সংবাদ শিরোনাম ::

শতবর্ষী কারাগার নতুন করে উদ্বোধন: ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত বন্দিরা

ফেনীতে শতবর্ষের অধিক পুরাতন কারাগার উদ্বোধন করা হয়েছে নতুন করে। শহরের মাস্টারপাড়ায় অবস্থিত কারাগারটি ‘কারাগার-২’ হিসেবে আজ(শনিবার) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন জেল সুপার মো: দিদারুল আলম। এর মাধ্যমে শুরু হলো ফেনী জেলার দ্বিতীয় কারাগারের কার্যক্রম। বিভিন্ন জেলা কারাগার থেকে স্থানান্তরিত আগত আসামীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জেল সুপার।
চট্টগ্রাম বিভাগের পাচঁটি জেলা কারাগার থেকে এই জেলে সাজাপ্রাপ্ত মোট ১৮০ জন বন্দিকে পর্যায়ক্রমে স্থানান্তর করা হবে এই কারাগারে। বন্দিদের আজ এবং আগামিকালের মধ্যে স্থানান্তর নিশ্চিত করা হবে বলে জানান কারা কর্তৃপক্ষ।

কারা সুত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচটি জেলা কারাগার থেকে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং দায়রা জর্জ আদালতে বিচারাধীন বন্দিদের মধ্যে ফেনী কারাগার থেকে ২১ জন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ২৬ জন, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৭৪ জন, নোয়াখালী কারাগার থেকে ১৫ জন, লক্ষ্মীপুর কারাগার থেকে ১১ জন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগার থেকে ৩৩ জন বন্দিকে ফেনী কারাগার-২ এ স্থানান্তর করা হবে। কারাগারকে সুশৃঙ্খলও নিরাপদ রাখতে এরই মধ্যে ‘ফেনী কারাগার-২’ এ ১৯ পদে মোট ৮৮ জন জনবলের মধ্যে ৭০ জন নিয়োগ হয়েছেন। বাকিরা প্রশিক্ষণ শেষে যোগদান করবেন।

জেল সুপার মো. দিদারুল আলম বলেন, পাঁচ জেলা কারাগার থেকে মাদকসহ বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ১৮০ জন বন্দিকে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এর মধ্যে ফেনীর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন বন্দিদের মধ্যে ফেনী কারাগার-১ থেকে ২১ জনকে আনা হবে। বন্দিদের থাকার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শুধু কারাগারের চারপাশের দেয়াল সাড়ে তিন ফুট পর্যন্ত উঁচু করা ও কাঁটাতার লাগানোসহ কিছু কাজ বরাদ্দ পেলে পরবর্তীতে সম্পন্ন করা হবে। এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের অধীনে সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বন্দিদের খাবার প্রস্তুতের জন্য কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে রান্নার কাজে অভিজ্ঞ ২৪ জন বন্দিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনীতে আনা হয়েছে। আমরা এখানের বন্দিদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ কওে তুলবো এবং এটি একটি সংশোনাগারে রুপান্তরিত হবে। সুপার যোগ করেন।

প্রসঙ্গত, শহরের মাস্টার পাড়ায় মাত্র দেড় একর জায়গার ওপর ১৯১৫ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উপ-কারাগার হিসেবে প্রাথমিক যাত্রা শুরু কওে কারাগারটি। ১৭০ জন পুরুষ ও ২ জন নারী সদস্য বন্দি ছিলো তখন। পরে ১৯৯৮ সালে উপ-কারাগার থেকে এটি জেলা কারাগারে উন্নীত হয়। তবে জেলা কারাগারে উন্নীত হলেও তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা ছিল না সেখানে। শত বছরের পুরনো অবকাঠামোর কারণে গাদাগাদি করে শোয়া, থাকা-খাওয়া, গোসলসহ নানা সমস্যায় বন্দিদেও দূর্ভোগ ছিলো চরমে।
১৯৯৬ সালে শহরতলির কাজীরবাগ মৌজায় সাড়ে সাত একর জায়গায় ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন জেলা কারাগার নির্মাণ করা হয়। সেখানে মোট ২৮টি ভবন নির্মিত হয়। নতুন ওই কারাগারে বন্দি ধারণক্ষমতা ৩৯২ জন। ২০১৯ সালের ১২ জানুয়ারি সেখানে বন্দি স্থানান্তর করা হয়।

