সংবাদ শিরোনাম ::
সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী
আত্মসাৎ হওয়া ৪ হাজার কোটি টাকা ফেরতের দাবি

অফিস-আদালত, বাড়িঘর ও বাজার-বন্দর— কোথাও গিয়ে বাঁচতে পারছি না

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের টাকা উদ্ধার এবং সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও সাবেক পরিচালক এম এ খালেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কোম্পানিটির কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা।

রোববার (২৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন হয়েছে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধারের দাবিতে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন দুদকে।

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের গাজীপুর অফিসের ইনচার্জ এজিএম মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, সাবেক চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীরা কোম্পানি থেকে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে আত্মসাৎ করেছেন। আমি ফারইস্টে ১৮ বছর ধরে চাকরি করি। গ্রাহকের টাকা ম্যাচিউর্ড হয়েছে, কিন্তু দিতে পারছি না। সব টাকা সাবেক চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীরা লুটপাট করে নিয়েছেন। গ্রাহকরা এখন আমাদেরকে অফিস-আদালত, বাড়িঘর ও বাজার-বন্দর, এমনকি মসজিদসহ যেখানে পায়, সেখানেই টাকার জন্য ধরে। আমরা কোথাও গিয়ে বাঁচতে পারছি না। আজকে চার বছর ধরে গ্রাহকদের টাকা দিতে পারছি না, তাদের পলিসির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরও। আর আমরা যারা কোম্পানিতে চাকরিরত আছি, গত কয়েক বছর ধরে কোনো ধরনের বেতন পাচ্ছি না। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম বড় একটি বীমা কোম্পানি এটি। গত ২০১৯ সালে সরকারকে ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ট্যাক্স দিয়েছি, তারপরও সরকার এখন আমাদের এই দুর্দশা দেখেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এ সময় তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, কোম্পানি থেকে যে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে, সেগুলো ফেরত দিতে হবে। এছাড়া এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিচার করতে হবে। আমরা প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কর্মী ভুক্তভোগী। এছাড়া, অনেক কর্মীকে বিনা কারণে ছাঁটাই করা হয়েছে।

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের টঙ্গী জোনের জোনাল ইনচার্জ আখতার হোসেন বাবু বলেন,‌ কোম্পানির অর্থ আত্মসাৎ করে তারা শিল্প-কারখানা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সম্পত্তি করেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রজেক্টের নামে কোম্পানি থেকে টাকা সরিয়ে আত্মসাৎ করেছে। প্রায় তিন বছর ধরে আমরা কোনো বেতন পাচ্ছি না। যেসব গ্রাহক আছে, তাদের টাকাও দিতে পারছি না। ফলে নতুন করে গ্রাহকরা পলিসি গ্রহণ করছে না, এতে করে আমরা কমিশনও পাচ্ছি না। সব মিলিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি, পরিবার নিয়ে চলতে পারছি না।

অভিযোগকারীরা বলেন, ২০০০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত গ্রাহকদের অবদানে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের তহবিলে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা জমা হয়। কিন্তু সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও সাবেক পরিচালক এম এ খালেক কোম্পানিতে নিজেদের লোক বসিয়ে ‘ভুয়া খরচ, কাগুজে বিনিয়োগ ও ম্যানেজমেন্টের কারসাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন’।

তারা অভিযোগ করে আরও বলেন, সেই অর্থের বড় একটি অংশ ‘বিদেশে পাচার করা হয়েছে’। এর ফলে প্রায় ৪০ লাখ গ্রাহক তাদের প্রাপ্য অর্থ না পেয়ে প্রতিদিন অফিসে গিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন। এর আগে গত ২৩ অক্টোবর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে নজরুল ইসলামকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। গত ৩১ জুলাই দুদকের উপপরিচালক সৈয়দ আতাউল কবির বাদী হয়ে নজরুল ইসলামসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা ঢাকার তোপখানা রোডের একটি জমি ও স্থাপনা অনিয়মের মাধ্যমে ২০৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকায় কেনাবেচা করেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত

