প্রতি ১ হাজার টাকা ফাইলিং ফিস নিয়েছেন, শুনেছি সরকারি ফিস ৩৬০ টাকা কিন্তু আমার নিকট থেকে নিয়েছে ১ হাজার টাকা।
‎গাংনী দলিল লেখক সমিতির কয়েকজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে  জানান, সাব রেজিষ্ট্রার নাঈমা ইসলামের চাপে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৩৬০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার টাকা জমা নিয়ে ফিস হিসেবে সাব রেজিস্ট্রি অফিসে জমা দিয়ে থাকি। আর যদি এর থেকে টাকা কম দেওয়া হয় তাহলে আমাদের জমি রেজিষ্ট্রি করা হয় না।
‎অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি গোপন রাখার  নির্দেশনা দিয়েছে সাব রেজিষ্ট্রার নিজেই। বিষয়টি যার দ্বারা বাইরে প্রকাশ পাবে তার লাইসেন্স বাতিলেরও হুমকি দেয়া হয়েছে। দলিল লেখকরা আরও জানান, নাঈমা ইসলামের  র্নিদেশে ক্রেতা-বিক্রেতার কাছ থেকে দলিল প্রতি অতিরিক্ত ৬৪০ টাকা বেশি নিয়ে অফিসে জমা দিতে হয়।
‎প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ টি দলিল  রেজিষ্ট্রী করা হয়। যা থেকে সাব রেজিষ্টারের প্রতি সপ্তাহের বাড়তি আয় ৯০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা। এছাড়া ডিআর বছরে ৩/৪ বার অডিট করেন, তাই কিছু টাকা এদিক সেদিক করতে হয়। এইভাবে  নাঈমা ইসলাম দলিল প্রতি অতিরিক্ত বাড়তি টাকা নিয়ে সপ্তাহে লাখ টাকা আয় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
‎এব্যাপারে গাংনী উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার নাঈমা ইসলাম সাথে মোবাইল ফোনে অনেক বার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কল রিসিভ করেননি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ‘ভুয়া ডিবি ও ডলার প্রতারক’ চক্রের ০১ জন সক্রীয় সদস্য গ্রেফতার।

‎গাংনীতে সাব রেজিস্টার নাইমা ইসলাম দলিল ফাইলিং করার নামে সপ্তাহে ১ লক্ষ টাকা বাড়তি আয় করছে

আপডেট সময় ০৯:১৬:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

মেহেরপুরের গাংনী সাব রেজিষ্ট্রি অফিস বর্তমানে অনিয়ম, দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। দলিল ফাইলিং করার নামে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাব রেজিষ্টার নাঈমা ইসলামের বিরুদ্ধে।
‎এছাড়াও নামজারি ছাড়া বন্টননামা দলিল রেজিস্ট্রি করছেন না, ফলে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ। জেলা রেজিষ্ট্রি অফিসে  ওয়ারিশ সূত্রের জমি রেজিস্ট্রি হলেও বন্ধ রয়েছে গাংনীতে।
‎অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতি সপ্তাহে নাঈমা ইসলামের বাড়তি আয় ১ লক্ষ টাকা। সাব রেজিষ্ট্রী  অফিসের দলিল লেখক ও অসাধু কর্মচারীরা ডিআর  মহোদয়ের অডিট ব্যয় ও নজরানা দেয়া ও দলিল ফাইলিং করার  নাম করে দলিল প্রতি ১ হাজার টাকা পর্যন্ত (দলিল ফিস) হাতিয়ে নিচ্ছেন যা সম্পূর্ণটাই নিয়ম বহির্ভূত।
‎গাংনী সাব রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী নার্গিস আক্তার গোপনে অনিয়মের মাধ্যমে দলিল ফাইলিং করার নামে অতিরিক্ত বাড়তি টাকা দীর্ঘদিন ধরে আদায় করে আসছেন।
‎এছাড়াও দলিলে স্বাক্ষর বা টিপসহি দিতে, মসজিদ উন্নয়নের নামে সরকারী রশিদ না দিয়ে  দলিল প্রতি  ১০০ টাকা করে নেয়া হয়। এতে করে সপ্তাহে মসজিদ উন্নয়নের নামেও প্রায় ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়ে থাকে।
‎মসজিদ উন্নয়নের নামে  টাকা আদায়ের দায়িত্বে রয়েছে অফিসের নাইট গার্ড মহিবুল ইসলাম। ওই টাকাগুলো সাব-রেজিষ্টার সহ সকল কর্মচারীরা ভাগ-বাটোয়ারা  করে থাকেন। সরকারি ভাবে দলিল ফাইলিং ফিস ৩৬০ টাকা। সেখানে নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার  টাকা, অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে  ৬৪০টাকা।
‎ভুক্তভোগী  উপজেলার কাজিপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি গাংনী উপজেলা সাব রেজিষ্টি অফিসে একটি দলিল রেজিষ্ট্রি করতে গেলে দলিল ফাইলিং খরচ, অফিস ফিস ৩৬০ টাকার পরিবর্তে এক হাজার টাকা নিয়েছেন। একই কথা জানালেন দেবীপুর গ্রামের চাঁদ আলীসহ একাধিক ব্যক্তি।
‎উপজেলার  ধর্মচাকী গ্রামের হুমায়ুন কবির জানান, জমি রেজিষ্ট্রি করতে দলিল প্রতি ১ হাজার টাকা ফাইলিং ফিস নিয়েছেন, শুনেছি সরকারি ফিস ৩৬০ টাকা কিন্তু আমার নিকট থেকে নিয়েছে ১ হাজার টাকা।
‎গাংনী দলিল লেখক সমিতির কয়েকজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে  জানান, সাব রেজিষ্ট্রার নাঈমা ইসলামের চাপে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৩৬০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার টাকা জমা নিয়ে ফিস হিসেবে সাব রেজিস্ট্রি অফিসে জমা দিয়ে থাকি। আর যদি এর থেকে টাকা কম দেওয়া হয় তাহলে আমাদের জমি রেজিষ্ট্রি করা হয় না।
‎অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি গোপন রাখার  নির্দেশনা দিয়েছে সাব রেজিষ্ট্রার নিজেই। বিষয়টি যার দ্বারা বাইরে প্রকাশ পাবে তার লাইসেন্স বাতিলেরও হুমকি দেয়া হয়েছে। দলিল লেখকরা আরও জানান, নাঈমা ইসলামের  র্নিদেশে ক্রেতা-বিক্রেতার কাছ থেকে দলিল প্রতি অতিরিক্ত ৬৪০ টাকা বেশি নিয়ে অফিসে জমা দিতে হয়।
‎প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ টি দলিল  রেজিষ্ট্রী করা হয়। যা থেকে সাব রেজিষ্টারের প্রতি সপ্তাহের বাড়তি আয় ৯০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা। এছাড়া ডিআর বছরে ৩/৪ বার অডিট করেন, তাই কিছু টাকা এদিক সেদিক করতে হয়। এইভাবে  নাঈমা ইসলাম দলিল প্রতি অতিরিক্ত বাড়তি টাকা নিয়ে সপ্তাহে লাখ টাকা আয় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
‎এব্যাপারে গাংনী উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার নাঈমা ইসলাম সাথে মোবাইল ফোনে অনেক বার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কল রিসিভ করেননি।