তর জন্য কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে রান্নার কাজে অভিজ্ঞ ২৪ জন বন্দিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনীতে আনা হয়েছে। আমরা এখানের বন্দিদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ কওে তুলবো এবং এটি একটি সংশোনাগারে রুপান্তরিত হবে। সুপার যোগ করেন।

প্রসঙ্গত, শহরের মাস্টার পাড়ায় মাত্র দেড় একর জায়গার ওপর ১৯১৫ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উপ-কারাগার হিসেবে প্রাথমিক যাত্রা শুরু কওে কারাগারটি। ১৭০ জন পুরুষ ও ২ জন নারী সদস্য বন্দি ছিলো তখন। পরে ১৯৯৮ সালে উপ-কারাগার থেকে এটি জেলা কারাগারে উন্নীত হয়। তবে জেলা কারাগারে উন্নীত হলেও তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা ছিল না সেখানে। শত বছরের পুরনো অবকাঠামোর কারণে গাদাগাদি করে শোয়া, থাকা-খাওয়া, গোসলসহ নানা সমস্যায় বন্দিদেও দূর্ভোগ ছিলো চরমে।

১৯৯৬ সালে শহরতলির কাজীরবাগ মৌজায় সাড়ে সাত একর জায়গায় ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন জেলা কারাগার নির্মাণ করা হয়। সেখানে মোট ২৮টি ভবন নির্মিত হয়। নতুন ওই কারাগারে বন্দি ধারণক্ষমতা ৩৯২ জন। ২০১৯ সালের ১২ জানুয়ারি সেখানে বন্দি স্থানান্তর করা হয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিরোধী দলের আসনে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থে‌কে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ

শতবর্ষী কারাগার নতুন করে উদ্বোধন: ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত বন্দিরা

আপডেট সময় ১০:০২:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

ফেনীতে শতবর্ষের অধিক পুরাতন কারাগার উদ্বোধন করা হয়েছে নতুন করে। শহরের মাস্টারপাড়ায় অবস্থিত কারাগারটি ‘কারাগার-২’ হিসেবে আজ(শনিবার) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন জেল সুপার মো: দিদারুল আলম। এর মাধ্যমে শুরু হলো ফেনী জেলার দ্বিতীয় কারাগারের কার্যক্রম। বিভিন্ন জেলা কারাগার থেকে স্থানান্তরিত আগত আসামীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জেল সুপার।
চট্টগ্রাম বিভাগের পাচঁটি জেলা কারাগার থেকে এই জেলে সাজাপ্রাপ্ত মোট ১৮০ জন বন্দিকে পর্যায়ক্রমে স্থানান্তর করা হবে এই কারাগারে। বন্দিদের আজ এবং আগামিকালের মধ্যে স্থানান্তর নিশ্চিত করা হবে বলে জানান কারা কর্তৃপক্ষ।

কারা সুত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচটি জেলা কারাগার থেকে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং দায়রা জর্জ আদালতে বিচারাধীন বন্দিদের মধ্যে ফেনী কারাগার থেকে ২১ জন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ২৬ জন, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৭৪ জন, নোয়াখালী কারাগার থেকে ১৫ জন, লক্ষ্মীপুর কারাগার থেকে ১১ জন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগার থেকে ৩৩ জন বন্দিকে ফেনী কারাগার-২ এ স্থানান্তর করা হবে। কারাগারকে সুশৃঙ্খলও নিরাপদ রাখতে এরই মধ্যে ‘ফেনী কারাগার-২’ এ ১৯ পদে মোট ৮৮ জন জনবলের মধ্যে ৭০ জন নিয়োগ হয়েছেন। বাকিরা প্রশিক্ষণ শেষে যোগদান করবেন।