আত্মসাৎ হওয়া ৪ হাজার কোটি টাকা ফেরতের দাবি

অফিস-আদালত, বাড়িঘর ও বাজার-বন্দর— কোথাও গিয়ে বাঁচতে পারছি না

আপডেট সময় ০৫:৩৪:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের টাকা উদ্ধার এবং সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও সাবেক পরিচালক এম এ খালেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কোম্পানিটির কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা।

রোববার (২৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন হয়েছে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধারের দাবিতে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন দুদকে।

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের গাজীপুর অফিসের ইনচার্জ এজিএম মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, সাবেক চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীরা কোম্পানি থেকে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে আত্মসাৎ করেছেন। আমি ফারইস্টে ১৮ বছর ধরে চাকরি করি। গ্রাহকের টাকা ম্যাচিউর্ড হয়েছে, কিন্তু দিতে পারছি না। সব টাকা সাবেক চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীরা লুটপাট করে নিয়েছেন। গ্রাহকরা এখন আমাদেরকে অফিস-আদালত, বাড়িঘর ও বাজার-বন্দর, এমনকি মসজিদসহ যেখানে পায়, সেখানেই টাকার জন্য ধরে। আমরা কোথাও গিয়ে বাঁচতে পারছি না। আজকে চার বছর ধরে গ্রাহকদের টাকা দিতে পারছি না, তাদের পলিসির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরও। আর আমরা যারা কোম্পানিতে চাকরিরত আছি, গত কয়েক বছর ধরে কোনো ধরনের বেতন পাচ্ছি না। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম বড় একটি বীমা কোম্পানি এটি। গত ২০১৯ সালে সরকারকে ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ট্যাক্স দিয়েছি, তারপরও সরকার এখন আমাদের এই দুর্দশা দেখেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এ সময় তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, কোম্পানি থেকে যে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে, সেগুলো ফেরত দিতে হবে। এছাড়া এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিচার করতে হবে। আমরা প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কর্মী ভুক্তভোগী। এছাড়া, অনেক কর্মীকে বিনা কারণে ছাঁটাই করা হয়েছে।

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের টঙ্গী জোনের জোনাল ইনচার্জ আখতার হোসেন বাবু বলেন,‌ কোম্পানির অর্থ আত্মসাৎ করে তারা শিল্প-কারখানা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সম্পত্তি করেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রজেক্টের নামে কোম্পানি থেকে টাকা সরিয়ে আত্মসাৎ করেছে। প্রায় তিন বছর ধরে আমরা কোনো বেতন পাচ্ছি না। যেসব গ্রাহক আছে, তাদের টাকাও দিতে পারছি না। ফলে নতুন করে গ্রাহকরা পলিসি গ্রহণ করছে না, এতে করে আমরা কমিশনও পাচ্ছি না। সব মিলিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি, পরিবার নিয়ে চলতে পারছি না।

অভিযোগকারীরা বলেন, ২০০০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত গ্রাহকদের অবদানে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের তহবিলে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা জমা হয়। কিন্তু সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও সাবেক পরিচালক এম এ খালেক কোম্পানিতে নিজেদের লোক বসিয়ে ‘ভুয়া খরচ, কাগুজে বিনিয়োগ ও ম্যানেজমেন্টের কারসাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন’।

তারা অভিযোগ করে আরও বলেন, সেই অর্থের বড় একটি অংশ ‘বিদেশে পাচার করা হয়েছে’। এর ফলে প্রায় ৪০ লাখ গ্রাহক তাদের প্রাপ্য অর্থ না পেয়ে প্রতিদিন অফিসে গিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন। এর আগে গত ২৩ অক্টোবর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে নজরুল ইসলামকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। গত ৩১ জুলাই দুদকের উপপরিচালক সৈয়দ আতাউল কবির বাদী হয়ে নজরুল ইসলামসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা ঢাকার তোপখানা রোডের একটি জমি ও স্থাপনা অনিয়মের মাধ্যমে ২০৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকায় কেনাবেচা করেন।