ঢাকা ০৬:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চলন্ত অটোরিকশা থেকে নারীর আর্তনাদ, জনতার হাতে চালক ধরা

সিএনজিচালিত চলন্ত অটোরিকশার ভেতর থেকে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে নারীর চিৎকার ভেসে আসে। শুনে সড়কের লোকজন অটোরিকশাটিকে ধাওয়া করে। প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ধরা পড়ে যানটির চালক। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই নারী ও অভিযুক্ত অপহরণকারীকে থানায় নিয়ে যায়।

ঘটনাটি ঘটেছে আজ বুধবার (৫ নভেম্বর) সকালে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের কাছে নান্দাইল-আঠাবাড়ি সড়কের চণ্ডীপাশা এলাকায়। অভিযুক্ত চালকের নাম মো. আলমগীর হোসেন (৩৫)। তিনি নেত্রকানার কেন্দুয়া উপজেলার কালিয়ান গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে। জানা গেছে, অটোরিকশাচালক আলমগীর বিবাহিত।

সম্প্রতি মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে সম্পর্ক হয় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মেয়ে মুক্তা বেগম (২২)-এর। তবে সম্পর্ক চলমান অবস্থায়ই পরিবারের পছন্দে অন্যত্র বিয়ে হয়ে যায় মুক্তার। মুক্তার বড় বোন মীম জানান, তাঁর বোন (মুক্তা) সাতদিন সংসারের পর ফিরতি নাউরে বাবার বাড়ি এলে বেড়ানোর কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পরিবার জানতে পারে প্রেমিক আলমগীরের হাত ধরে বর্তমানে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন।

আজ বুধবার সকালে আলমগীরের সন্ধান পান মীম। তার কাছে মুক্তা কোথায় জানতে চাইলে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নান্দাইল থানার সামনে থেকে তাকে জোর করে অটোরিকশায় তুলে দ্রুতবেগে চলে যাচ্ছিলেন আলমগীর। পরে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের নান্দাইল নতুনবাজার কলেজগেটের সামনে স্পিডব্রেকারের কাছে আসতেই চিৎকার শুরু করেন মীম। এ সময় পথচারীরা বিষয়টি টের পেয়ে যানটিকে ধাওয়া করে একপর্যায়ে চালক আলমগীরকে আটক করতে সক্ষম হন। মীম বলেন, ‘আমাকে ধরে সিএনজিতে উঠানোর সময় আলমগীর উচ্চৈস্বরে বলতে থাকেন, পাশের আঠারবাড়ি নিয়ে আমাকে শেষ করে দেবেন। এই আতঙ্কে চিৎকার দিতে থাকি।’ এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আলমগীর বলেন, ‘আমি মুক্তাকে বিয়ে করেছি। সংসারও করছি। এরপরও মীম ও তার বাবা মিলে আমাকে মারধর করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মীমকে আমার সিএনজিতে উঠাই। অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।’ নান্দাইল থানার উপপরিদর্শক সরোজ মিয়া বলেন, জনতার হাত থেকে আলমগীরকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। এখন ওই নারীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চলন্ত অটোরিকশা থেকে নারীর আর্তনাদ, জনতার হাতে চালক ধরা

আপডেট সময় ০৪:৪০:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

সিএনজিচালিত চলন্ত অটোরিকশার ভেতর থেকে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে নারীর চিৎকার ভেসে আসে। শুনে সড়কের লোকজন অটোরিকশাটিকে ধাওয়া করে। প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ধরা পড়ে যানটির চালক। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই নারী ও অভিযুক্ত অপহরণকারীকে থানায় নিয়ে যায়।

ঘটনাটি ঘটেছে আজ বুধবার (৫ নভেম্বর) সকালে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের কাছে নান্দাইল-আঠাবাড়ি সড়কের চণ্ডীপাশা এলাকায়। অভিযুক্ত চালকের নাম মো. আলমগীর হোসেন (৩৫)। তিনি নেত্রকানার কেন্দুয়া উপজেলার কালিয়ান গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে। জানা গেছে, অটোরিকশাচালক আলমগীর বিবাহিত।

সম্প্রতি মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে সম্পর্ক হয় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মেয়ে মুক্তা বেগম (২২)-এর। তবে সম্পর্ক চলমান অবস্থায়ই পরিবারের পছন্দে অন্যত্র বিয়ে হয়ে যায় মুক্তার। মুক্তার বড় বোন মীম জানান, তাঁর বোন (মুক্তা) সাতদিন সংসারের পর ফিরতি নাউরে বাবার বাড়ি এলে বেড়ানোর কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পরিবার জানতে পারে প্রেমিক আলমগীরের হাত ধরে বর্তমানে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন।

আজ বুধবার সকালে আলমগীরের সন্ধান পান মীম। তার কাছে মুক্তা কোথায় জানতে চাইলে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নান্দাইল থানার সামনে থেকে তাকে জোর করে অটোরিকশায় তুলে দ্রুতবেগে চলে যাচ্ছিলেন আলমগীর। পরে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের নান্দাইল নতুনবাজার কলেজগেটের সামনে স্পিডব্রেকারের কাছে আসতেই চিৎকার শুরু করেন মীম। এ সময় পথচারীরা বিষয়টি টের পেয়ে যানটিকে ধাওয়া করে একপর্যায়ে চালক আলমগীরকে আটক করতে সক্ষম হন। মীম বলেন, ‘আমাকে ধরে সিএনজিতে উঠানোর সময় আলমগীর উচ্চৈস্বরে বলতে থাকেন, পাশের আঠারবাড়ি নিয়ে আমাকে শেষ করে দেবেন। এই আতঙ্কে চিৎকার দিতে থাকি।’ এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আলমগীর বলেন, ‘আমি মুক্তাকে বিয়ে করেছি। সংসারও করছি। এরপরও মীম ও তার বাবা মিলে আমাকে মারধর করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মীমকে আমার সিএনজিতে উঠাই। অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।’ নান্দাইল থানার উপপরিদর্শক সরোজ মিয়া বলেন, জনতার হাত থেকে আলমগীরকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। এখন ওই নারীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।