জেল সুপার মো. দিদারুল আলম বলেন, পাঁচ জেলা কারাগার থেকে মাদকসহ বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ১৮০ জন বন্দিকে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এর মধ্যে ফেনীর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন বন্দিদের মধ্যে ফেনী কারাগার-১ থেকে ২১ জনকে আনা হবে। বন্দিদের থাকার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শুধু কারাগারের চারপাশের দেয়াল সাড়ে তিন ফুট পর্যন্ত উঁচু করা ও কাঁটাতার লাগানোসহ কিছু কাজ বরাদ্দ পেলে পরবর্তীতে সম্পন্ন করা হবে। এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের অধীনে সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বন্দিদের খাবার প্রস্তুতের জন্য কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে রান্নার কাজে অভিজ্ঞ ২৪ জন বন্দিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনীতে আনা হয়েছে। আমরা এখানের বন্দিদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ কওে তুলবো এবং এটি একটি সংশোনাগারে রুপান্তরিত হবে। সুপার যোগ করেন।

প্রসঙ্গত, শহরের মাস্টার পাড়ায় মাত্র দেড় একর জায়গার ওপর ১৯১৫ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উপ-কারাগার হিসেবে প্রাথমিক যাত্রা শুরু কওে কারাগারটি। ১৭০ জন পুরুষ ও ২ জন নারী সদস্য বন্দি ছিলো তখন। পরে ১৯৯৮ সালে উপ-কারাগার থেকে এটি জেলা কারাগারে উন্নীত হয়। তবে জেলা কারাগারে উন্নীত হলেও তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা ছিল না সেখানে। শত বছরের পুরনো অবকাঠামোর কারণে গাদাগাদি করে শোয়া, থাকা-খাওয়া, গোসলসহ নানা সমস্যায় বন্দিদেও দূর্ভোগ ছিলো চরমে।
১৯৯৬ সালে শহরতলির কাজীরবাগ মৌজায় সাড়ে সাত একর জায়গায় ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন জেলা কারাগার নির্মাণ করা হয়। সেখানে মোট ২৮টি ভবন নির্মিত হয়। নতুন ওই কারাগারে বন্দি ধারণক্ষমতা ৩৯২ জন। ২০১৯ সালের ১২ জানুয়ারি সেখানে বন্দি স্থানান্তর করা হয়।

তর জন্য কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে রান্নার কাজে অভিজ্ঞ ২৪ জন বন্দিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনীতে আনা হয়েছে। আমরা এখানের বন্দিদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ কওে তুলবো এবং এটি একটি সংশোনাগারে রুপান্তরিত হবে। সুপার যোগ করেন।

প্রসঙ্গত, শহরের মাস্টার পাড়ায় মাত্র দেড় একর জায়গার ওপর ১৯১৫ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উপ-কারাগার হিসেবে প্রাথমিক যাত্রা শুরু কওে কারাগারটি। ১৭০ জন পুরুষ ও ২ জন নারী সদস্য বন্দি ছিলো তখন। পরে ১৯৯৮ সালে উপ-কারাগার থেকে এটি জেলা কারাগারে উন্নীত হয়। তবে জেলা কারাগারে উন্নীত হলেও তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা ছিল না সেখানে। শত বছরের পুরনো অবকাঠামোর কারণে গাদাগাদি করে শোয়া, থাকা-খাওয়া, গোসলসহ নানা সমস্যায় বন্দিদেও দূর্ভোগ ছিলো চরমে।

১৯৯৬ সালে শহরতলির কাজীরবাগ মৌজায় সাড়ে সাত একর জায়গায় ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন জেলা কারাগার নির্মাণ করা হয়। সেখানে মোট ২৮টি ভবন নির্মিত হয়। নতুন ওই কারাগারে বন্দি ধারণক্ষমতা ৩৯২ জন। ২০১৯ সালের ১২ জানুয়ারি সেখানে বন্দি স্থানান্তর করা হয়।