ঢাকা ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ, তবুও বহাল অগ্রণী ব্যাংকের অভিযুক্ত কর্মকর্তারা বরিশালের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে দুর্নীতির অভিযোগের কেন্দ্রে উপ-পরিচালক ইয়াসমিন সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের হয়রানির অভিযোগ সার্জেন্ট আরিফের বিরুদ্ধে চাকরি ছেড়ে কোটিপতি হাবিবুর, মাদ্রাসা শিক্ষক থেকে মা’ন’বপা’চার চক্রের ডন রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত কিছু ছবি, হাজারো স্মৃতি—আমার জুলাই পবিপ্রবি’র পিজিএস কমিটির ৭৩ তম সভা অনুষ্ঠিত প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে ‘৩% দুলাল’ খ্যাত আহসানুজ্জামানের দুর্নীতি বসুন্দিয়া ভূমি অফিস এখন ঘুষের অভায়রণ্য! টাকা না দিলে ফাইল গায়েব

মাগুরায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আমন চাষ

আউশ ধান কাটা শেষ না হতেই মাগুরার শালিখার বিভিন্ন গ্রামে শুরু হয়েছে সরিষা চাষের তোড়জোড়। খেতের এক পাশে আমন ধানের শিষ দোলাচ্ছে, অন্য পাশে চলছে জমি প্রস্তুতের ব্যস্ততা। কৃষকরা বলছেন, এবার আমনের ফলন ভালো হয়েছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশা রয়েছে। তবে অনেক জায়গায় পাকা ধানের গাছ হেলে পড়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি শ্রমিক লাগছে ধান কাটার কাজে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ১৪ হাজার ৫৯১ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৪১ হেক্টর চেয়ে বেশি। আউশ চাষ হয়েছে ২ হাজার ৯৩৫ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫ হেক্টর বেশি। আউশে উফশি জাতের ধানে হেক্টরপ্রতি ফলন ৩.১ মেট্রিক টন এবং হাইব্রিড জাতের ধানে ৩.৭ মেট্রিক টন হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের আশা, আমনের উৎপাদনও এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। পাশাপাশি সরিষা চাষেও কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে, যা তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে সহায়ক হবে।

সরেজমিনে শালিখা উপজেলার আড়পাড়া, তালখড়ি, শতখালীসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, মাঠজুড়ে কাঁচা-পাকা ধানে ভরপুর ফসলের হাসি। কোথাও ধান কাটা চলছে, কোথাও আবার ধান শুকানো বা বিচুলি তৈরির কাজ। পাশের খালি জমিতে চলছে সরিষা বপন। আউশ ঘরে তুলে এখন সরিষা চাষে ব্যস্ত কৃষকরা—মাঠে মাঠে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আগাম জাতের সরিষা চাষেও আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের। এতে শীতের মধ্যে ভালো ফলন পাওয়া যায় এবং পরে বোরো চাষেরও সময় মেলে—বলছেন তারা।

তালখড়ি ইউনিয়নের ছান্দড়া গ্রামের কৃষক হারেজ বলেন, এবার আমন ধানে ভালো ফলন হয়েছে। আউশ কাটার পর জমি ফাঁকা রাখিনি, সরিষা বপন করছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে দুই ফসলেই ভালো লাভ হবে। আড়পাড়া ইউনিয়নের পুকুরিয়া গ্রামের চাষি নজরুল মোল্যা বলেন, এ বছর পাঁচ বিঘা জমিতে আমনের আবাদ করেছি। ফলন ভালো, তবে বাতাসে কিছু ধান গাছ হেলে পড়েছে, তাই কষ্ট একটু বেশি হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবুল হাসনাত বলেন, ফসলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সুষম সার ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি উপকারী ও ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে আশা করছি, এ বছর আমনে ভালো ফলন হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ, তবুও বহাল অগ্রণী ব্যাংকের অভিযুক্ত কর্মকর্তারা

মাগুরায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আমন চাষ

আপডেট সময় ১১:২৩:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

আউশ ধান কাটা শেষ না হতেই মাগুরার শালিখার বিভিন্ন গ্রামে শুরু হয়েছে সরিষা চাষের তোড়জোড়। খেতের এক পাশে আমন ধানের শিষ দোলাচ্ছে, অন্য পাশে চলছে জমি প্রস্তুতের ব্যস্ততা। কৃষকরা বলছেন, এবার আমনের ফলন ভালো হয়েছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশা রয়েছে। তবে অনেক জায়গায় পাকা ধানের গাছ হেলে পড়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি শ্রমিক লাগছে ধান কাটার কাজে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ১৪ হাজার ৫৯১ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৪১ হেক্টর চেয়ে বেশি। আউশ চাষ হয়েছে ২ হাজার ৯৩৫ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫ হেক্টর বেশি। আউশে উফশি জাতের ধানে হেক্টরপ্রতি ফলন ৩.১ মেট্রিক টন এবং হাইব্রিড জাতের ধানে ৩.৭ মেট্রিক টন হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের আশা, আমনের উৎপাদনও এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। পাশাপাশি সরিষা চাষেও কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে, যা তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে সহায়ক হবে।

সরেজমিনে শালিখা উপজেলার আড়পাড়া, তালখড়ি, শতখালীসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, মাঠজুড়ে কাঁচা-পাকা ধানে ভরপুর ফসলের হাসি। কোথাও ধান কাটা চলছে, কোথাও আবার ধান শুকানো বা বিচুলি তৈরির কাজ। পাশের খালি জমিতে চলছে সরিষা বপন। আউশ ঘরে তুলে এখন সরিষা চাষে ব্যস্ত কৃষকরা—মাঠে মাঠে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আগাম জাতের সরিষা চাষেও আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের। এতে শীতের মধ্যে ভালো ফলন পাওয়া যায় এবং পরে বোরো চাষেরও সময় মেলে—বলছেন তারা।

তালখড়ি ইউনিয়নের ছান্দড়া গ্রামের কৃষক হারেজ বলেন, এবার আমন ধানে ভালো ফলন হয়েছে। আউশ কাটার পর জমি ফাঁকা রাখিনি, সরিষা বপন করছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে দুই ফসলেই ভালো লাভ হবে। আড়পাড়া ইউনিয়নের পুকুরিয়া গ্রামের চাষি নজরুল মোল্যা বলেন, এ বছর পাঁচ বিঘা জমিতে আমনের আবাদ করেছি। ফলন ভালো, তবে বাতাসে কিছু ধান গাছ হেলে পড়েছে, তাই কষ্ট একটু বেশি হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবুল হাসনাত বলেন, ফসলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সুষম সার ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি উপকারী ও ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে আশা করছি, এ বছর আমনে ভালো ফলন হবে।