ঢাকা ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে : সারজিস আলম যাদের কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা উপদেষ্টা হয়েছিল : পার্থ ভারতে যাওয়ার সময় কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার হাসিনা কোনো বক্তব্য দিলে দায় নেবে না ভারত: রণধীর জয়সওয়াল আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই সংবিধান সংশোধন করা হবে : চিফ হুইপ জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী ‘তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে ২৮ দিনের সন্তান নিয়ে উধাও গৃহবধূ

বাংলাদেশ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য বিজেপি নেতার, তৃণমূলের ক্ষোভ

‌‘বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কোনও বেড়া থাকবে না’, বলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের বিজেপি দলীয় সংসদ সদস্য জগন্নাথ সরকার যে মন্তব্য করেছিলেন তার তীব্র সমালোচনা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও লোকসভার সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার রাজ্যের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের এই সাধারণ সম্পাদক বিজেপি সাংসদের মন্তব্যকে ভণ্ডামি বলে আখ্যায়িত করেছেন।

পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার রানাঘাটের সংসদ সদস্য জগন্নাথ সরকার সম্প্রতি এক সভায় বলেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে আর কাঁটাতারের বেড়া থাকবে না। বিজেপি নেতার এমন মন্তব্যের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, জগন্নাথ সরকারের এই বক্তব্য বিজেপির ভণ্ডামিকে নতুন গভীরতায় নামিয়ে এনেছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের এই সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ভারত ও বাংলাদেশ এক হয়ে যাবে বলে জগন্নাথ সরকারের দেওয়া এই প্রকাশ্য ঘোষণা, তাদেরই সেই অভিযোগের পরিপন্থী, যেখানে তারা রাজ্যের সরকারকে সীমান্ত সুরক্ষায় সহযোগিতা না করার দায় দেয়। অভিষেক লিখেছেন, ‘‘অন্যদিকে একই বিজেপি সরকার—যার মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও অন্তর্ভুক্ত—অভিযোগ করে যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার সীমান্ত ‘রক্ষার’ জন্য জমি দেয় না, অথচ তাদের নিজেদের সাংসদই তো সেই সীমান্ত মুছে দিতে চাইছেন!’’ তিনি বলেন, ‘‘যদি সত্যিই বিজেপি জাতীয় ঐক্যে বিশ্বাস করে, তাহলে অবিলম্বে জগন্নাথ সরকারকে দল থেকে বরখাস্ত করা উচিত। তাদের নীরবতা প্রমাণ করবে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মতিতেই এই কথা বলা হয়েছে। এটা দেশপ্রেম নয়; প্রতারণা।

তৃণমূলের এই নেতা বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে ‘এসআইআরের’ এক ভাঁওতাবাজির আড়ালে বিভ্রান্ত ও অপমান করা বিজেপির নতুন রাজনীতি; যা ভণ্ডামি ও বিশ্বাসঘাতকতার এক বিপজ্জনক সংমিশ্রণ! তাদের নিজেদের কথাই প্রমাণ করছে কে আসলে বাংলাকে ধোঁকা দিচ্ছে।’’ চলতি সপ্তাহে জগন্নাথ সরকারের বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তিনি বলেন, আমরা এই পবিত্র অঙ্গীকার করছি যে, এবার বিজেপি জিতলে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যে কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে, তা আর থাকবে না। দুই দেশ আবার এক হয়ে যাবে।’’

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য বিজেপি নেতার, তৃণমূলের ক্ষোভ

আপডেট সময় ০৮:১৭:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

‌‘বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কোনও বেড়া থাকবে না’, বলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের বিজেপি দলীয় সংসদ সদস্য জগন্নাথ সরকার যে মন্তব্য করেছিলেন তার তীব্র সমালোচনা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও লোকসভার সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার রাজ্যের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের এই সাধারণ সম্পাদক বিজেপি সাংসদের মন্তব্যকে ভণ্ডামি বলে আখ্যায়িত করেছেন।

পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার রানাঘাটের সংসদ সদস্য জগন্নাথ সরকার সম্প্রতি এক সভায় বলেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে আর কাঁটাতারের বেড়া থাকবে না। বিজেপি নেতার এমন মন্তব্যের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, জগন্নাথ সরকারের এই বক্তব্য বিজেপির ভণ্ডামিকে নতুন গভীরতায় নামিয়ে এনেছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের এই সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ভারত ও বাংলাদেশ এক হয়ে যাবে বলে জগন্নাথ সরকারের দেওয়া এই প্রকাশ্য ঘোষণা, তাদেরই সেই অভিযোগের পরিপন্থী, যেখানে তারা রাজ্যের সরকারকে সীমান্ত সুরক্ষায় সহযোগিতা না করার দায় দেয়। অভিষেক লিখেছেন, ‘‘অন্যদিকে একই বিজেপি সরকার—যার মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও অন্তর্ভুক্ত—অভিযোগ করে যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার সীমান্ত ‘রক্ষার’ জন্য জমি দেয় না, অথচ তাদের নিজেদের সাংসদই তো সেই সীমান্ত মুছে দিতে চাইছেন!’’ তিনি বলেন, ‘‘যদি সত্যিই বিজেপি জাতীয় ঐক্যে বিশ্বাস করে, তাহলে অবিলম্বে জগন্নাথ সরকারকে দল থেকে বরখাস্ত করা উচিত। তাদের নীরবতা প্রমাণ করবে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মতিতেই এই কথা বলা হয়েছে। এটা দেশপ্রেম নয়; প্রতারণা।

তৃণমূলের এই নেতা বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে ‘এসআইআরের’ এক ভাঁওতাবাজির আড়ালে বিভ্রান্ত ও অপমান করা বিজেপির নতুন রাজনীতি; যা ভণ্ডামি ও বিশ্বাসঘাতকতার এক বিপজ্জনক সংমিশ্রণ! তাদের নিজেদের কথাই প্রমাণ করছে কে আসলে বাংলাকে ধোঁকা দিচ্ছে।’’ চলতি সপ্তাহে জগন্নাথ সরকারের বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তিনি বলেন, আমরা এই পবিত্র অঙ্গীকার করছি যে, এবার বিজেপি জিতলে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যে কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে, তা আর থাকবে না। দুই দেশ আবার এক হয়ে যাবে।’’