ঢাকা ০৪:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চেয়ারম্যান-এমডির দুর্নীতিতে সঙ্কটে আইএফআইসি ব্যাংক নবাবগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রার নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ পবিপ্রবিতে জুলাই শহীদ যোদ্ধা ও আহতদের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিআরটিএতে গোপন তথ্য পাচারের সিন্ডিকেট এডি ইমরানের রেলের প্রকৌশলী সামছ তুষারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পপুলার লাইফের গ্রাহকরা দাবির টাকা পাচ্ছে না নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে ‘৩% দুলাল’ খ্যাত আহসানুজ্জামানের দুর্নীতি ২২ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে তরিকুল ইসলামের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের দাবি মো. আলমগীর কবীরকে ঘিরে নৌনিরাপত্তা বিভাগে অনিয়ম পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুর রহমানের দুর্নীতি

পাকা কলা ঘুষ নেওয়া জেলা পরিষদের সেই আলমগীর বরখাস্ত

  • যশোর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৮:০২:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৯৯ বার পড়া হয়েছে

যশোরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আয়োজিত গণশুনানিতে ঘুষ না নিয়ে পাকা কলা খাওয়ার কথা স্বীকার করা জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারী আলমগীর হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার (৫ নভেম্বর) জেলা পরিষদ তার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়।

এর আগে গত ২৬ অক্টোবর গণশুনানিতে দুদক চেয়ারম্যান তাকে তাৎক্ষণিক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন যশোর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম শাহীন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৬ অক্টোবর যশোরে দুদকের গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন ও কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী।

গণশুনানিতে বাগআঁচড়া এলাকার বাসিন্দা আনোয়ারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, জেলা পরিষদের দোকান বরাদ্দের নামে উচ্চমান সহকারী আলমগীর হোসেন তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন এবং আরও ৬ লাখ টাকা দাবি করেছেন। ঘুষ না দেওয়ায় দোকানের ডিসিআর রশিদ ফেরত নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগের জবাবে আলমগীর হোসেন দাবি করেন, তিনি ঘুষ নেননি। আনোয়ারুল ইসলাম তার ছেলের বিয়েতে দাওয়াত দিয়েছিলেন, তাই দাওয়াতে গিয়েছিলেন। সেখানেই তাকে পাকা কলা খাওয়ানো হয়। তিনি শুধু কলা খেয়েছেন। এ সময় শুনানিতে উপস্থিতদের মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু অভিযোগ ওঠে। পরে দুদক চেয়ারম্যান দোকান বরাদ্দের নামে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে তাকে তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন এবং অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম শাহীনকে। এ সময় তিনিও উপস্থিত ছিলেন।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, দোকান বরাদ্দে ঘুষ গ্রহণ ছাড়াও ডিসিআর প্রদান নিয়ে আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। দুদক চেয়ারম্যান ২৬ অক্টোবর তাকে বরখাস্তের নির্দেশ দিলেও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ৫ নভেম্বর তার বরখাস্ত কার্যকর করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে আলমগীর হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।
যশোর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম শাহীন বলেন, উচ্চমান সহকারী আলমগীর হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ছুটিতে থাকায় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লেগেছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতিও চলছে। মামলা দায়েরের পর তদন্ত শুরু হবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চেয়ারম্যান-এমডির দুর্নীতিতে সঙ্কটে আইএফআইসি ব্যাংক

পাকা কলা ঘুষ নেওয়া জেলা পরিষদের সেই আলমগীর বরখাস্ত

আপডেট সময় ০৮:০২:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

যশোরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আয়োজিত গণশুনানিতে ঘুষ না নিয়ে পাকা কলা খাওয়ার কথা স্বীকার করা জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারী আলমগীর হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার (৫ নভেম্বর) জেলা পরিষদ তার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়।

এর আগে গত ২৬ অক্টোবর গণশুনানিতে দুদক চেয়ারম্যান তাকে তাৎক্ষণিক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন যশোর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম শাহীন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৬ অক্টোবর যশোরে দুদকের গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন ও কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী।

গণশুনানিতে বাগআঁচড়া এলাকার বাসিন্দা আনোয়ারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, জেলা পরিষদের দোকান বরাদ্দের নামে উচ্চমান সহকারী আলমগীর হোসেন তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন এবং আরও ৬ লাখ টাকা দাবি করেছেন। ঘুষ না দেওয়ায় দোকানের ডিসিআর রশিদ ফেরত নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগের জবাবে আলমগীর হোসেন দাবি করেন, তিনি ঘুষ নেননি। আনোয়ারুল ইসলাম তার ছেলের বিয়েতে দাওয়াত দিয়েছিলেন, তাই দাওয়াতে গিয়েছিলেন। সেখানেই তাকে পাকা কলা খাওয়ানো হয়। তিনি শুধু কলা খেয়েছেন। এ সময় শুনানিতে উপস্থিতদের মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু অভিযোগ ওঠে। পরে দুদক চেয়ারম্যান দোকান বরাদ্দের নামে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে তাকে তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন এবং অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম শাহীনকে। এ সময় তিনিও উপস্থিত ছিলেন।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, দোকান বরাদ্দে ঘুষ গ্রহণ ছাড়াও ডিসিআর প্রদান নিয়ে আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। দুদক চেয়ারম্যান ২৬ অক্টোবর তাকে বরখাস্তের নির্দেশ দিলেও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ৫ নভেম্বর তার বরখাস্ত কার্যকর করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে আলমগীর হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।
যশোর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম শাহীন বলেন, উচ্চমান সহকারী আলমগীর হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ছুটিতে থাকায় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লেগেছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতিও চলছে। মামলা দায়েরের পর তদন্ত শুরু হবে।